leadT1ad

বিএনপির ইশতেহার

২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন, ২৫ কোটি গাছ রোপণের প্রতিশ্রুতি

>>বিশেষ নদীপথগুলোকে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির ‘ওয়াটার হাইওয়ে’ হিসেবে ঘোষণা

>>যমুনা নদীর পুরাতন জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণ

>>সাড়ে ৩ লাখের বেশি 'সবুজ কর্মসংস্থান' তৈরি হবে

>>বৃক্ষরোপণকে বিজ্ঞানসম্মত করতে জিআইএস ব্যবহার করে 'জমি তালিকা মানচিত্র' তৈরি

>>গাছের রক্ষণাবেক্ষণে 'ট্রি মনিটরিং অ্যাপ' চালু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন করবে (বিএনপি)। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। আজ শুক্রবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁ হোটেলে ইশতেহার পাঠ করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিএনপি তাদের ইশতেহারে খাল খনন ও নৌ পথকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নদীনির্ভর শহরগুলোর চারপাশে বৃত্তাকার জলপথ গড়ে তোলা এবং খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দলটির মতে, এতে সড়কের ওপর চাপ ও যানজট কমবে, নদীভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিশ্চিত হবে।

নদী ও সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে বুড়িগঙ্গা, গোমতী, পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পর্যায়ক্রমে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া যমুনা নদীর পুরাতন জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণ করে সিরাজগঞ্জের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন প্রবাহের কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশেষ নদীপথগুলোকে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির ‘ওয়াটার হাইওয়ে’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক রিভার পোর্ট ও ইন্টারমোডাল টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।

উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও জোর দিয়েছে দলটি। দ্বীপগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত উপকূলীয় জাহাজ ও ফেরি চালুর কথা বলা হয়েছে।

নদীপথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকি কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঢাকাসহ নদী ঘেঁষা প্রধান শহরগুলোতে নতুন যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও ‘সবুজ কর্মসংস্থান’

পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কথা জানিয়েছে বিএনপি। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি ‘সবুজ বিপ্লব’-এ রূপ দেওয়ার লক্ষ্য দলটির।

তারা বলছে, এই উদ্যোগের ফলে নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণের জন্য সাড়ে ৩ লাখের বেশি ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ তৈরি হবে। এছাড়া ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

বৃক্ষরোপণকে বিজ্ঞানসম্মত করতে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ব্যবহার করে ‘জমি তালিকা মানচিত্র’ তৈরি এবং গাছের রক্ষণাবেক্ষণে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালুর কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। দুর্গম দ্বীপ ও চরাঞ্চলে দ্রুত বনায়নের জন্য ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিনব প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

নগর জীবনে সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণে ‘সবুজ পরিমাপক’ মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় শহরগুলোতে ‘গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন’ ও কর-প্রণোদনার মাধ্যমে ছাদ-বাগান উৎসাহিত করা হবে।

জ্বালানি খাতেও সবুজ শক্তির ওপর জোর দিয়েছে বিএনপি। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস (সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্য) থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্বন ক্রেডিট আয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং দেশে একটি ‘কার্বন ট্রেডিং মার্কেট’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ ও ‘থ্রি আর’ (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল) নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন এবং পাঁচ বছরের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট’ গঠন

দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘জাতীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে একীভূত কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে।

প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক যন্ত্রপাতি, ড্রোন ও অ্যাম্বুলেন্সসহ ২৪ ঘণ্টা সচল ‘ফায়ার-রেসকিউ সেন্টার’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জরুরি মুহূর্তে সহায়তার জন্য ৫০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা এবং প্রতিটি বিভাগে রেসকিউ হেলিকপ্টার ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।

এছাড়া, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিল্ডিং ফায়ার সেফটি কোড-২০২৬ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নদীভাঙন রোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মকৌশল গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। পানিসম্পদ রক্ষায় জাতিসংঘের ওয়াটার কনভেনশন-১৯৯৭ সই, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন এবং যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত