leadT1ad

পাবনা-৩: ভোটের আলোচনায় ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

এই জনপদের চলনবিল এখন জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন। স্ট্রিম ছবি

পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসন। এই জনপদের এক সময়ের প্রমত্তা চলনবিল এখন জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাবে বড় জায়গা দখল করে আছে বিলের অস্তিত্ব রক্ষা। ভোটাররা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর গতানুগতিক উন্নয়নের বুলি ছাপিয়ে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিশ্রুতি হতে হবে বিলের প্রাণ-প্রতিবেশ রক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা।

চাটমোহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বড়াল নদের অস্তিত্ব রক্ষা এখন এই আসনের মানুষের জীবন-মরণ প্রশ্ন। বর্ষায় উত্তাল আর শুকনো মৌসুমে ধু-ধু মরুভূমি—প্রকৃতির এই রুদ্র রূপের পেছনে অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইস গেটকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। বড়াল রক্ষা জাতীয় আন্দোলনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্লুইস গেটগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা বড়াল নদ উদ্ধার ও চলনবিলের প্রাণ ফেরানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সংসদে কথা বলবেন।’

আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনী মাঠে লড়াইটা মূলত ত্রিমুখী। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ঠাঁই করে নিয়েছে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ ইস্যু। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপিরই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। অন্যদিকে, সুসংগঠিত ভোটব্যাংক নিয়ে নীরব শক্তিতে পরিণত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আছগার।

বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন জলবায়ু ঝুঁকি ও কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে বলছেন, ‘দল বিশেষ উদ্দেশ্যে আমাকে এই কৃষিপ্রধান এলাকায় পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে কৃষি নিয়ে কাজ করি বলে চলনবিলের সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা আমার জন্য সহজ হবে। চলনবিলের ড্রেজিং এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বহিরাগত নই, এই পাবনারই সন্তান; ব্যালটেই এর প্রমাণ হবে।’

তবে তাঁর দাবিকে নাকচ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম স্থানীয় আবেগ উসকে দিয়ে বলছেন, ‘যিনি এলাকার মানুষই নন, তিনি চলনবিলের কান্নার ভাষা বুঝবেন কী করে? বহিরাগত কেউ এসে মাটির মায়া বুঝবে না। আমি জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম; নির্বাচিত হলে বড়াল নদ উদ্ধার ও স্থায়ী বাঁধের সমাধান স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে আমিই করব।’

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আলী আছগার পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজের কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নামে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা আত্মঘাতী। আমি নির্বাচিত হলে কৃষি পর্যটনের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান করব এবং সার-বীজ নিয়ে চলা সিন্ডিকেট চিরতরে বন্ধ করব।’

কৃষি অর্থনীতি ও চলনবিলের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুরের পৌনে ৪ লাখ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কার হাতে তুলে দেন আগামীর নেতৃত্ব, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত