আদিবাসী দিবস
জুয়েল মারাক

ডন জেত্রার সঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা হলো। আবারও হ্যান্ডশেকটা ঠিকঠাক হলো না। কারণ ‘আদিবাসী’ এই টগবগে তরুণ তাঁর ডান হাত ভাঁজ করতে পারেন না। কোনোদিন পারবেন কি না, জানা নেই। সহযোদ্ধা রূপাইয়া তঞ্চঙ্গ্যাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর হাতের এই হাল।
ডন-রূপাইয়া হামলার শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ‘আদিবাসী’ ছাত্র ও তরুণ। তাদের স্মৃতিতে এখনো তরতাজা সেই হামলার দৃশ্য। মানসিক যন্ত্রণা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের। কারও কারও শারীরিক সমস্যা এমন যে, সেটা আজীবন থাকবে।
অথচ ওই হামলার সুষ্ঠু বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। ঘটনাটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের। এখন দেশ চালাচ্ছে বিএনপি সরকার।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ‘আদিবাসীদের’ অংশগ্রহণ ছিল। আন্দোলনের অসংখ্য গ্রাফিতির মধ্যে একটি বিশেষ গ্রাফিতিও ছিল। বাংলাদেশ নামক একটি গাছে, বিভিন্ন ধর্মের সঙ্গে ‘আদিবাসী’ নামক একটি পাতাও ছিল। আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে পরে ২০২৫-এর পাঠ্যবইয়ে গ্রাফিতিটা যুক্ত করা হয়। অথচ পরে পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি মুছে ফেলা হয়। স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি নামের একটি উগ্র, জাত্যাভিমানী সংগঠনের দাবিতে মুছে ফেলার কাজটি করতে বাধ্য হয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড—এনসিটিবি।
ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে এ দেশের ‘আদিবাসীরা’। পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি আবার যুক্ত করার দাবি ওঠে। ‘আদিবাসী’ ছাত্র ও তরুণেরা এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়। দিনটি ছিল ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি। এনসিটিবির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলে পড়ে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি। এই সংগঠনের সদস্যরা ক্রিকেট খেলার স্টাম্পে জাতীয় পতাকা বেঁধে হামলা চালায়। তাও পুলিশের সামনে। পুলিশ ছিল নির্বিকার; যেন চাইছিল এরকমই হোক।
রক্তাক্ত হন আন্দোলনকারীরা। ‘আদিবাসীরা’ প্রথমবারের মতো রাজধানীতে হামলার শিকার হলেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা ছিল গুরুতর, হাসপাতালে থাকতে হয়েছে টানা কয়েকদিন। শুরুতেই ডন ও রূপাইয়াসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র ও তরুণের কথা বলেছিলাম না? তারাই এই ঘটনার ভুক্তভোগী।
ওই ঘটনায় মামলা হয়। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেল হয়। কয়েকদিন পর ছাড়া পেয়ে তারা বের হয় এবং এখনো তারা ‘আদিবাসী-বিরোধী’ কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হামলায় অংশ নেওয়া বাকিদেরও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। অথচ যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি ও ভিডিও আছে।
ক্রিকেট স্টাম্পে জাতীয় পতাকা বেঁধে হামলা করা হলো, তাতে আমাদের জাতীয় পতাকার অসম্মান-অমর্যাদা হয়নি? এত রক্ত, এত প্রাণ, আমাদের মা-বোনদের সম্মান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া আমাদের সবার প্রিয় বাংলাদেশ। আমাদের জাতীয় পতাকার অপমান এই রাষ্ট্র সহ্য করতে পারল? নাকি মেনে নিল?
