আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া; ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। আন্দোলনের শুরু, সরকার পতনের দিকে মোড় নেওয়া, ডিবি হেফাজতের অভিজ্ঞতা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকা স্ট্রিম।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

স্ট্রিম: ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: ২০১৮ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই বিষয়টি আবার সামনে আসে। হাইকোর্টের রায়ে কোটা পুনর্বহাল হওয়ার পর আমরা মনে করি, এটি বৈষম্য তৈরি করছে। শুরুতে আমাদের দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার। ঈদের ছুটির পর জুলাইয়ের শুরু থেকে আন্দোলন তীব্র হয় এবং পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
স্ট্রিম: তখন কি মনে হয়েছিল আন্দোলন সরকার পতনের দিকে যাবে?
আসিফ মাহমুদ: শুরুতে না। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অনেকের মধ্যেই দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল—সুযোগ তৈরি হলে আন্দোলনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নেওয়া যেতে পারে।
স্ট্রিম: আন্দোলনের নেতৃত্বকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছিল। আপনি কীভাবে দেখেন?
আসিফ মাহমুদ: এগুলো রাজনৈতিক প্রচারণা। আমরা কেউ গোপন ছিলাম না। ছাত্ররাজনীতি, মানবাধিকার ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে আগে থেকেই সক্রিয় ছিলাম। আমাদের পরিচয়, অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবই প্রকাশ্য ছিল।
স্ট্রিম: ইন্টারনেট বন্ধ ও গ্রেপ্তারের পর আন্দোলনের সমন্বয় কীভাবে চলেছে?
আসিফ মাহমুদ: আমরা শুরু থেকেই নেতৃত্বকে ব্যক্তি নির্ভর না করে সমন্বয়ভিত্তিক রাখার চেষ্টা করেছি। অনেকেই গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কেরা আন্দোলনের দায়িত্ব নেন। এ কারণেই আন্দোলন থেমে যায়নি।
স্ট্রিম: ডিবি হেফাজতে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন?
আসিফ মাহমুদ: আমাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা হয়। বলা হয়েছিল ভিডিও দিলে মুক্তি দেওয়া হবে, কিন্তু তা হয়নি। পরিবারের ওপরও চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাইরে মানুষ সেই বক্তব্য বিশ্বাস করেনি।
স্ট্রিম: আন্দোলন কীভাবে সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হলো?
আসিফ মাহমুদ: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আমরা স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অভিভাবকদের আহ্বান জানাই। পরে শ্রমজীবী মানুষও যুক্ত হন। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন মানুষের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের লং মার্চ এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: প্রথম পরিকল্পনা ছিল ৬ আগস্ট। পরে খবর পাই, সরকার সময় নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আবার ইন্টারনেট বন্ধ হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে আলোচনা করে ৫ আগস্ট লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঝুঁকি ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়।
স্ট্রিম: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম কীভাবে সামনে আসে?
আসিফ মাহমুদ: এক দফা ঘোষণার পরই আমরা ভাবতে শুরু করি, সরকার পতনের পর নেতৃত্ব কে দেবেন। বিভিন্নজনের সঙ্গে আলোচনা করে ড. ইউনূসের নামই সবচেয়ে বেশি আসে। তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলার পর তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
স্ট্রিম: আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হওয়াকে এখন কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আসিফ মাহমুদ: তখনকার বাস্তবতায় মনে হয়েছিল সরকারের ভেতরে থেকে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে সরকার প্রয়োজনীয় সাহস দেখাতে পারেনি। এখন মনে হয়, বিকল্প কিছু পথও বিবেচনায় নেওয়া যেত।
স্ট্রিম: গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
আসিফ মাহমুদ: শুধু একটি সরকারের পতন নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তার সবটা এখনো পূরণ হয়নি। সেই কাজ এখনও অসমাপ্ত।
স্ট্রিম: এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আসিফ মাহমুদ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দলের জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। তবু অল্প সময়ের মধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এবং উল্লেখযোগ্য ভোট অর্জন আমাদের জন্য ইতিবাচক। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা কতটা দক্ষতার সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি।
(সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক হাসান মামুন)

