জামালপুর শহরে দুদিন জ্বলেনি চুলা, ফিলিং স্টেশনে লাইনে দিন-রাত চালকেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জামালপুর

জামালপুরে গ্যাস পাওয়ার আসায় অপেক্ষারত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি। ছবি: স্ট্রিম

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর। গ্যাসের আশায় জামালপুর শহরের জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি অটোরিকশার চালকরা। কেউ স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে, কেউ পাম্পের প্রাঙ্গণে শুয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

ময়মনসিংহ থেকে রোগী নিয়ে জামালপুরে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক আফজাল মিয়ার গাড়িতে ফেরার মতো গ্যাস নেই। কখন গ্যাস মিলবে, তা জানেন না তিনি।

জামালপুরে গ্যাসের সংকট এবার তীব্র আকার নিয়েছে। জেলার কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ না থাকলেও শহরের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বেশির ভাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে দুই দিন বাসাবাড়িতে রান্না হয়নি। অনেকে চড়া দামে হোটেল থেকে খাবার কিনেছেন। কেউ এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেছেন।

জামালপুরে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ও বিপুলসংখ্যক গ্যাসচালিত যানবাহন চলাচল করে। পুরো জেলায় গ্যাস নেওয়ার একমাত্র ভরসা জাবেদ ফিলিং স্টেশন। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় সেখানে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। পাম্পের সামনে অপেক্ষারত চালক বাঁধন মিয়া বলেন, ময়মনসিংহ থেকে রোগী নিয়ে জামালপুরে আসার পর গাড়িতে ফেরার মতো গ্যাস নেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গ্যাসের আশায় পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন তিনি।

শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি চালক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোর চারটার বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। এখনো পাম্পের লাইনে বসে আছি। গাড়ি রাস্তায় রেখে তো আর বাড়িতে যাওয়া যাবে না। এখন দুপুর হয়ে গেল, এক টাকাও আয় করতে পারলাম না, উল্টো দেড়শো টাকা খরচ হয়ে গেছে।

আরেক চালক জসিম উদ্দিন বলেন, সারাদিন বসে থাকায় পরিবার চালানো ও কিস্তির টাকা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা ও গ্যাসের সংকটের কারণে কিছু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩০ টাকার ভাড়ার জায়গায় ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।

শহরের বাইপাস মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজু নামে এক যাত্রী বলেন, গ্যাসের দোহাই দিয়ে চালকেরা ভাড়া বাড়তি নিচ্ছে। আজ গাড়িও অনেক কম দেখা যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমাদের পকেটের বাড়তি টাকা খসাতে হচ্ছে।

গ্যাস না থাকায় শহরের বাসাবাড়িতেও দুর্ভোগ বেড়েছে। চামড়াগুদাম এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাস না থাকলেও সন্ধ্যার পর এসেছিল। শুক্রবার সকালেও গ্যাস ছিল না। আগে থেকে মাইকিং করে জানানো হলে তারা প্রস্তুতি নিতে পারতেন।

জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিক রহমান বাবর বলেন, সারা দেশেই গ্যাসের সংকট চলছে। গ্রিড থেকে যতটুকু গ্যাস পাওয়া যায়, তা দ্রুত গ্রাহকদের দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাম্পের যন্ত্রে কোনো ত্রুটি নেই।

জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ম্যানেজার দুর্জয় খকসী বলেন, জামালপুরে তিতাস গ্যাসের মাসিক চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনমিটার। মূল সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় এ সংকট হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

জামালপুর শহরে দুদিন জ্বলেনি চুলা, ফিলিং স্টেশনে লাইনে দিন-রাত চালকেরা