leadT1ad

পাবনা-৪

চরের দখলদারিত্ব ও মাদক আতঙ্কের সমাধান চান ভোটাররা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৯
পাবনায় পদ্মার চরের প্রধান সমস্যা বালু মহাল নিয়ে দখলদারিত্ব। ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর, ঈশ্বরদী ইপিজেড এবং ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনকে ঘিরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জনপদ পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনপদে এখন নির্বাচনী হাওয়া তুঙ্গে। তবে বড় বড় মেগা প্রকল্পের উন্নয়নের চাকচিক্যের আড়ালে এখানকার সাধারণ ভোটারদের মনে জেঁকে বসেছে পদ্মার চরের বালু মহাল দখল, মাদকের বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক।

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া দেশের বৃহত্তম সবজি ও লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল। কিন্তু হিমাগারের অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী (পেঁপে বাদশা) বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি হিমাগার এবং কৃষি গবেষণাগার খুব দরকার। আমরা চাই এমন প্রতিনিধি, যিনি লিচু রপ্তানির জন্য সরাসরি বিদেশি বাজারের সাথে আমাদের যোগাযোগ করিয়ে দেবেন।’

পদ্মার তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম বালু মহাল ও জমি দখল। লক্ষ্মীকুণ্ডা চরকুড়ুলিয়া গ্রামের কৃষক বনি ইসরাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পদ্মার বালু বিক্রি করে একদল মানুষ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, আর আমরা সাধারণ কৃষকরা চরে চাষ করতে গিয়ে বিপদে খাই। চরের এই অস্ত্রের ঝনঝনানি আর দখলদারিত্ব যে বন্ধ করতে পারবে, তাকেই আমরা ভোট দেব।’

নির্বাচনী ময়দানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর আবু তালেব মন্ডল ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হলে রেলের বেদখল হওয়া শত শত একর জমি উদ্ধার করে আধুনিক টার্মিনাল, পার্ক ও হাসপাতাল নির্মাণ করব। রূপপুর প্রকল্পের কর্মসংস্থানে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং যারা বালু ও চর দখল করে ত্রাস সৃষ্টি করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু ঈশ্বরদীকে একটি জঞ্জালমুক্ত ‘স্মার্ট রেলওয়ে শহর’ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বালু মহাল হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, কোনো ব্যক্তির পকেট ভরার মাধ্যম নয়। আমি চর দখলমুক্ত করে প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদের হাতে জমি ফিরিয়ে দেব।’

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘লিচু ও সবজি চাষিদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং এলাকাভিত্তিক হিমাগার স্থাপন আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। রূপপুর এলাকায় দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে সুশাসন কায়েম করা হবে।’

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার ভোটাররা এখন কেবল উন্নয়নের স্লোগান নয়, বরং একটি শান্ত ও নিরাপদ জনপদের প্রত্যাশায় ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষায় আছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত