যুবদল থেকে এনসিপি, কে এই ইসহাক সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। সংগৃহীত ছবি

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক যুবদল নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভিমান থেকে তিনি এই নতুন পথ বেছে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ইসহাক সরকারের এনসিপিতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা ফারুক এহসান বলেন, ‘ইসহাক সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি আমাদের দলে আসার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং শিগগির আমরা তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেব।’

একসময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইসহাক সরকারকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কয়েকশ মামলা এবং সাড়ে তিন বছর জেল খাটার পরও দল থেকে কেন পদবঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন করা হলো, তার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাননি বলে জানান তিনি।

ইসহাক সরকার বলেন, ‘আমি যখন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম, তখন প্রশাসনের কাছে “মোস্ট ওয়ান্টেড” ছিলাম। আমার পরিবারের সবার নামে সাড়ে পাঁচ শতাধিক মামলা আছে। এরপরও কেন আমাকে পদবঞ্চিত করা হলো এবং কেন উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের হামলার বিচার হাইকমান্ড করল না, সেই যন্ত্রণা আজও আমাকে পোড়ায়। এখন আমি যেহেতু বিএনপির কেউ না, তাই এনসিপির মতো একটি লড়াকু সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এনসিপি আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে বলেই আজ আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আমার বিরুদ্ধে শত শত মামলা ছিল এবং ৫টি মামলায় ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই অভ্যুত্থান না হলে আমাকে জেলখানায় পচে মরতে হতো। এনসিপি সঠিক ট্র্যাকে আছে এবং আগামী দিনে তারা দেশের জন্য ভালো কিছু করবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হয়েছিলেন ইসহাক সরকার। দলীয় আলোচনা অনুযায়ী, তাঁকে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয়ভাবে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসহাক সরকার ছাড়াও সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। গত রোববার ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত ও মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরাসহ দলটির অন্তত ৩০ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া এবি পার্টি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও ১৫ জন নেতা দলটিতে যুক্ত হয়েছেন।

সম্পর্কিত