জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা সরকার বেশি দিন টেকে না: মঞ্জু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৫৩
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত

জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কৌশলে গড়িমসি করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে ‘জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও গণভোটের রায় উপেক্ষা: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের বৈঠকে বিএনপি সংস্কারের চেয়ে নির্বাচনকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং ক্ষমতায় এসেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি—এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।’

সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরে গিয়ে জনমত উপেক্ষা করছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নতুন ব্যাংক রেজুলেশন আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, ‘নতুন রেজুলেশনের মাধ্যমে ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। দেশে গোষ্ঠীশাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে। সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি এবং তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ইতিমধ্যে দলে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছে, যেখানে মেধার পরিবর্তে পারিবারিক কোটায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে উপেক্ষা করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আবু হেনা রাজ্জাকী, দিলারা চৌধুরী, জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন ও সালেহউদ্দিন সিফাতসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত