আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-৫ (সদর) আসনে বইছে অন্যরকম এক আমেজ। তবে ভোটারদের চোখেমুখে এখন শুধু উন্নয়নের হিসাব-নিকাশ নয়, বরং প্রাধান্য পাচ্ছে নাগরিক অধিকার ও বৈষম্যমুক্ত এক জনপদের স্বপ্ন।
বিগত বছরগুলোতে পাবনায় কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সদর আসনের বাসিন্দাদের আক্ষেপ অনেক। শহরের প্রধান সড়কগুলোর সংকীর্ণতা ও অসহনীয় যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। আধুনিক মাস্টার প্ল্যান না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ২০০ বছরের পুরনো এই পৌরসভা। এছাড়া ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেল স্টেশনে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাবনা শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ ফারুক রকি বলেন, ‘আমরা চাই এমন একজনকে, যিনি শহরকে আধুনিক রূপ দেবেন এবং ভাঙা রাস্তাগুলো মেরামত করা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করবেন।’
এবারের নির্বাচনে ৫টি বিষয় ভোটারদের মাঝে প্রধানত আলোচিত হচ্ছে। যেমন ইছামতী উদ্ধার। ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শুরু হলেও মামলা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নদী খনন থমকে আছে। ভোটাররা এর দ্রুত বাস্তবায়ন চান। ফোর লেন সড়ক এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবিও দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। নির্মাণাধীন ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি স্থানীয়দের। অন্যদিকে এই অঞ্চলে স্কয়ার ছাড়া বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই বললেই চলে। হোসিয়ারি শিল্প রপ্তানি সংকটে। ভোটাররা দুগ্ধ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং আইটি ইনস্টিটিউটের অভাব বোধ করছেন।
তরুণ ভোটার সাব্বির আহমেদের মতে, শিক্ষিত যুবকদের ঢাকা মুখী হওয়া বন্ধ করতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। এ ছাড়া ইছামতী উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে প্রার্থীদের।
আওয়ামী লীগ বিহীন এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন। দুজনেরই ব্যক্তিগত ইমেজ ও দলীয় ভোট ব্যাংক থাকায় লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পাবনাকে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ জেলা করা সম্ভব। আমি ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জন্মভূমির মানুষের অধিকার ফেরাতে লড়ছি। সচিব পদমর্যাদার চাকরিতে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পাবনার সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেব।’
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ইছামতী পুনরুদ্ধার, যানজট নিরসন এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ইনসাফ ভিত্তিক একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত পাবনা গড়ে তোলাই আমার অঙ্গীকার।’