স্ট্রিম সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামের নেটে একসময় যার ঘূর্ণি বলে পরাস্ত হতো ব্যাটসম্যানরা, আজ সেই হাতেই ঘুরছে অবৈধ অস্ত্র আর চাঁদাবাজির ফোন। ফটিকছড়ির প্রতিশ্রুতিশীল সেই লেগ স্পিনার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অল্প সময়ে অপরাধ জগতের পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েন চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও অক্সিজেন এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন।
তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে, বাবা মো. মুসা পেশায় কৃষক ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ইমন খুব বেশি লেখাপড়া করেননি এবং কৈশোরেই জড়িয়ে পড়েন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেখান থেকে স্থানীয় অপরাধচক্র হয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্কে।
ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন, কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যে জানা যায়, স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় তার—কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতেন, পরে নগরের অক্সিজেন এলাকার খালার বাসায় থেকে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতেন।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির সাবেক কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন বাঁহাতি লেগ স্পিনার (চায়নাম্যান) হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন এবং ব্যাটিংও ভালো করতেন। জাতীয় দল বা বিদেশি ক্রিকেটাররা চট্টগ্রামে এলে নেট অনুশীলনে তাদের বল করার সুযোগও পেতেন তিনি। তবে ২০২০ সালের পর হঠাৎই খেলা থেকে হারিয়ে যান তিনি।
কাঞ্চননগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট খেলা ইমন পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি তার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। ভালো ক্রিকেটার হয়ে এলাকার সুনাম বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এখন সেই এলাকা সন্ত্রাসপ্রবণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের ভাষ্যমতে, নগরের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করলেও এইচএসসি পরীক্ষা দেননি ইমন। ২০২০ সালে করোনার পর তিনি পুরোপুরি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে ওমানে যান, বছরখানেক পর দেশে ফেরেন।
গত জুলাইয়ের শুরুতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ইমনের। সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিলেন এই প্রশ্নের জবাবে ইমন বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, না হয় বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’
সাজ্জাদ বাহিনী থেকে এককভাবে উত্থান
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে যান ইমন এবং বায়েজিদ বোস্তামীর আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানেই তখনকার বাহিনীপ্রধান সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর অক্সিজেন এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে ইমনের সক্রিয় অংশগ্রহণই তাকে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নজরে আনে। এরপর একের পর এক সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে দ্রুতই তিনি সাজ্জাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং এই গ্রুপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় ইমনের নেটওয়ার্কের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মতো নানা অপরাধে এই নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ইমন বাহিনীর ‘হোয়াটসঅ্যাপ কল’ পদ্ধতির চাঁদাবাজি। ভার্চ্যুয়াল বা বিদেশি নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিচয় দেওয়া হয় ‘ডেভিড ইমন’ নামে, দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা এবং বেঁধে দেওয়া হয় সময়সীমা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসে অন্তত তিনটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। অক্সিজেন, মুরাদপুর, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও জিইসি এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীও একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পর্যন্ত করেননি।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে একাধিক জোড়া খুনসহ অন্তত ১৫টি মামলায় ইমনের নাম এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুন (বখতিয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ), একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীর জোড়া খুন ও চান্দগাঁওয়ে আফতাব হত্যা মামলা। এসব মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শ্যুটার ও সহযোগী সক্রিয় বলে পুলিশের দাবি। এই নেটওয়ার্কে চাঁদাবাজির প্রধান দায়িত্ব পালন করতেন ইমন নিজে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে ফোন করে ইমন বলেন, ‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’
চন্দনপুরার একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হওয়ার আগে হুমকি দিয়ে ইমন বলেন, ব্যবসা চালাতে হলে এককালীন দুই কোটি ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিককে হুমকি দিয়ে তিনি নিজের পরিচয় জানিয়ে বলেছিলেন, তার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছেই জিজ্ঞেস করতে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান পর্যন্ত এলাকায় ইমনের প্রভাব বিস্তৃত বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় গ্রুপটির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্র।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ইমন ফোনে এমনভাবে কথা বলেন যে মানুষ সহজেই ভয় পেয়ে যায়, আর অস্ত্রও ভালো চালাতে পারেন তিনি।
কী বলছেন সহযোগী ও পুলিশ
বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের (বড় সাজ্জাদ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার কোনো বাহিনী নেই। তিনি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হান আলম বলেন, তাকে যেসব মামলায় জড়ানো হচ্ছে তার বেশিরভাগই মিথ্যা। বিশেষ করে ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডে তাকে জড়ানো হয়েছে, যেসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ডেভিড ইমনের আরও যারা সহযোগী আছে তাদের ধরতে আমাদেরও অভিযান অব্যাহত আছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাজ্জাদের বিষয়েও ইন্টারপোলের মাধ্যমে কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনায়েত কাউছার বলেন, বড় সাজ্জাদের দুজন সহযোগী রায়হান আলম ও বোরহান উদ্দিনকে ধরতে পারলে পুরো চেইন ভেঙে যাবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, ইমন গ্রেপ্তারের চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকেছিলেন এবং পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে আবার ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
