leadT1ad

পাবনা-১: আলোচনায় ‘আবু সাইয়িদ’ ফ্যাক্টর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৬
মো. শামসুর রহমান, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা শেষে উৎসবের আমেজ ফিরেছে পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) আসনে। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে উন্নয়নের অঙ্গীকারের সমান্তরালে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার অর্থনীতির প্রাণ ইছামতী নদী আজ মৃতপ্রায়। এই নদী পুনঃখনন করে কৃষি ও নৌ-যাতায়াতের উপযোগী করাই এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি। পাশাপাশি দুগ্ধ শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই জনপদে আধুনিক দুগ্ধ প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে চাই যিনি ইছামতী নদীকে প্রাণ দেবেন এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন।’

দুগ্ধ খামারি স্বপন মিয়া বলেন, ‘দুধের উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় খামারিরা বিপাকে আছেন। এখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

অন্যদিকে তরুণ ভোটার আসিফ মাহমুদ দাবি, এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শামসুর রহমান। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলটির সাবেক আমীর প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (ব্যারিস্টার মোমেন)। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল গণি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাজুল ইসলাম মাঠে রয়েছেন।

এই আসনে এবার আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামায় এই জনপদে রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

বিএনপির বড় একটি অংশ তাঁকে পাশে পেয়ে উজ্জীবিত হলেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত কর্মীরা আবু সাইয়িদকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই জনপদে আমার পিতার বিশাল ভোটব্যাংক এবং আমাদের সুসংগঠিত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে মানুষ ‘‘ইনসাফ’’ কায়েমে দাঁড়িপাল্লাতেই আস্থা রাখবে। ফ্যাসিবাদের দোসর আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগ দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা।’

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শামসুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক আবু সাইয়িদের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ পাশে দাঁড়ানোয় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আমরা সাঁথিয়াকে একটি আধুনিক শিল্প ও কৃষিভিত্তিক মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব, যেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।’

সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে ৪ লাখেরও বেশি ভোটার নির্ধারণ করবেন কে হবেন সাঁথিয়ার আগামীর অভিভাবক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত