leadT1ad

মা-বোনদের উত্থান দেখে মাঘ মাসেই অনেকের মাথা গরম : ডা. শফিকুর রহমান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। স্ট্রিম ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে যুবক ও মা-বোনদের উত্থান দেখে মাঘ মাসেই অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘পরিবর্তন ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে যুবক এবং মা-বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে অনেকে নার্ভাস। মাঘ মাসেই তাই এখন অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে, তাঁরা চৈত্র মাসে কী করবেন? ঠান্ডা রাখেন, মাথা ঠান্ডা রাখেন। গরম করবেন না। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন।’

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই জনসভায় দলের আমির ছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য দেন।

জনসভায় তুলে ধরা বেশকিছু পরিকল্পনার মধ্যে নারীদের সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মায়েরা থাকবেন ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে— সব জায়গায় নিরাপদ। শিশু জন্মের পর তাঁর স্বাস্থ্য-পুষ্টির সব দায়িত্ব সরকারের। ৫ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনাখরচে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।’

প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক গড়া হবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশে রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে। এই দেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না। হ্যাঁ, আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা কোনো দেশের সঙ্গে চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল, এখনও যারা লোভ সামলাতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোস্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের জান, মাল এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা দিবে? এখনই দিচ্ছে না, তখন দিবে? আফসোস! আফসোস, তারাও মজলুম ছিলেন। কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না। এবং বিভিন্ন জায়গার দখলদারিত্ব নিতে গিয়ে নিজেদের ভেতর ২৩৪ জন শেষ। তারপরে এখন আমাদের খুন করা শুরু হয়েছে। এরপরে আমাদের এখন গালি দেওয়া শুরু হয়েছে।’

আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা কোনো দেশের সঙ্গে চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে লালকার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লালকার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন, এটা বিবেচ্য ব্যাপার না। ফ্যাসিবাদ তোমাকে লালকার্ড। তুমি যে অ্যাপ্রোন গায়ে দিয়ে আসো, তোমাকে লালকার্ড।’

নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার, কাউকে এবার কোনো ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে, হাত শক্ত করে আমাদের দাঁড়িয়ে যেতে হবে। এবং আমরা ইনশাআল্লাহ পারব, আমাদের পারতে হবে।’

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের রায়ের মাধ্যমে আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদের দেন; আমরা ইনশাআল্লাহ কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। এই দেশে কারও দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে, বংশানুক্রমে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। এই দেশে রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে।’

যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণ প্রতিশ্রুতি ব্যক্তি করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা একটা মানবিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে চাই। যে বাংলাদেশে সকলে নিরাপত্তা ভোগ করবেন। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। পেশাগত ময়দানে মর্যাদা ঠিক হবে তার দেশপ্রেমের ভিত্তিতে। এই দুটো জিনিস যার কাছে থাকবে, কাজ অটোমেটিক তার হাতে চলে যাবে।’

যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল, এখনও যারা লোভ সামলাতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোস্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের জান, মাল এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা দিবে? এখনই দিচ্ছে না, তখন দিবে? আফসোস! আফসোস, তারাও মজলুম ছিলেন।

পেশাজীবনে অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা জিন্দেগি জাতিকে উজাড় করে দিয়ে একটা পর্যায়ে যারা অবসরে চলে যাবেন, তাদেরও চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার এবং রাষ্ট্র। সেটাও বিনাপয়সায়। মাঝখানে যেটা, সেটা অংশগ্রহণমূলক। কিছু আমার সামর্থ্য অনুযায়ী, আর কিছু সরকারের।’

রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবির বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বলা হয়েছে এখানে সিএনজির সরবরাহ নিশ্চিত করা। হ্যাঁ, সমুদ্রে এখনও আমরা আমাদের সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের যদি তৌফিক দেন, কারও চোখ রাঙানির পরোয়ানা করব না, ইনশাআল্লাহ। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এর আগে দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত