প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবকিছু হলে দুর্নীতি কেন বন্ধ হয় না, প্রশ্ন ডা. শফিকুরের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ২০: ২৯
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবকিছু পরিচালিত হলে দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন– এমন প্রশ্ন রেখেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, সরকারের একজন যখন নিজেই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করছেন, তখন ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায়?

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে এই প্রশ্ন রাখেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের একজন নেতা নিজেই স্বীকার করেছেন– ‘গত পাঁচ মাসে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। এই সময়ে দুর্নীতি বেড়েছে’। যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সবকিছু পরিচালিত হয়, তাহলে দুর্নীতিবাজরা তাঁর আশপাশে কীভাবে অবস্থান করে? দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন?’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ছিল রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা পরে পিছিয়ে ১ আগস্ট কার্যকর করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘১ আগস্ট সরকার আমাদের নিষিদ্ধ করেছিল। আর ৫ আগস্ট রান্না করা খাবারও খেতে পারেননি শেখ হাসিনা। আল্লাহতাআলা তাদের কপালে সেই খাবারও রাখেননি। তারা ভেবেছিল, আগের বছরের মতো এবারো অত্যাচার করে পার পেয়ে যাবে, ফ্যাসিবাদী কায়দায় আন্দোলন দমন করবে। কিন্তু জমিনের মালিক আল্লাহ। তাঁর ফয়সালার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো শক্তিই টিকে থাকতে পারে না।’

জামায়াত আমির বলেন, মানুষ সেদিন মুখে মুখে বলেছে– আল্লাহতাআলা যেন আবাবিল পাখির মতো সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ চাইলে ক্ষুদ্র শক্তিকেও বিজয়ী করতে পারেন এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাহিনীকেও পরাজিত করতে পারেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। কিন্তু স্বৈরাচারীরা কখনোই সেখান থেকে শিক্ষা নেয় না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ শহীদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়– সর্বাধিক শহীদ শ্রমিক সমাজের। এরপর ছাত্র, তারপর সাধারণ মানুষ। শ্রমিকরা কোনো কোটা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেননি। তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। তারা চেয়েছিলেন সম্মানজনকভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে।

শফিকুর রহমান বলেন, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জনগণ এমন চাকরি চায় না; জনগণ এই চাঁদাবাজিকে ঘৃণা করে।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হওয়া দুঃখজনক। এগুলো তো শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত ছিল। অথচ অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে আজ অধিকার নিয়েই টানাটানি চলছে।

শফিকুর রহমানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহন শ্রমিকেরা সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, হামলা, এমনকি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এই অপকর্ম যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংগঠনের ৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত