৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে বাংলাদেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২২
স্ট্রিম গ্রাফিক

রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই-বাছাই শেষে রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এই ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

বৈধ দুই প্রার্থী হলেন– বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এর ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩তম রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।

ইসি জানিয়েছে, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গত ১১ আগস্ট সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ছাপানো ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। একটি মুড়ি, অন্যটি ভোট। মুড়িতে ব্যালটের ক্রমিক, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জন্য একটি ফাঁকা জায়গা থাকবে। ফাঁকা স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট নিতে হবে ভোটারকে। ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। প্রত্যেক নামের পাশে ফাঁকা জায়গা আছে। সেখানে ভোটাররা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।

ওইদিন তিনি বলেছিলেন, অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসবেন। আমরা যারা সহায়ক কর্মকর্তা, তাঁরা ব্যালট পেপার পৌঁছে দেব। তারা তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সামনে থাকা তিনটি ব্যালট বক্সের যেকোনো একটিতে জমা দেবেন। এই নির্বাচন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিকেল ৫টার পরে ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গত ৯ আগস্ট বিএনপি এবং ১০ আগস্ট ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে। রোববার বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন ভবনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে ছিলেন এবং পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন।

তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হন। পরে ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পান।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আরও কয়েকটি সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়ান। ১৯৮৬ সালে মির্জা ফখরুল সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৮৮ সালের পৌর নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ মিলে ২০১১ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে ২০১১ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসন থেকেও নির্বাচন করেন। বগুড়া-৬ আসনে তিনি জয়ী হন। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০৫ সালের নভেম্বর থেকে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল আবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিজয়ী হন। এবার তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মির্জা ফখরুলের আগে বেলা ১১টার দিকে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন সিইসি। এ সময় ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় সরকারের সময় মন্ত্রী হয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক হয়ে অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমেদ ১৯৪১ সালের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। বিএনপির ১৯৯১ সালের সরকারে যোগাযোগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ছিলেন।

অলি আহমেদ ২০০৬ সালের অক্টোবরে দলীয় সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি নতুন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রতিষ্ঠা করে সভাপতি হন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে বাংলাদেশ