দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও তৈরি পোশাক কারখানার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দ্রুত নগরায়ণ ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে পিষ্ট এই জনপদে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চারটি মৌলিক সংকট: জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ, নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগ অব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ী ও বাইপাইল এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে। অপরিকল্পিত শিল্পবর্জ্য ও দখলদারিত্বের কারণে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়।
সাভারে নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করা খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘পরিকল্পনাহীন শিল্পায়নের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। নদী দখল ও খাল ভরাট বন্ধ না করলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব নয়।’
এদিকে, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই এলাকায় নিরাপত্তার অভাব একটি বড় ইস্যু। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে তটস্থ থাকেন। আশুলিয়ার পোশাক শ্রমিক রেহানা আক্তার বলেন, ‘রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ভয় লাগে। নিরাপত্তাহীনতা আমাদের নিত্যসঙ্গী।’ এর পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চাপে সৃষ্ট যানজট এবং শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার বা পর্যাপ্ত সরকারি হাসপাতালের অভাব নিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।
প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও তৎপরতা
এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভোটারদের মন জয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলভিত্তিক আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং নদী উদ্ধার আমার অগ্রাধিকার। আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে সুন্দর সাভার-আশুলিয়া গড়ে তুলব।’
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলশানা পারুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকারই মেয়ে, সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে চিনি। আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, দায়িত্বের জন্য। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাদকমুক্ত যুবসমাজ এবং শ্রমিক-ব্যবসাবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়াই আমার মূল অঙ্গীকার। সাভার-আশুলিয়াকে মানবিক ও বাসযোগ্য করতে আমি লড়ছি।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যারা
ঢাকা-১৯ আসন থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: বিএনপি থেকে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, এনসিপি থেকে দিলশানা পারুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. ফারুক খান, এনপিপি থেকে ইসরাফিল হোসেন সাভারী, গণঅধিকার পরিষদ থেকে শেখ শওকত হোসেন, জাতীয় পার্টি থেকে মো. বাহাদুর ইসলাম, এলডিপি থেকে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে মো. কামরুল।
ভোটারদের প্রত্যাশা, এবার কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাভার-আশুলিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবেন।