সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাটি দেশের শ্রম খাতের এক ভয়াবহ ও রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর দেশে-বিদেশে যে অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ তৈরি হয়েছিল, তখন একটি প্রতিশ্রুতি খুব জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছিল— 'নেভার এগেইন' বা এমন ট্র্যাজেডি আর কখনো ঘটবে না।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দুর্ঘটনা থামেনি। বরং জাহাজভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ এবং দুর্ঘটনা এখন যেন হাত ধরাধরি করে চলছে। এই দুর্ঘটনাগুলো কেন থামছে না, তার গভীরে আমরা কেউ প্রবেশ করছি না। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এর পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ ও কাঠামোগত দুর্বলতা চোখে পড়ে।
প্রথমত, যেকোনো শিল্পকারখানা বা কর্মক্ষেত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিদর্শনের চরম ঘাটতি। নিয়ম অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রম দপ্তরের সমন্বয়ে একটি যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে তবেই কাজ শুরুর অনুমোদন দেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রতিটি দপ্তর থেকে আলাদাভাবে বিচ্ছিন্ন উপায়ে ছাড়পত্র নেওয়া হয়। ফলে একটি কারখানার কাঠামোগত ত্রুটিগুলো আড়ালেই থেকে যায় এবং বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিহীনতা ও বিচারহীনতার এক ভয়াবহ সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির নজির নেই। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্টরা এসব দুর্ঘটনাকে কোনো অপরাধ বা নিছক অবহেলা বলেও মনে করেন না।
তৃতীয়ত, আমাদের দেশে শ্রমিকের জীবনের মূল্য বা ক্ষতিপূরণ অত্যন্ত সামান্য। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এত বেশি থাকে যে, মালিকপক্ষ আর্থিক জরিমানার ভয়েই কারখানার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু আমাদের এখানে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ মাত্র দুই লাখ টাকা! এই সামান্য অর্থের জন্য মালিকপক্ষ যেমন ভয় পায় না, তেমনি অবকাঠামোগত পরিবর্তনেরও কোনো তাগিদ অনুভব করে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আইনের দুর্বলতা। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র চার বছর, যা ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কারও হয়েছে বলে জানা যায় না।
চতুর্থত, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠনের অভাব। যেখানে ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন বা কমিউনিটির সম্পৃক্ততা নেই, সেখানেই দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। জাহাজভাঙা শিল্পে বারবার চেষ্টা করেও কোনো শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন দাঁড় করানো যায়নি। শ্রমিকরা যখনই নিজেদের অধিকারের জন্য সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তখনই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি ইয়ার্ডভিত্তিক ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগকে সরকার ‘প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ’ বা পুরো সেক্টরভিত্তিক ইউনিয়নের নিয়মে বেঁধে দিয়েছে, যা বাস্তবে কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব।
পঞ্চম কারণটি হলো, 'গ্রিন সার্টিফিকেট' বা হংকং কনভেনশনের নামে একধরনের উপরি কাঠামোগত বা লোকদেখানো উন্নয়ন। মালিকপক্ষ হয়তো কারখানায় আধুনিক ক্রেন বসাচ্ছে বা পরিবেশে তেল নির্গমন রোধে কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু এসব দিয়ে শ্রমিকের জীবন বাঁচে না। গ্যাস ছড়িয়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা খবর পাই, কিন্তু জাহাজভাঙা শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টসের কারণে যে বহু শ্রমিক ফুসফুসের ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয় না।
সীতাকুণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার পরও যথারীতি জেলা প্রশাসক ও মালিকপক্ষের তরফ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এসব কমিটির প্রতিবেদন কখনোই আলোর মুখ দেখে না।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের শিল্প খাতে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আজ চরম উপেক্ষার শিকার। এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণে অবিলম্বে একটি 'জাতীয় টাস্কফোর্স' গঠন করা প্রয়োজন। প্রতিটি দুর্ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করে খাতভিত্তিক ও ইস্যুভিত্তিক জাতীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে হবে। রাসায়নিক শিল্পের নিরাপত্তা কৌশল আর জাহাজভাঙা শিল্পের কৌশল এক হবে না— এটি মাথায় রেখেই নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
সবার আগে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। মানুষের জীবনের মূল্য যেকোনো ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ, বার্গেনিং বা 'নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেলে ব্যবসা টিকবে না'— এমন খোঁড়া যুক্তির চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। ব্যবসার দোহাই দিয়ে জীবনের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেই কেবল আমরা একটি নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশের দিকে এগোতে পারব।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাটি দেশের শ্রম খাতের এক ভয়াবহ ও রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর দেশে-বিদেশে যে অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ তৈরি হয়েছিল, তখন একটি প্রতিশ্রুতি খুব জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছিল— 'নেভার এগেইন' বা এমন ট্র্যাজেডি আর কখনো ঘটবে না।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দুর্ঘটনা থামেনি। বরং জাহাজভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ এবং দুর্ঘটনা এখন যেন হাত ধরাধরি করে চলছে। এই দুর্ঘটনাগুলো কেন থামছে না, তার গভীরে আমরা কেউ প্রবেশ করছি না। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এর পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ ও কাঠামোগত দুর্বলতা চোখে পড়ে।
