ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ধামরাইয়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে কৃষি জমি ধ্বংসকারী ‘মাটিখেকো’ চক্রের দৌরাত্ম্য, পরিবেশ দূষণ এবং মাদকের বিস্তার। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
ধামরাই উপজেলা মূলত একটি কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও নগরায়ণ ও ইটভাটার প্রসারের কারণে এখানে ব্যাপক হারে আবাদি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে আবাদি জমিগুলো বিশাল গর্তে পরিণত হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সানোড়া এলাকার কৃষক আবুল কালাম তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাটিখেকোরা যে চকে ঢুকছে, সেটিই শেষ করে দিচ্ছে। একটি জমি কিনে গভীর করে মাটি কাটে, ফলে পাশের জমির মাটিও ধসে যায়। তখন পাশের জমির মালিকও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এসবের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা জড়িত। আমাদের দাবি, আগামী দিনে যিনি এমপি হবেন, তিনি যেন আমাদের জান-মালের পাশাপাশি কৃষি জমি রক্ষায় কঠোর ভূমিকা রাখেন।’
সবজি ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, একসময় ধামরাইয়ের সবজি ঢাকার বড় বড় বাজারের চাহিদা মেটাত। কিন্তু চাষাবাদ কমে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্য এখন সংকটে। কৃষি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
কৃষি জমির পাশাপাশি ধামরাইয়ের অন্যতম সামাজিক ব্যাধি হিসেবে মাদক ও জুয়াকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের সংগঠক নাহিদ মিয়া বলেন, ‘প্রশাসন চেষ্টা করলেও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের কড়া অবস্থান ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।’
লড়াইয়ে যারা আছেন
ঢাকা-২০ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: বিএনপি থেকে মো. তমিজ উদ্দিন, এনসিপি থেকে নাবিলা তাসনিদ, বাংলাদেশ খেলাফস মজলিস থেকে মো. আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টি থেকে আহছান খান, জাসদ থেকে মো. আরজু মিয়া, এবং এবি পার্টি থেকে হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ।
বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘ধামরাইয়ের পরিবেশ রক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে আমি সবসময় সোচ্চার। নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে আমার অবস্থান হবে আপসহীন। আমি বিশ্বাস করি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার অবস্থানের কারণে ভোটাররা এবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়বেন। জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে আমি বদ্ধপরিকর।’
এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘রাজনীতিতে আমার যাত্রা নতুন হলেও এটি দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করার একটি বড় সুযোগ। নেতৃত্ব হচ্ছে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ভোটাররা যদি সুযোগ দেন, তবে আমি ধামরাইয়ের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করব।’
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও ভোটাররা এখন প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ধামরাইয়ের সংকটের স্থায়ী সমাধানের আশায় দিন গুনছেন।