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া; ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। আন্দোলনের শুরু, সরকার পতনের দিকে মোড় নেওয়া, ডিবি হেফাজতের অভিজ্ঞতা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকা স্ট্রিম।
.png)
স্ট্রিম: ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: ২০১৮ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই বিষয়টি আবার সামনে আসে। হাইকোর্টের রায়ে কোটা পুনর্বহাল হওয়ার পর আমরা মনে করি, এটি বৈষম্য তৈরি করছে। শুরুতে আমাদের দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার। ঈদের ছুটির পর জুলাইয়ের শুরু থেকে আন্দোলন তীব্র হয় এবং পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
স্ট্রিম: তখন কি মনে হয়েছিল আন্দোলন সরকার পতনের দিকে যাবে?
আসিফ মাহমুদ: শুরুতে না। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অনেকের মধ্যেই দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল—সুযোগ তৈরি হলে আন্দোলনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নেওয়া যেতে পারে।
স্ট্রিম: আন্দোলনের নেতৃত্বকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছিল। আপনি কীভাবে দেখেন?
আসিফ মাহমুদ: এগুলো রাজনৈতিক প্রচারণা। আমরা কেউ গোপন ছিলাম না। ছাত্ররাজনীতি, মানবাধিকার ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে আগে থেকেই সক্রিয় ছিলাম। আমাদের পরিচয়, অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবই প্রকাশ্য ছিল।
স্ট্রিম: ইন্টারনেট বন্ধ ও গ্রেপ্তারের পর আন্দোলনের সমন্বয় কীভাবে চলেছে?
আসিফ মাহমুদ: আমরা শুরু থেকেই নেতৃত্বকে ব্যক্তি নির্ভর না করে সমন্বয়ভিত্তিক রাখার চেষ্টা করেছি। অনেকেই গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দ্বিতীয় সারির সমন্বয়কেরা আন্দোলনের দায়িত্ব নেন। এ কারণেই আন্দোলন থেমে যায়নি।
স্ট্রিম: ডিবি হেফাজতে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন?
আসিফ মাহমুদ: আমাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা হয়। বলা হয়েছিল ভিডিও দিলে মুক্তি দেওয়া হবে, কিন্তু তা হয়নি। পরিবারের ওপরও চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাইরে মানুষ সেই বক্তব্য বিশ্বাস করেনি।
স্ট্রিম: আন্দোলন কীভাবে সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হলো?
আসিফ মাহমুদ: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আমরা স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অভিভাবকদের আহ্বান জানাই। পরে শ্রমজীবী মানুষও যুক্ত হন। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন মানুষের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে।
স্ট্রিম: ৫ আগস্টের লং মার্চ এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: প্রথম পরিকল্পনা ছিল ৬ আগস্ট। পরে খবর পাই, সরকার সময় নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আবার ইন্টারনেট বন্ধ হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে আলোচনা করে ৫ আগস্ট লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঝুঁকি ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়।
স্ট্রিম: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম কীভাবে সামনে আসে?
আসিফ মাহমুদ: এক দফা ঘোষণার পরই আমরা ভাবতে শুরু করি, সরকার পতনের পর নেতৃত্ব কে দেবেন। বিভিন্নজনের সঙ্গে আলোচনা করে ড. ইউনূসের নামই সবচেয়ে বেশি আসে। তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলার পর তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
স্ট্রিম: আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হওয়াকে এখন কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আসিফ মাহমুদ: তখনকার বাস্তবতায় মনে হয়েছিল সরকারের ভেতরে থেকে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে সরকার প্রয়োজনীয় সাহস দেখাতে পারেনি। এখন মনে হয়, বিকল্প কিছু পথও বিবেচনায় নেওয়া যেত।
স্ট্রিম: গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
আসিফ মাহমুদ: শুধু একটি সরকারের পতন নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে বিচার, সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তার সবটা এখনো পূরণ হয়নি। সেই কাজ এখনও অসমাপ্ত।
স্ট্রিম: এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আসিফ মাহমুদ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দলের জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। তবু অল্প সময়ের মধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এবং উল্লেখযোগ্য ভোট অর্জন আমাদের জন্য ইতিবাচক। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা কতটা দক্ষতার সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি।
(সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা স্ট্রিমের পরামর্শক সম্পাদক হাসান মামুন)
.png)
.png)

এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার সংকট। এই সংকটকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক। দেশীয় আস্থার সংকট মূলত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এখনো সন্দিহান।
১২ আগস্ট ২০২৬
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত ছিল ৫ আগস্টের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি। এর পেছনের পটভূমি এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নানা বিষয় নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সাক্ষাৎকার নিয়
০৪ আগস্ট ২০২৬
আমাদের মোট আর্থিক ব্যবস্থার ৯০ শতাংশের বেশিই ব্যাংকনির্ভর। বাকি ১০ শতাংশের কম জুড়ে রয়েছে শেয়ারবাজার, বিমা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, এমন একটি ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলোকে ভালো অবস্থানে না নিতে পারলে নিশ্চিতভাবেই দেশের পুরো আর্থিক কার্যক্রমই স্থবির হয়ে পড়বে।
৩১ জুলাই ২০২৬
নেতৃত্বকে জানতে হবে কীভাবে কাজ আদায় করে নিতে হয়। গৃহকর্ত্রীকে যেমন জানতে হয় গৃহকর্মীর কাছ থেকে কীভাবে কাজ আদায় করতে হবে, ঠিক তেমনি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও জানতে হবে আমলাদের দিয়ে কীভাবে নীতি বাস্তবায়ন করতে হয়। সরকারে যদি দলীয়, অযোগ্য বা অপদার্থ লোক বসানো হয়, তারা কোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে না।
২৪ জুলাই ২০২৬