ওই হামলার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশ সেখানেও বাধা দেয়।
এত কিছুর পরও, পাঠ্যবইয়ে জুলাই আন্দোলনের ওই গ্রাফিতি অসম্পূর্ণই থাকল। ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি পুনরায় আর যুক্ত করা হলো না। আগামী বছর কি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে সেই পাতাটি? আমি অন্তত জানি না। এ দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা তো এই মানুষদের ‘আদিবাসী’ হিসেবেই মানতে চায় না। তাদের অন্তর্ভুক্তি তো একটা বিরাট প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই ‘আদিবাসীদের’ সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তাদের দুঃখ দুর্দশা, অধিকার, দাবি-দাওয়ার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন কত দূর? এর মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রতিবছর দিবস পালন হয় কিন্তু এই জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার গল্প আর ছোট হয় না। তারেক রহমানের সরকার কি ‘আদিবাসীদের’ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবে? তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবে? তাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবে?
সবার আগে বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ, অন্তর্ভুক্তির বাংলাদেশ, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ। এই সব বড় বড় কথাগুলো কেন জানি ফাঁকা বুলি মনে হয় এ দেশের ‘আদিবাসীদের’ কাছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের স্বার্থে যত আন্দোলন, সংগ্রাম, লড়াই, প্রতিটিতে এ দেশের ‘আদিবাসীদের’ সক্রিয় ও স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ সব সময়ই থাকে। কিন্তু বাস্তবে এর সুফল তারা খুব কমই পান।
এ নিয়ে কথা বললে শেষ হবে না। উদাহরণ দিলেও শেষ হবে না।
*মতামত লেখকের নিজস্ব

ডন জেত্রার সঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা হলো। আবারও হ্যান্ডশেকটা ঠিকঠাক হলো না। কারণ ‘আদিবাসী’ এই টগবগে তরুণ তাঁর ডান হাত ভাঁজ করতে পারেন না। কোনোদিন পারবেন কি না, জানা নেই। সহযোদ্ধা রূপাইয়া তঞ্চঙ্গ্যাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর হাতের এই হাল।
ডন-রূপাইয়া হামলার শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ‘আদিবাসী’ ছাত্র ও তরুণ। তাদের স্মৃতিতে এখনো তরতাজা সেই হামলার দৃশ্য। মানসিক যন্ত্রণা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের। কারও কারও শারীরিক সমস্যা এমন যে, সেটা আজীবন থাকবে।
অথচ ওই হামলার সুষ্ঠু বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। ঘটনাটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের। এখন দেশ চালাচ্ছে বিএনপি সরকার।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ‘আদিবাসীদের’ অংশগ্রহণ ছিল। আন্দোলনের অসংখ্য গ্রাফিতির মধ্যে একটি বিশেষ গ্রাফিতিও ছিল। বাংলাদেশ নামক একটি গাছে, বিভিন্ন ধর্মের সঙ্গে ‘আদিবাসী’ নামক একটি পাতাও ছিল। আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে পরে ২০২৫-এর পাঠ্যবইয়ে গ্রাফিতিটা যুক্ত করা হয়। অথচ পরে পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি মুছে ফেলা হয়। স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি নামের একটি উগ্র, জাত্যাভিমানী সংগঠনের দাবিতে মুছে ফেলার কাজটি করতে বাধ্য হয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড—এনসিটিবি।
ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে এ দেশের ‘আদিবাসীরা’। পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি আবার যুক্ত করার দাবি ওঠে। ‘আদিবাসী’ ছাত্র ও তরুণেরা এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়। দিনটি ছিল ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি। এনসিটিবির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলে পড়ে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি। এই সংগঠনের সদস্যরা ক্রিকেট খেলার স্টাম্পে জাতীয় পতাকা বেঁধে হামলা চালায়। তাও পুলিশের সামনে। পুলিশ ছিল নির্বিকার; যেন চাইছিল এরকমই হোক।
রক্তাক্ত হন আন্দোলনকারীরা। ‘আদিবাসীরা’ প্রথমবারের মতো রাজধানীতে হামলার শিকার হলেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা ছিল গুরুতর, হাসপাতালে থাকতে হয়েছে টানা কয়েকদিন। শুরুতেই ডন ও রূপাইয়াসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র ও তরুণের কথা বলেছিলাম না? তারাই এই ঘটনার ভুক্তভোগী।
ওই ঘটনায় মামলা হয়। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেল হয়। কয়েকদিন পর ছাড়া পেয়ে তারা বের হয় এবং এখনো তারা ‘আদিবাসী-বিরোধী’ কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হামলায় অংশ নেওয়া বাকিদেরও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। অথচ যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি ও ভিডিও আছে।
ক্রিকেট স্টাম্পে জাতীয় পতাকা বেঁধে হামলা করা হলো, তাতে আমাদের জাতীয় পতাকার অসম্মান-অমর্যাদা হয়নি? এত রক্ত, এত প্রাণ, আমাদের মা-বোনদের সম্মান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া আমাদের সবার প্রিয় বাংলাদেশ। আমাদের জাতীয় পতাকার অপমান এই রাষ্ট্র সহ্য করতে পারল? নাকি মেনে নিল?
