স্মরণ
লেখা:

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন। অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই। তাই নিত্যদিনের চেয়ে কিছুটা দেরিতেই বিছানা ছেড়েছি। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে মুঠো ফোন হাতে নিয়েই এক ব্যাচমেট বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা দেখে চোখ আঁতকে উঠে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান স্যার আর নেই।
সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কখনো নিশ্চিত না হয়ে এমন তথ্য প্রচার করবেন না তবুও যেন কোথায় খটকা লাগছিলো। কথাটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। চটজলদি একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করের ঢুঁ মারি। সেখানেও একই তথ্য। ভোরে জাগতিক সব হিসেব-নিকেশের পাঠ চুকিয়ে অনন্তের পথে যাত্রা করেছেন মাহবুব স্যার।
নিমিষেই চেখের সামনে ভেসে উঠছে স্যারের সাথের অনেক স্মৃতি। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পহেলা ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখ পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেই। এক সপ্তাহের ওরিয়েন্টেশন কোর্স শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পদায়ন করা হয়।
দেশের হয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতির দায়িত্ব পালনই হচ্ছে ইআরডির কাজ। ইআরডি কর্তৃপক্ষ আমার কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে প্রশাসন ও মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগের মধ্যপ্রাচ্য-১ শাখা। উন্নয়ন সহযোগী দেশ সৌদি আরব, “সৌদি ফান্ড ফর দ্যা ডেভেলফমেন্ট (এসএফডি)”, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান “ইসলামিক করপোরেশন ফর দ্যা ডেভেলপসেন্ট অব দ্যা প্রাইভেট সেক্টর (আইসিডি)” এবং “ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) -এর সকল কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য-১ শাখার আওতাভুক্ত।
যোগদানের পরদিনই মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে এসএফডির সাথে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শাখা প্রধান হিসেবে সকল কাজ সরকারি চাকুরিতে একেবারে নবীন আমাকেই করতে হয়েছে।
চাকুরির অআকখ না জানা আমার অবস্থা তখন ত্রাহিত্রাহি। সরাসরি নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মানুষ হিসেবে সজ্জন, অমায়িক হলেও নবীন এক কর্মকর্তাকে কাজ শেখানোর বিষয়ে ছিলেন উদাসীন। অনুবিভাগ প্রধানের চাওয়া ছিল শতভাগ নির্মুল কাজ। সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হলেই তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন। চরম বিব্রতকর এক অবস্থায় পার করছিলাম সরকারি চাকুরির শুরুর দিনকাল।
আমার যোগদানের প্রায় মাস খানেক পর অনুবিভাগ প্রধানের কক্ষেই প্রথম দেখা মাহবুব স্যারের সাথে। অনুভিভাগ প্রধান স্যার পরিচয় করে দিয়ে জানান নতুন যোগদান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য-২ শাখার দায়িত্ব পেয়েছেন। পারস্পরিক নাম-পরিচয় জানার মাধ্যমেই শেষ হয় প্রথম দিনের আলাপন। পরদিন সকালে স্যার ডেকে নেন তার কক্ষে। কাস্টমস ক্যাডার থেকে সম্প্রতি পুলে এসে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর এটিই ছিল স্যারের প্রথম পদায়ন।
একান্ত আলাপচারিতার প্রথম দিনেই তাঁকে খুব অমায়িক, আন্তরিক ও দিলখোলা মনে হয়। আমি সিলেট অঞ্চলেরর মানুষ জেনে হাস্যরসে বলেন ‘‘কিছু কিছু সিলেটি আঞ্চলিক ভাষা জানি তোমার সাথে চর্চা করব”। স্যারের সাথে দেখা হলে প্রথম বাক্য তিনি সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় আওরাতেন। পাশাপাশি কক্ষে বসি তাই প্রতিদিনই স্যারের সাথে দেখা, সাক্ষাত হতো। তার আন্তরিকতা, অমায়িক আচরণ আমাকে বিমোহিত করে। আপন আপন মনে হয়। সপ্তাহ খানেক পর একদিন আমার সমস্যার কথা স্যারের কাছে তুলে ধরলে তিনি অভয় দিয়ে কোন কিছু বুঝে উঠতে না পারলে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
পরদিন থেকে স্যারের কাছে শুরু হয় আমার পেশাগত শিক্ষার হাতেখড়ি। বলা যায় হাত ধরেই তিনি অনেক কিছু শিখিয়েছেন। আস্তে আস্তে রপ্ত করতে থাকি অর্থনৈতিক কূটনীতির নানা কলা-কৌশল।
