স্ট্রিম সম্পাদকীয়

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শক্তিশালী বিনিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিনিয়োগে খরা চলছে। এটা হঠাৎ শুরু হয়েছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই বিনিয়োগে নাজুক পরিস্থিতি ছিল। তখন যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হতো, সেটির সঙ্গে বিনিয়োগ পরিস্থিতির সংযোগ ছিল না বলেও অর্থনীতিবিদদের ধারণা। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর ধারণা জন্মেছিল, এবার হয়তো মানুষ বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। বিদেশি বিনিয়োগেও আশার সঞ্চার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়াতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা জোরালো হয়। তবে নানা কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার বাস্তবায়ন হয়নি। মবসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এর বড় কারণ ছিল বলেই অনুমান।
বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি পেশকৃত জাতীয় বাজেট ঘিরে। বাজেটের নানা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এটিকে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাজেটে ভালো কিছু প্রস্তাব থাকলেই হবে না; সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বিনিয়োগে আস্থা ফেরার বিষয়টি। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা নতুন করে উচ্চারণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিডা আয়োজিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশনপ্রধান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বোঝাই যাচ্ছে, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এর আয়োজন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারও একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেটা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কারণ তখনও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল নানা অনিশ্চয়তা।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের পর সবাই ধারণা করেছিল, এবার দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগেই উল্লম্ফন হবে। গত কয়েক মাসে সেটি হয়নি। এর বড় কারণ বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা সহজীকরণসহ যেসব বিষয় জরুরি, তার অনুপস্থিতি। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ক্ষেত্রেও দেখা দেয় অস্থিরতা। দেশে জ্বালানির সন্তোষজনক মজুদও অনুপস্থিত। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে না। পাশাপাশি চাঁদাবাজিসহ কিছু বিষয় বিনিয়োগ না বাড়ার কারণ। এর অন্যতম হলো লজিস্টিক সেবা সহজলভ্য না থাকা। তবে বাজেট ঘোষণার পর বিনিয়োগের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এর যৌক্তিক কারণও আছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বাজেটে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আগামী পাঁচ বছর করকাঠামো কেমন হবে, সে সংক্রান্ত ঘোষণা। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এমন নীতির ধারাবাহিকতা ও কর সংক্রান্ত অগ্রিম ঘোষণা উদ্যোক্তাদের মনে আস্থা তৈরি করে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ অমূলক নয়। তবে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় বিশেষভাবে জরুরি।
বিনিয়োগের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে বলেও আমাদের বিশ্বাস।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শক্তিশালী বিনিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিনিয়োগে খরা চলছে। এটা হঠাৎ শুরু হয়েছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই বিনিয়োগে নাজুক পরিস্থিতি ছিল। তখন যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হতো, সেটির সঙ্গে বিনিয়োগ পরিস্থিতির সংযোগ ছিল না বলেও অর্থনীতিবিদদের ধারণা। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর ধারণা জন্মেছিল, এবার হয়তো মানুষ বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। বিদেশি বিনিয়োগেও আশার সঞ্চার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়াতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা জোরালো হয়। তবে নানা কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার বাস্তবায়ন হয়নি। মবসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এর বড় কারণ ছিল বলেই অনুমান।
বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি পেশকৃত জাতীয় বাজেট ঘিরে। বাজেটের নানা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এটিকে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাজেটে ভালো কিছু প্রস্তাব থাকলেই হবে না; সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বিনিয়োগে আস্থা ফেরার বিষয়টি। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা নতুন করে উচ্চারণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিডা আয়োজিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশনপ্রধান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বোঝাই যাচ্ছে, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এর আয়োজন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারও একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেটা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কারণ তখনও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল নানা অনিশ্চয়তা।
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের পর সবাই ধারণা করেছিল, এবার দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগেই উল্লম্ফন হবে। গত কয়েক মাসে সেটি হয়নি। এর বড় কারণ বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা সহজীকরণসহ যেসব বিষয় জরুরি, তার অনুপস্থিতি। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ক্ষেত্রেও দেখা দেয় অস্থিরতা। দেশে জ্বালানির সন্তোষজনক মজুদও অনুপস্থিত। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে না। পাশাপাশি চাঁদাবাজিসহ কিছু বিষয় বিনিয়োগ না বাড়ার কারণ। এর অন্যতম হলো লজিস্টিক সেবা সহজলভ্য না থাকা। তবে বাজেট ঘোষণার পর বিনিয়োগের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এর যৌক্তিক কারণও আছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বাজেটে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আগামী পাঁচ বছর করকাঠামো কেমন হবে, সে সংক্রান্ত ঘোষণা। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এমন নীতির ধারাবাহিকতা ও কর সংক্রান্ত অগ্রিম ঘোষণা উদ্যোক্তাদের মনে আস্থা তৈরি করে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ অমূলক নয়। তবে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় বিশেষভাবে জরুরি।
বিনিয়োগের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে বলেও আমাদের বিশ্বাস।

বাংলাদেশের ঘরে, আঙিনায়, রাস্তায় এখন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা উড়ছে। গলিতে গলিতে বড় পর্দায় রাত জেগে খেলা দেখার আয়োজন। চায়ের দোকানে মেসি, নেইমার, ভিনিসিউসকে নিয়ে আলোচনার ঝড়। এ সবকিছুর মধ্যে আমার মাথায় একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরে আসে—এই ভিড়ে নারীরা কতটা আছেন? আর যদি না-ই থাকেন, তাহলে কেন নেই?
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের মিয়ানমারনীতি নিয়ে কথা উঠলে সাধারণত রোহিঙ্গা সংকটের কথাই সামনে আসে। তবে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন শুধু রোহিঙ্গা নয়, সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখেও পড়ছেন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা।
৫ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে রক্তক্ষয়ী ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—তিন দেশে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪।
৮ ঘণ্টা আগে