জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ধৈর্যের সীমা আছে, ইরানে হামলার হুমকি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, তাঁর দেশ ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানি হামলা হজমের ক্ষমতা সীমিত। সৌদি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ধৈর্যের সীমা আছে। তেহরানকে অবিলম্বে তার কৌশল ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। হামলায় স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত সৌদির রাজধানী রিয়াদে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল এই হুঁশিয়ারি দিলেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের ‘উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও শক্তি’ আছে। তাঁরা ‘চাইলে তা ব্যবহার করতে’ পারে। তেহরানের কূটনীতিকদের অনীহা সত্ত্বেও ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার কৌশল সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পনা করেছে।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, সৌদি এবং প্রতিবেশী দেশের কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার যে নির্ভুলতা তাতে স্পষ্ট যে এটি পূর্বপরিকল্পিত, পূর্ব সংগঠিত এবং সুচিন্তিত।

তিনি বলেন, কী হলে সৌদি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেবে, আর কী হলে নেবে না তা আমি বলব না। কারণ ইরানিদের কাছে সেই সংকেত দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে ইরানিদের বোঝা উচিত সৌদি এবং যেসব অংশীদার আক্রান্ত হয়েছে তাঁদের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে তা ব্যবহার করতে পারে।

প্রিন্স ফয়সাল আরও বলেন, যে ধৈর্য দেখানো হচ্ছে তার সীমা আছে। ইরানিদের হাতে একদিন, দুইদিন, না এক সপ্তাহ সময় আছে? আমি আগেই তা বলব না। আশা করি তারা আজকের বৈঠকের বার্তা বুঝবে এবং দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ করবে। তবে আমার সন্দেহ আছে তাদের সেই বিচক্ষণতা আছে কিনা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানী দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ‘ইরানের স্পষ্ট হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ’ জানিয়েছে। রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র, যা বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদন করে।

এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আগেই সতর্ক করেছিল, ইসরায়েলের ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিশোধে কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতের তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালাবে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের উপকূলে অবস্থিত বিশ্বর সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ৪টি এবং পূর্বাঞ্চলে দুটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো হয়েছে।

এদিকে, আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হাবশান গ্যাস স্থাপনায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে, তবে তেহরানের প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করার কৌশলের কারণে বিশ্বাস ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে’। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে অনেক বেশি সময় লাগবে।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি ইরান গত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে এই কৌশল গড়ে তুলছে। এটি কোনো পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয় যেখানে ইরান মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং তা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা তাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তাই এই যুদ্ধ যখন শেষ হবে, বিশ্বাস পুনর্গঠনে অনেক সময় লাগবে। আমি বলতে চাই, ইরান যদি এখনই না থামে, আমি মনে করি বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না–যোগ করেন তিনি।

সম্পর্কিত