ওই হামলার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশ সেখানেও বাধা দেয়।
এত কিছুর পরও, পাঠ্যবইয়ে জুলাই আন্দোলনের ওই গ্রাফিতি অসম্পূর্ণই থাকল। ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত পাতাটি পুনরায় আর যুক্ত করা হলো না। আগামী বছর কি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হবে সেই পাতাটি? আমি অন্তত জানি না। এ দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা তো এই মানুষদের ‘আদিবাসী’ হিসেবেই মানতে চায় না। তাদের অন্তর্ভুক্তি তো একটা বিরাট প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই ‘আদিবাসীদের’ সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তাদের দুঃখ দুর্দশা, অধিকার, দাবি-দাওয়ার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন কত দূর? এর মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রতিবছর দিবস পালন হয় কিন্তু এই জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার গল্প আর ছোট হয় না। তারেক রহমানের সরকার কি ‘আদিবাসীদের’ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবে? তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবে? তাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবে?
সবার আগে বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ, অন্তর্ভুক্তির বাংলাদেশ, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ। এই সব বড় বড় কথাগুলো কেন জানি ফাঁকা বুলি মনে হয় এ দেশের ‘আদিবাসীদের’ কাছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের স্বার্থে যত আন্দোলন, সংগ্রাম, লড়াই, প্রতিটিতে এ দেশের ‘আদিবাসীদের’ সক্রিয় ও স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ সব সময়ই থাকে। কিন্তু বাস্তবে এর সুফল তারা খুব কমই পান।
এ নিয়ে কথা বললে শেষ হবে না। উদাহরণ দিলেও শেষ হবে না।
*মতামত লেখকের নিজস্ব
.png)

আমরা জমিতে যে পরিমাণ সার দিচ্ছি, ফসল তার খুব সামান্যই কাজে লাগাতে পারছে। সারের এই অপচয় বা পুষ্টি ব্যবহারের নিম্ন কার্যকারিতা বর্তমানে বাংলাদেশের টেকসই কৃষির পথে অন্যতম বড় বাধা।
৪ ঘণ্টা আগেঅত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার এতে আরো বেশ কিছু ওষুধ সংযোজন করেছিল। প্রস্তুতকারীরা ভালোভাবে না নিলেও ওষুধ সেবনকারী বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য পদক্ষেপটি ছিল ইতিবাচক।
১৮ ঘণ্টা আগে
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কিন্তু সংবিধানকে কেবল একটি আইনি দলিল হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যায় না। এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন, ক্ষমতার বণ্টন, নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি নির্ধারণ করে।
১ দিন আগে
হাসিনার পলায়নের দুই বছর পূর্তি হলো ৫ আগস্ট ২০২৬-এ। ২০২৪-এর জুলাইয়ে ছিল ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এর পরের জুলাইগুলো নানান কারণে কিছুটা বিবর্ণ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ রূপ আক্ষরিক অর্থে দেখা না গেলেও ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে সবাই এক সূত্রে গাঁথা।
১ দিন আগে