শুরুর মাসে যে চাকুরিটা মনে হচ্ছিল দুর্ভেদ্য ও জটিল এক ধাঁধার মতো স্যারের সহযোগিতায় সময়ের সাথে সাথে সে অনুভূতি ফিকে হয়ে যায়। দৃঢ় হচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। একবার আইসিডির নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংস্থার বোর্ড সভায় নীতিগত অনুমোদনপ্রাপ্ত তিনটি প্রস্তাবের মধ্য থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত চাওয়া হয়। তিনটি প্রস্তাবনা নিয়েই বিস্তারিত বর্ণনা করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা সমর্থন করে অনুমোদনের জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত বরাবর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।
দুই দিন পর অনুমোদিত সারসংক্ষেপ শাখায় ফেরত আসে। মন্ত্রী মহোদয় শুধু প্রস্তাব অনুমোদন করেননি, চমৎকারভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করায় সারসংক্ষেপের শেষাংশে স্বহস্তে ধন্যবাদজ্ঞাপক মন্তব্য লিখে দেন। সরকারি চাকরির তিন মাসের মাথায় মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য প্রাপ্তি ছিল সত্যিই অকল্পনীয়।
কর্মক্ষেত্রে আমার এই গুণগত পরিবর্তনের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন মাহবুব স্যার। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগের অন্য আরেকটি অধিশাখায় কর্মরত তৎকালীন উপসচিব, সদ্য সাবেক ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী স্যরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
বছরখানেক পর মাহবুব স্যার মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগ থেকে জাপান অনুবিভাগে বদলি হন। ফলে আমাদের কর্মক্ষেত্র একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষ থেকে ভিন্ন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। আগের মতো প্রতিদিন না হলেও প্রায়ই দেখা হতো। বিশেষত শেষ বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে শাটল সার্ভিসে উঠার সময় দেখা হতো। দেখামাত্রই স্যার তাঁর স্বভাবসুলভ রসিক ভঙ্গিতে সিলেটি ভাষায় কুশলাদি বিনিময় করতেন। ইআরডিতে থাকাবস্থায় ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণে স্যারের সাথে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছিলাম। বিদেশ-বিভুঁইয়েও সফরসঙ্গী অনুজদের সার্বকাষণিক খোঁজ খবর তিনি রেখেছেন।
২০১৫ সালে অর্থবিভাগে বদলি হলে স্যারের সাথে যোগাযোগ কিছুটা কমে যায়। তবে কোন কাজে ইআরডি কিংবা পরিকল্পনা বিভাগে আসলে স্যারের সাথে দেখা করতে ভুল হয়নি। তাছাড়া, মাঝে মাঝে মুঠো ফোনে কথা হতো। পরে মাঠ প্রশাসনে পদায়িত হলে স্যারের সাথে যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গতবছরের মে মাসে কক্সবাজারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে স্যারের সাথে হঠাৎ দেখা। মূলত মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্যারের এই অনুষ্ঠানে স্যারও যে থাকবেন তা আমার জানা ছিল না। কাছে গিয়ে সালাম দেওয়ামাত্র অতি পরিচিত সেই সিলেটি ডংয়ে তাঁর জিজ্ঞাসা ‘‘কিতাবা বালা আছনি।”
পনের বছর আগের দেখা উপসচিব মাহবুব স্যার আর বাণিজ্য সচিব মাহবুব স্যারের মধ্যে আচরণে কিংবা কথা বার্তায় কোন পরিবর্তন খোঁজে পাইনি। কয়েক মিনিট নানা প্রসঙ্গে একান্তে কথা বলেন। উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি তার ব্যক্তি আচরণে কোন পরিবর্তন আনেনি। এটিই ছিল স্যারের সাথে আমার শেষ সাক্ষাত।
বলা হয়ে থাকে কর্মক্ষেত্রে অনুজদের প্রতি আচরণই মানুষ হিসেবে একজন কর্মকর্তা কেমন তা নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে মাহবুবু স্যার ছিলেন অনন্য উচ্চতার এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বণিজ্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি ছিলেন অমায়িক ও নিরহংকার একজন মানুষ। মহান স্রষ্টার কাছে তার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।
মিনহাজুল ইসলাম জায়েদ : উপসচিব, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কশিশনারের কার্যালয়, কক্সবাজার

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন। অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই। তাই নিত্যদিনের চেয়ে কিছুটা দেরিতেই বিছানা ছেড়েছি। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে মুঠো ফোন হাতে নিয়েই এক ব্যাচমেট বন্ধুর হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা দেখে চোখ আঁতকে উঠে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান স্যার আর নেই।
সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কখনো নিশ্চিত না হয়ে এমন তথ্য প্রচার করবেন না তবুও যেন কোথায় খটকা লাগছিলো। কথাটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। চটজলদি একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করের ঢুঁ মারি। সেখানেও একই তথ্য। ভোরে জাগতিক সব হিসেব-নিকেশের পাঠ চুকিয়ে অনন্তের পথে যাত্রা করেছেন মাহবুব স্যার।