প্রথমত, যেকোনো শিল্পকারখানা বা কর্মক্ষেত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিদর্শনের চরম ঘাটতি। নিয়ম অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শ্রম দপ্তরের সমন্বয়ে একটি যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে তবেই কাজ শুরুর অনুমোদন দেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রতিটি দপ্তর থেকে আলাদাভাবে বিচ্ছিন্ন উপায়ে ছাড়পত্র নেওয়া হয়। ফলে একটি কারখানার কাঠামোগত ত্রুটিগুলো আড়ালেই থেকে যায় এবং বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিহীনতা ও বিচারহীনতার এক ভয়াবহ সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির নজির নেই। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্টরা এসব দুর্ঘটনাকে কোনো অপরাধ বা নিছক অবহেলা বলেও মনে করেন না।
তৃতীয়ত, আমাদের দেশে শ্রমিকের জীবনের মূল্য বা ক্ষতিপূরণ অত্যন্ত সামান্য। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এত বেশি থাকে যে, মালিকপক্ষ আর্থিক জরিমানার ভয়েই কারখানার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু আমাদের এখানে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ মাত্র দুই লাখ টাকা! এই সামান্য অর্থের জন্য মালিকপক্ষ যেমন ভয় পায় না, তেমনি অবকাঠামোগত পরিবর্তনেরও কোনো তাগিদ অনুভব করে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আইনের দুর্বলতা। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র চার বছর, যা ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কারও হয়েছে বলে জানা যায় না।
চতুর্থত, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠনের অভাব। যেখানে ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন বা কমিউনিটির সম্পৃক্ততা নেই, সেখানেই দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। জাহাজভাঙা শিল্পে বারবার চেষ্টা করেও কোনো শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন দাঁড় করানো যায়নি। শ্রমিকরা যখনই নিজেদের অধিকারের জন্য সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তখনই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি ইয়ার্ডভিত্তিক ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগকে সরকার ‘প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ’ বা পুরো সেক্টরভিত্তিক ইউনিয়নের নিয়মে বেঁধে দিয়েছে, যা বাস্তবে কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব।
পঞ্চম কারণটি হলো, 'গ্রিন সার্টিফিকেট' বা হংকং কনভেনশনের নামে একধরনের উপরি কাঠামোগত বা লোকদেখানো উন্নয়ন। মালিকপক্ষ হয়তো কারখানায় আধুনিক ক্রেন বসাচ্ছে বা পরিবেশে তেল নির্গমন রোধে কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু এসব দিয়ে শ্রমিকের জীবন বাঁচে না। গ্যাস ছড়িয়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা খবর পাই, কিন্তু জাহাজভাঙা শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টসের কারণে যে বহু শ্রমিক ফুসফুসের ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয় না।
সীতাকুণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার পরও যথারীতি জেলা প্রশাসক ও মালিকপক্ষের তরফ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এসব কমিটির প্রতিবেদন কখনোই আলোর মুখ দেখে না।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের শিল্প খাতে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আজ চরম উপেক্ষার শিকার। এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণে অবিলম্বে একটি 'জাতীয় টাস্কফোর্স' গঠন করা প্রয়োজন। প্রতিটি দুর্ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করে খাতভিত্তিক ও ইস্যুভিত্তিক জাতীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে হবে। রাসায়নিক শিল্পের নিরাপত্তা কৌশল আর জাহাজভাঙা শিল্পের কৌশল এক হবে না— এটি মাথায় রেখেই নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
সবার আগে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। মানুষের জীবনের মূল্য যেকোনো ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ, বার্গেনিং বা 'নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেলে ব্যবসা টিকবে না'— এমন খোঁড়া যুক্তির চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। ব্যবসার দোহাই দিয়ে জীবনের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেই কেবল আমরা একটি নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশের দিকে এগোতে পারব।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান
.png)

ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি বালুমহাল। সেখানকার অস্থায়ী টিনের কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন ইজারাদারের এক কর্মচারী। হঠাৎ সেখানে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আকস্মিক প্রবেশে কিছুটা ভড়কে যান ওই কর্মচারী।
১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা যেন দিন দিন একটি মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে এই শহর। প্রতিদিনের নাগরিক জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার নাম এখন যানজট। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী—কেউই এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
০৯ আগস্ট ২০২৬
ডন জেত্রার সঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা হলো। আবারও হ্যান্ডশেকটা ঠিকঠাক হলো না। কারণ ‘আদিবাসী’ এই টগবগে তরুণ তাঁর ডান হাত ভাঁজ করতে পারেন না। কোনোদিন পারবেন কি না, জানা নেই। সহযোদ্ধা রূপাইয়া তঞ্চঙ্গ্যাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর হাতের এই হাল।
০৯ আগস্ট ২০২৬
২২ জুলাই ২০২৪। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। প্রতিদিনই আহত ও নিহতের সংবাদ সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করছিল। সেদিন আমি জানতাম না পরবর্তী দুই সপ্তাহে কী ঘটতে যাচ্ছে। আমি জানতাম না রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে।
০৫ আগস্ট ২০২৬