স্ট্রিম ডেস্ক

এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির নির্বাচনের ইশতেহার পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে, তারা কেবল গতানুগতিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বেশ কিছু ‘ব্যতিক্রমী’ ও ‘নতুন শব্দ’ ব্যবহার করেছে। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’, ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং’ কিংবা ‘পিআর পদ্ধতি’– এর মতো শব্দগুলো এখন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, এগুলো ইশতেহারেও স্থান করে নিয়েছে।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে সবচেয়ে শক্তিশালী পরিভাষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’। জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ইশতেহারে শব্দটির মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছে– বর্তমান সংবিধানের আংশিক সংশোধন নয় বরং একটি ‘গণপরিষদ’ (Constituent Assembly)-এর মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় জন্ম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটাকেই তারা বলছেন সেকেন্ড রিপাবলিক।
অন্যদিকে, বিএনপি ব্যবহার করছে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার মতো পরিভাষা, যা মূলত ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যকর করার একটি প্রকৌশলগত রূপক। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে মূল দর্শন হিসেবে উঠে এসেছে ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজ’, যাকে তারা বলছেন তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিএনপি ইশতেহারে আরেক নতুন শব্দবন্ধ এনেছে— ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’। এটি প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বাইরে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার একটি মডেল। সমান্তরালে তারা ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা বা পোস্ট-নাজি জার্মানির আদলে একটি জাতীয় ক্ষমা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এবারের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিতর্কে সবচেয়ে আলোচিত শব্দটি হলো ‘পিআর পদ্ধতি’। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অনেক দলই এই শব্দযুগলকে তাদের ইশতেহারের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে, যার অর্থ হলো সংসদে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন বণ্টন নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও দলগুলো বেশ কিছু নতুন পরিভাষা ব্যবহার দেখা যাচ্ছে ইশতেহারগুলোতে। এনসিপির ইশতেহারে ব্যবহৃত ‘গ্রাম পার্লামেন্ট’ স্থানীয় সরকারকে সরাসরি আইনি ও নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার একটি নতুন রূপ। আমলাতন্ত্রের সংস্কারে তারা ‘ল্যাটেরাল এন্ট্রি’ ব্যবহার করেছে, যার অর্থ হলো সিভিল সার্ভিসের বাইরে থেকে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সরাসরি সরকারের উচ্চপদস্থ পদে নিয়োগ দেওয়া।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিএনপি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছে, যা মূলত মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাত থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে দাবী করেছে দলটি। সামাজিক সুরক্ষায় তারা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো সুনির্দিষ্ট পরিভাষা এনেছে।
জামায়াতে ইসলামী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ নামের একটি ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সরকারি ব্যয় তদারকির একটি নতুন ধারণা। তাদের ইশতেহারে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘থ্রি জিরো ভিশন’-এর কথা বলছে, যা বর্জ্য, বন্যাঝুঁকি ও পরিবেশগত অবক্ষয় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য প্রকাশ করে।
এনসিপির ইশতেহারে একটি ব্যতিক্রমী শব্দ হলো ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেইন’, যার মাধ্যমে বিদেশে চলে যাওয়া মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ আর্থিক তহবিলের কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে দলগুলো এনেছে ‘বাংলাদেশপন্থী’ এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’-এর মতো পরিভাষা।
নতুন শব্দ তো অনেকগুলোই দেখা যাচ্ছে। দেখার বিষয় নতুন শব্দ আর পরিভাষাগুলো কি কেবল শব্দ হিসেবেই থেকে যাবে? নাকি দেশ বদলেও কিছু ভূমিকা এইসব পরিভাষা রাখতে পারবে?

এবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির নির্বাচনের ইশতেহার পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে, তারা কেবল গতানুগতিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বেশ কিছু ‘ব্যতিক্রমী’ ও ‘নতুন শব্দ’ ব্যবহার করেছে। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’, ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং’ কিংবা ‘পিআর পদ্ধতি’– এর মতো শব্দগুলো এখন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, এগুলো ইশতেহারেও স্থান করে নিয়েছে।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে সবচেয়ে শক্তিশালী পরিভাষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’। জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ইশতেহারে শব্দটির মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছে– বর্তমান সংবিধানের আংশিক সংশোধন নয় বরং একটি ‘গণপরিষদ’ (Constituent Assembly)-এর মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় জন্ম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটাকেই তারা বলছেন সেকেন্ড রিপাবলিক।
অন্যদিকে, বিএনপি ব্যবহার করছে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার মতো পরিভাষা, যা মূলত ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যকর করার একটি প্রকৌশলগত রূপক। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে মূল দর্শন হিসেবে উঠে এসেছে ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজ’, যাকে তারা বলছেন তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিএনপি ইশতেহারে আরেক নতুন শব্দবন্ধ এনেছে— ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’। এটি প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বাইরে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার একটি মডেল। সমান্তরালে তারা ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা বা পোস্ট-নাজি জার্মানির আদলে একটি জাতীয় ক্ষমা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এবারের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিতর্কে সবচেয়ে আলোচিত শব্দটি হলো ‘পিআর পদ্ধতি’। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অনেক দলই এই শব্দযুগলকে তাদের ইশতেহারের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছে, যার অর্থ হলো সংসদে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন বণ্টন নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও দলগুলো বেশ কিছু নতুন পরিভাষা ব্যবহার দেখা যাচ্ছে ইশতেহারগুলোতে। এনসিপির ইশতেহারে ব্যবহৃত ‘গ্রাম পার্লামেন্ট’ স্থানীয় সরকারকে সরাসরি আইনি ও নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার একটি নতুন রূপ। আমলাতন্ত্রের সংস্কারে তারা ‘ল্যাটেরাল এন্ট্রি’ ব্যবহার করেছে, যার অর্থ হলো সিভিল সার্ভিসের বাইরে থেকে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সরাসরি সরকারের উচ্চপদস্থ পদে নিয়োগ দেওয়া।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিএনপি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছে, যা মূলত মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর হাত থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে দাবী করেছে দলটি। সামাজিক সুরক্ষায় তারা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো সুনির্দিষ্ট পরিভাষা এনেছে।
জামায়াতে ইসলামী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ নামের একটি ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সরকারি ব্যয় তদারকির একটি নতুন ধারণা। তাদের ইশতেহারে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘থ্রি জিরো ভিশন’-এর কথা বলছে, যা বর্জ্য, বন্যাঝুঁকি ও পরিবেশগত অবক্ষয় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য প্রকাশ করে।
এনসিপির ইশতেহারে একটি ব্যতিক্রমী শব্দ হলো ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেইন’, যার মাধ্যমে বিদেশে চলে যাওয়া মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ আর্থিক তহবিলের কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে দলগুলো এনেছে ‘বাংলাদেশপন্থী’ এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’-এর মতো পরিভাষা।
নতুন শব্দ তো অনেকগুলোই দেখা যাচ্ছে। দেখার বিষয় নতুন শব্দ আর পরিভাষাগুলো কি কেবল শব্দ হিসেবেই থেকে যাবে? নাকি দেশ বদলেও কিছু ভূমিকা এইসব পরিভাষা রাখতে পারবে?

ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) আসনের বাসিন্দাদের গ্যাস-সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম।
১ ঘণ্টা আগে
প্রত্যেক নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান এবং জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
১ ঘণ্টা আগে
পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত এবং পলিসিগত কার্যক্রম সূচনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের কথা বলছে দলটি।
২ ঘণ্টা আগে
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যমুনা অভিমুখে সংগঠনের মিছিল আটকে দিলে এ সংঘর্ষ হয়।
২ ঘণ্টা আগে