নিমিষেই চেখের সামনে ভেসে উঠছে স্যারের সাথের অনেক স্মৃতি। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পহেলা ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখ পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেই। এক সপ্তাহের ওরিয়েন্টেশন কোর্স শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পদায়ন করা হয়।
দেশের হয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতির দায়িত্ব পালনই হচ্ছে ইআরডির কাজ। ইআরডি কর্তৃপক্ষ আমার কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে প্রশাসন ও মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগের মধ্যপ্রাচ্য-১ শাখা। উন্নয়ন সহযোগী দেশ সৌদি আরব, “সৌদি ফান্ড ফর দ্যা ডেভেলফমেন্ট (এসএফডি)”, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান “ইসলামিক করপোরেশন ফর দ্যা ডেভেলপসেন্ট অব দ্যা প্রাইভেট সেক্টর (আইসিডি)” এবং “ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) -এর সকল কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য-১ শাখার আওতাভুক্ত।
যোগদানের পরদিনই মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে এসএফডির সাথে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শাখা প্রধান হিসেবে সকল কাজ সরকারি চাকুরিতে একেবারে নবীন আমাকেই করতে হয়েছে।
চাকুরির অআকখ না জানা আমার অবস্থা তখন ত্রাহিত্রাহি। সরাসরি নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মানুষ হিসেবে সজ্জন, অমায়িক হলেও নবীন এক কর্মকর্তাকে কাজ শেখানোর বিষয়ে ছিলেন উদাসীন। অনুবিভাগ প্রধানের চাওয়া ছিল শতভাগ নির্মুল কাজ। সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হলেই তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন। চরম বিব্রতকর এক অবস্থায় পার করছিলাম সরকারি চাকুরির শুরুর দিনকাল।
আমার যোগদানের প্রায় মাস খানেক পর অনুবিভাগ প্রধানের কক্ষেই প্রথম দেখা মাহবুব স্যারের সাথে। অনুভিভাগ প্রধান স্যার পরিচয় করে দিয়ে জানান নতুন যোগদান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য-২ শাখার দায়িত্ব পেয়েছেন। পারস্পরিক নাম-পরিচয় জানার মাধ্যমেই শেষ হয় প্রথম দিনের আলাপন। পরদিন সকালে স্যার ডেকে নেন তার কক্ষে। কাস্টমস ক্যাডার থেকে সম্প্রতি পুলে এসে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর এটিই ছিল স্যারের প্রথম পদায়ন।
একান্ত আলাপচারিতার প্রথম দিনেই তাঁকে খুব অমায়িক, আন্তরিক ও দিলখোলা মনে হয়। আমি সিলেট অঞ্চলেরর মানুষ জেনে হাস্যরসে বলেন ‘‘কিছু কিছু সিলেটি আঞ্চলিক ভাষা জানি তোমার সাথে চর্চা করব”। স্যারের সাথে দেখা হলে প্রথম বাক্য তিনি সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় আওরাতেন। পাশাপাশি কক্ষে বসি তাই প্রতিদিনই স্যারের সাথে দেখা, সাক্ষাত হতো। তার আন্তরিকতা, অমায়িক আচরণ আমাকে বিমোহিত করে। আপন আপন মনে হয়। সপ্তাহ খানেক পর একদিন আমার সমস্যার কথা স্যারের কাছে তুলে ধরলে তিনি অভয় দিয়ে কোন কিছু বুঝে উঠতে না পারলে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
পরদিন থেকে স্যারের কাছে শুরু হয় আমার পেশাগত শিক্ষার হাতেখড়ি। বলা যায় হাত ধরেই তিনি অনেক কিছু শিখিয়েছেন। আস্তে আস্তে রপ্ত করতে থাকি অর্থনৈতিক কূটনীতির নানা কলা-কৌশল।
শুরুর মাসে যে চাকুরিটা মনে হচ্ছিল দুর্ভেদ্য ও জটিল এক ধাঁধার মতো স্যারের সহযোগিতায় সময়ের সাথে সাথে সে অনুভূতি ফিকে হয়ে যায়। দৃঢ় হচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। একবার আইসিডির নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংস্থার বোর্ড সভায় নীতিগত অনুমোদনপ্রাপ্ত তিনটি প্রস্তাবের মধ্য থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত চাওয়া হয়। তিনটি প্রস্তাবনা নিয়েই বিস্তারিত বর্ণনা করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা সমর্থন করে অনুমোদনের জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত বরাবর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।
দুই দিন পর অনুমোদিত সারসংক্ষেপ শাখায় ফেরত আসে। মন্ত্রী মহোদয় শুধু প্রস্তাব অনুমোদন করেননি, চমৎকারভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করায় সারসংক্ষেপের শেষাংশে স্বহস্তে ধন্যবাদজ্ঞাপক মন্তব্য লিখে দেন। সরকারি চাকরির তিন মাসের মাথায় মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য প্রাপ্তি ছিল সত্যিই অকল্পনীয়।
