জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

একাই প্রচারে আজিজার বিএসসি, নির্বাচিত হলে তাঁর কাছে সবার যাতায়াত অবাধ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৩
সাদুল্লাহপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান নির্বাচনী প্রচার চালান একাই। স্ট্রিম ছবি

হ্যান্ডমাইকটা (মেগাফোন বুলহর্ন) কখনো কাঁধে ঝুলছে, কখনো বাইসাইকেলের হ্যান্ডেলে। এক হাতে ঠেলছেন পুরাতন সাইকেলটি, আরেক হাতে ধরা মাইক্রোফোনে বলছেন, ‘আমাকে ভালো মনে হলে একটা ভোট দিয়েন।’ এভাবেই মাঠেঘাটে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন স্বয়ং সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী মো. আজিজার রহমান। ভোটারদের কাছে তিনি পরিচিত ‘আজিজার বিএসসি’ হিসেবে।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আজিজার রহমান। প্রচারে তাঁর সঙ্গে নেই কোনো কর্মী-সমর্থক। একাই ভোটের মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন রাতদিন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বাইসাইকেল বাঁধা কাঠের ছোট ঢেঁকিটি তাঁর নির্বাচনী প্রতীক। ভোটারদের কাছে এই প্রতীকে ভোট কামনা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শুধু আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না আজিজার রহমান। এর আগে এই আসনে উপনির্বাচনসহ চারবার এমপি প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কোনো নির্বাচনেই জয়ী হতে পারেন নাই তিনি।

নির্বাচনী এলাকা এতটাই পরিচিত যে, বিরতিহীনভাবে বলে দিতে পারেন দুই উপজেলার সব ইউনিয়নের নাম। ব্যতিক্রমী প্রচার ও বারবার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতেই আজিজার রহমান বলেন, ‘এটা পরিষ্কার, আজিজার বিএসসি কারও কাছে, কোনো প্রার্থীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। আজিজার বিএসসি সব সময় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উদ্গ্রীব।’

প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পুরোনো হয়ে যাওয়া বাইসাইকেলটি আজিজার রহমানের নিজের। তবে নির্বাচনী প্রচার উপলক্ষ্যে নতুন হ্যান্ড-মাইকটি কিনেছেন তিনি। প্রতিদিন হ্যান্ডমাইক কাঁধে নিয়ে বাইসাইকেলে চালিয়ে বেড়িয়ে পড়েন জনসংযোগের উদ্দেশ্যে। ইতিমধ্যে এই আসনের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রাম-গঞ্জে সহস্রাধিক পথসভা করেছেন তিনি।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের আড়ম্বর প্রচারের বিপরীতে হ্যান্ডমাইক আর পুরাতন বাইসাইকেল নিয়েই জনসংযোগ অব্যাহত রাখছেন আজিজার রহমান। যাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন, তাঁরাই ভোট দেবেন তিনি বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘বাইসাইকেলে পেট্রোল খরচ হয় না। তাই আমি একাই বাইসাইকেলে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মী বাহিনী নেই। যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, তাঁরাই আমাকে ভোট দেবেন।’

নির্বাচিত হলে এক টাকাও দুর্নীতি করবেন না বলছেন আজিজার রহমান। স্ট্রিম ছবি
নির্বাচিত হলে এক টাকাও দুর্নীতি করবেন না বলছেন আজিজার রহমান। স্ট্রিম ছবি

আজিজার রহমানের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। স্থানীয় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢেঁকি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকা সাদুল্লাহপুর উপজেলায় ২০টি ইউনিয়নে দৈনিক ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় ভ্যান ও মাইক দিয়ে প্রচার চালালে প্রতিদিন অন্তত ৬০ হাজার টাকা খবর হতো তার। তাতে বিশ দিনের প্রচার খরচ হতো ১২ লাখ টাকা। তিনি মনে করেন, বাইসাকেলে ঘুরে মানুষ একবার ঢেঁকি প্রতীক দেখাতে পারলে যা হবে, মাইকে প্রচার করলেও তা হবে। তাই বাইসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় ভোটার গোলজার রহমান বলেন, ‘আজিজার বিএসসি প্রচার ব্যতিক্রমী। অন্য প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের ভোটের মাঝে নানা অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু আজিজার বিএসসির কর্মী না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’

আরেক ভোটার ঈসমাইল কামাল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নির্বাচনে যে টাকার খেলা হয়, তা আজিজার বিএসসির পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তারপরও এসব প্রার্থীদের একবার ভোট দিয়ে দেখা দরকার। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোনো কর্মীবাহিনী না থাকায় একাই পথসভা ও ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন হ্যান্ডমাইক গলায় বেঁধে বাইসাইকেল নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।’

চিকিৎসা পেতে যেন ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সেক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলে পথসভায় বলছেন আজিজার রহমান। নির্বাচিত হলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে কোনো বাঁধা থাকবে না জনগণের। কোনো ভেদাভেদও নেই তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে আমার কাছে জনগণ সরাসরি যাবে। কে লুঙ্গি পরা, কে স্যুট পরা, কে শিক্ষিত, কে অশিক্ষিত, কে ধনী, কে দরিদ্র, আমি সবাইকে দিকে প্রফেশনালি দৃষ্টি রাখব। আমি তাঁদের সম্মান করার চেষ্টা করব, তাঁদের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করব। আমারও স্বপ্ন আছে, সংসদে গিয়ে এই সাদুল্লাহপুর-পলাশবাড়ীর সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করা।’

হ্যান্ডমাইক আর পুরাতন বাইসাইকেল নিয়ে আজিজার রহমানের জনসংযোগ। স্ট্রিম ছবি
হ্যান্ডমাইক আর পুরাতন বাইসাইকেল নিয়ে আজিজার রহমানের জনসংযোগ। স্ট্রিম ছবি

ভোটে নির্বাচিত হলে একটি টাকাও দুর্নীতি করবেন না বলছেন আজিজার রহমান। একবার নির্বাচিত হলে আর মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবেন না তিনি। তাঁর কাছে জেলে-কুলি, দিনমজুর, মাস্টার, জর্জ, ব্যারিস্টার সবাই সমান। আজিজার রহমান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী খরচ নেই। তাই নির্বাচিত হলে টাকা তোলারও চাপ থাকবে না। অন্যরা যাঁরা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তাঁরা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। বিদেশেও যাব না। আমি এখানকার সরল মানুষ, আমি এখানেই থাকব।’

বিগত নির্বাচনের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতায় এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সম্প্রতি সাধারণ মানুষের মাঝে আমার ব্যাপক সাড়া উঠেছে। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাব।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধা-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এই আসনে ১৪৫ ভোটকেন্দ্রে ৯৫২ কক্ষে মোট ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৯ জন ভোটার রয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত