আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করতে পারবেন, এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান ঢাকা-১ আসনের ভোটাররা। তবে অতীতে নির্বাচনের পর বিজয়ীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ ভোটার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে একধরনের নৈতিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকার কাছেই অবস্থিত দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসন। পদ্মাবেষ্টিত দোহার এবং ইছামতী নদীবেষ্টিত নবাবগঞ্জে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একসময় নদী আবর্তিত জীবন-জীবিকা থাকলেও বর্তমানে নদী দখল, দূষণ আর নাব্যতা সংকটে বিপন্ন ইছামতী। দোহারের পদ্মা ভাঙন রোধে কাজ হলেও মাদক, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কোনো যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেনি এই এলাকা দুটি।
এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, লেবার পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থীদের ইশতেহারে বড় জায়গাজুড়ে আছে মাদক ও বেকারত্ব। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ সমাজের মাদকের ভয়াবহ ছোবল নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক সমাজ।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘ইছামতী নদীতে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৈলাইল থেকে কার্তিকপুর ও ঘোষাইল বেড়িবাঁধ হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার নদীর নাব্যতার জন্য ড্রেজিং করা হবে এবং পদ্মার সঙ্গে সরাসরি স্লুইচ গেটের মাধ্যমে পানির প্রবাহ চালুর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।’
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদকের কারণে সম্ভাবনাময় ছেলেমেয়েরা পথভ্রষ্ট হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে নতুন করে সাজিয়ে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অনুন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বিদেশে যায়। তাদের জন্য একটি উন্নত প্রশিক্ষণশালা গড়ে তুলে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজও দ্রুত শুরু হবে। বেকারত্ব দূর করতে পারলেই মাদক নির্মূল সম্ভব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা তাঁর প্রয়াত পিতার (সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করাই আমার স্বপ্ন। আমি নিজে না পারলেও সবার সহযোগিতা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’
ভোটাররা এবার কার প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখবেন এবং কে হবেন ঢাকা-১ এর কর্ণধার, তা জানা যাবে আগামী ভোটের দিন।