শুধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
হবিগঞ্জ

কথা বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়কমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনীর সামরিক সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের সর্বস্তরের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ ও যুবকদের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। একমাত্র ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তিনি সেদিন পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন; এটাই প্রকৃত ইতিহাস।’

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়। তাঁদের বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ বিএনপি দর্পণ ও অস্তিত্ব।’

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বিএনপি প্রথম শুরু করে। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনে ভিশন-২০৩০ প্রস্তাব করেন। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘জেন-জি দেশের ইতিহাস ভালো জানে না। গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে দেয়নি।’

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ, সৈয়দ মো. ফয়সল ও ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনসহ অনেকেই।

এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের আজকের দিনে (৪ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক বাংলোতে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশকে স্বাধীন করার শপথ, যুদ্ধের রণকৌশল, ১১টি সেক্টর বণ্টন, অস্ত্রের জোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়সহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কর্নেল (অব.) আতাউল গনি ওসমানী, লে. কর্নেল এম এ রব, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালেহ উদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশারফ, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর সাফায়েত জামীল ও মেজর সি আর দত্ত প্রমুখ।

সম্পর্কিত