বিএনপি দেশকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে নিয়ে যাচ্ছে, দাবি এনসিপির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকার দেশকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতাদের অভিযোগ, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, এর ব্যতয় ঘটলে সাধারণ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার বলেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে ৫৯ প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এরা মূলত নির্বাচনে পরাজিত বা মনোনয়নবঞ্চিত দলীয় নেতাকর্মী। এটি এক ধরনের প্রাইজ পোস্টিং এবং দলীয় পুনর্বাসন। সরকার আমাদের আইয়ুব আমলের ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ ফিরিয়ে দিতে চাইছে।

তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে সরকার ভবিষ্যতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কলমের এক খোঁচায় অপসারণ করার ক্ষমতা কুক্ষিগত করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

বিচার বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ তুলে ধরে সারওয়ার তুষার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ব্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন চিহ্নিত ঋণখেলাপি ও সোয়েটার ব্যবসায়ীকে, যিনি দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আবার আগের মতো নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নীলনকশা সম্পন্ন হয়েছে।

এনসিপির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ লঙ্ঘনের আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আড়িপাতার ক্ষমতা সংকুচিত করে জনস্বার্থে যে অধ্যাদেশ করেছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করেছে। এর ফলে ১৮-১৯টি সংস্থা এখন আদালতের অনুমতি ছাড়াই সাধারণ মানুষের ফোন কল ও মেসেজে আড়িপাততে পারবে। এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, বিগত গণভোটে দেশের মানুষ রাষ্ট্র কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। যদি সরকার এই গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে, তবে আমরা ওইদিন থেকেই এই সরকারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করব। এ ব্যাপারে আমরা কোনো সময় নেব না।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাভেদ রাসিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত