অধ্যাদেশ না মানলে সরকার-সংসদ অবৈধ: গোলাম পরওয়ার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০০
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপ্রতির অধ্যাদেশ (প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার) না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ মানবে বললেও, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবে না। কারণ, গণভোটের রায় মেনে নিলেই জুলাই সনদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হয়ে যাবে।

বুধবার (২২ জুরাই) রাজধানীতে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ। ২০২৫ সালে ১৩ নভেম্বর যেই প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার জারি হয়েছিল, সেই অর্ডারের ভিত্তিতেই সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট হয়েছে। কিন্তু বিএনপি জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করছে।’

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, গণভোটের রায় মেনে নিচ্ছেন না। কারণ, জুলাই সনদে ঐকমত্য কমিশন যেই ৮৪টি প্রস্তাব করেছে, তার মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের মুখ্য প্রস্তাবগুলোতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার হয়। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এটি আয়োজন করে।

সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসম্পাদক সাইফুর রহমান।

সেমিনারে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেও অন্যায়ভাবে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি হয়তো সেটি ভুলে গেছেন। তাঁর মতো পুরো জাতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তৈরি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে আবার ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণে। যারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে, তাদের কাউকে আন্দোলনকালীন সময়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নামে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করে সরকার জনগণের সঙ্গে আরেকটি প্রতারণা করতে যাচ্ছে। সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করলে রাজপথে ফায়সালা হবে।

সেমনিারে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভানেত্রী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার ১ নম্বর দফা হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বিএনপি সংসদে এক তৃতীয়াংশ আসনের জোরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে– এই আদেশ রাষ্ট্রপতি দিতে পারেন কিনা?’ তিনি বলেন, ট্রানজিশনাল পিরিয়ড নামে আমাদের সংবিধানে দুটি অনুচ্ছেদ আছে। একটি হচ্ছে ১৫০ অনুচ্ছেদ, আরেকটি চতুর্থ তফসিল। এগুলো হচ্ছে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বলা আছে এই অর্ডারগুলো প্রেসিডেন্ট দিতে পারবেন। এজন্যই এই অর্ডারগুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

শিশির মনির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল। এটি একটি ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। এই ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে ১৯৭২ সালে যদি আদেশ দেওয়া যায়, ১৯৭৩ সালে যদি আদেশ দেওয়া যায়, তাহলে কেন ২০২৫ সালে ট্রানজিশনাল পিরিয়ড আদেশ দেওয়া যাবে না– এর কারণ যদি সরকার দল দেখাতে পারে, তাহলে আমরা আমদের আর্গুমেন্ট প্রত্যাহার করে নেব।

Ad 300x250

সম্পর্কিত