কর্মক্ষেত্রে আমার এই গুণগত পরিবর্তনের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন মাহবুব স্যার। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগের অন্য আরেকটি অধিশাখায় কর্মরত তৎকালীন উপসচিব, সদ্য সাবেক ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী স্যরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
বছরখানেক পর মাহবুব স্যার মধ্যপ্রাচ্য অনুবিভাগ থেকে জাপান অনুবিভাগে বদলি হন। ফলে আমাদের কর্মক্ষেত্র একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষ থেকে ভিন্ন ভবনে স্থানান্তরিত হয়। আগের মতো প্রতিদিন না হলেও প্রায়ই দেখা হতো। বিশেষত শেষ বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে শাটল সার্ভিসে উঠার সময় দেখা হতো। দেখামাত্রই স্যার তাঁর স্বভাবসুলভ রসিক ভঙ্গিতে সিলেটি ভাষায় কুশলাদি বিনিময় করতেন। ইআরডিতে থাকাবস্থায় ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণে স্যারের সাথে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছিলাম। বিদেশ-বিভুঁইয়েও সফরসঙ্গী অনুজদের সার্বকাষণিক খোঁজ খবর তিনি রেখেছেন।
২০১৫ সালে অর্থবিভাগে বদলি হলে স্যারের সাথে যোগাযোগ কিছুটা কমে যায়। তবে কোন কাজে ইআরডি কিংবা পরিকল্পনা বিভাগে আসলে স্যারের সাথে দেখা করতে ভুল হয়নি। তাছাড়া, মাঝে মাঝে মুঠো ফোনে কথা হতো। পরে মাঠ প্রশাসনে পদায়িত হলে স্যারের সাথে যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গতবছরের মে মাসে কক্সবাজারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে স্যারের সাথে হঠাৎ দেখা। মূলত মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্যারের এই অনুষ্ঠানে স্যারও যে থাকবেন তা আমার জানা ছিল না। কাছে গিয়ে সালাম দেওয়ামাত্র অতি পরিচিত সেই সিলেটি ডংয়ে তাঁর জিজ্ঞাসা ‘‘কিতাবা বালা আছনি।”
পনের বছর আগের দেখা উপসচিব মাহবুব স্যার আর বাণিজ্য সচিব মাহবুব স্যারের মধ্যে আচরণে কিংবা কথা বার্তায় কোন পরিবর্তন খোঁজে পাইনি। কয়েক মিনিট নানা প্রসঙ্গে একান্তে কথা বলেন। উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি তার ব্যক্তি আচরণে কোন পরিবর্তন আনেনি। এটিই ছিল স্যারের সাথে আমার শেষ সাক্ষাত।
বলা হয়ে থাকে কর্মক্ষেত্রে অনুজদের প্রতি আচরণই মানুষ হিসেবে একজন কর্মকর্তা কেমন তা নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে মাহবুবু স্যার ছিলেন অনন্য উচ্চতার এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বণিজ্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি ছিলেন অমায়িক ও নিরহংকার একজন মানুষ। মহান স্রষ্টার কাছে তার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।
মিনহাজুল ইসলাম জায়েদ : উপসচিব, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কশিশনারের কার্যালয়, কক্সবাজার

আধুনিক জোটনিরপেক্ষতা মানে এখন আর চুপচাপ বসে থাকা নয়। এটি এখন পুরোপুরি একটি লেনদেনের খেলা, যাকে বলা যেতে পারে ‘বহুমুখী জোট’ বা মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট। দেশগুলো এখন আর ভূ-রাজনৈতিক কোন্দল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে না। বরং, তারা পরাশক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জন্য সেরা সুবিধাটা আদায় করে নিচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধ-কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান খুব স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালিতে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে গত ২৬ মার্চ রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়, যা ছিল এই দেশগুলোর প্রতি ইরানের শুভেচ্ছার প্রতীক।
৮ ঘণ্টা আগে
মানুষ যেন বুঝতে পারে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো নয় বরং নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোর না হলেও তা নিশ্চিতভাবে প্রয়োগ করা হবে- এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
১ দিন আগে
আব্দুল মোনায়েম মুন্না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি। প্রায় চার দশক ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই, কারাবরণ, সংগঠন পরিচালনা—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিএনপির অন্যতম নির্ভরযোগ্য অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে।
১ দিন আগে