ডেভিড ইমন ধরা পড়লেও রায়হান আলম মঙ্গলবার একই রাতে নোয়াখালীর অভিযানে ফসকে যাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তারা রায়হানকে একটুর জন্য ধরতে পারেননি, তবে তিনি এখনো তাদের নজরদারির আওতায় আছেন এবং শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামের নেটে একসময় যার ঘূর্ণি বলে পরাস্ত হতো ব্যাটসম্যানরা, আজ সেই হাতেই ঘুরছে অবৈধ অস্ত্র আর চাঁদাবাজির ফোন। ফটিকছড়ির প্রতিশ্রুতিশীল সেই লেগ স্পিনার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অল্প সময়ে অপরাধ জগতের পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েন চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও অক্সিজেন এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন।
তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে, বাবা মো. মুসা পেশায় কৃষক ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ইমন খুব বেশি লেখাপড়া করেননি এবং কৈশোরেই জড়িয়ে পড়েন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেখান থেকে স্থানীয় অপরাধচক্র হয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্কে।
ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন, কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যে জানা যায়, স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় তার—কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতেন, পরে নগরের অক্সিজেন এলাকার খালার বাসায় থেকে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতেন।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির সাবেক কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন বাঁহাতি লেগ স্পিনার (চায়নাম্যান) হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন এবং ব্যাটিংও ভালো করতেন। জাতীয় দল বা বিদেশি ক্রিকেটাররা চট্টগ্রামে এলে নেট অনুশীলনে তাদের বল করার সুযোগও পেতেন তিনি। তবে ২০২০ সালের পর হঠাৎই খেলা থেকে হারিয়ে যান তিনি।
কাঞ্চননগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট খেলা ইমন পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি তার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। ভালো ক্রিকেটার হয়ে এলাকার সুনাম বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এখন সেই এলাকা সন্ত্রাসপ্রবণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের ভাষ্যমতে, নগরের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করলেও এইচএসসি পরীক্ষা দেননি ইমন। ২০২০ সালে করোনার পর তিনি পুরোপুরি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে ওমানে যান, বছরখানেক পর দেশে ফেরেন।
গত জুলাইয়ের শুরুতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ইমনের। সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিলেন এই প্রশ্নের জবাবে ইমন বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, না হয় বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’
সাজ্জাদ বাহিনী থেকে এককভাবে উত্থান
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে যান ইমন এবং বায়েজিদ বোস্তামীর আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানেই তখনকার বাহিনীপ্রধান সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর অক্সিজেন এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে ইমনের সক্রিয় অংশগ্রহণই তাকে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নজরে আনে। এরপর একের পর এক সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে দ্রুতই তিনি সাজ্জাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং এই গ্রুপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় ইমনের নেটওয়ার্কের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মতো নানা অপরাধে এই নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ইমন বাহিনীর ‘হোয়াটসঅ্যাপ কল’ পদ্ধতির চাঁদাবাজি। ভার্চ্যুয়াল বা বিদেশি নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিচয় দেওয়া হয় ‘ডেভিড ইমন’ নামে, দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা এবং বেঁধে দেওয়া হয় সময়সীমা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসে অন্তত তিনটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। অক্সিজেন, মুরাদপুর, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ ও জিইসি এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীও একই ধরনের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পর্যন্ত করেননি।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে একাধিক জোড়া খুনসহ অন্তত ১৫টি মামলায় ইমনের নাম এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়ার জোড়া খুন (বখতিয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ), একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীর জোড়া খুন ও চান্দগাঁওয়ে আফতাব হত্যা মামলা। এসব মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শ্যুটার ও সহযোগী সক্রিয় বলে পুলিশের দাবি। এই নেটওয়ার্কে চাঁদাবাজির প্রধান দায়িত্ব পালন করতেন ইমন নিজে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে ফোন করে ইমন বলেন, ‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’
চন্দনপুরার একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হওয়ার আগে হুমকি দিয়ে ইমন বলেন, ব্যবসা চালাতে হলে এককালীন দুই কোটি ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিককে হুমকি দিয়ে তিনি নিজের পরিচয় জানিয়ে বলেছিলেন, তার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছেই জিজ্ঞেস করতে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজান পর্যন্ত এলাকায় ইমনের প্রভাব বিস্তৃত বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় গ্রুপটির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্র।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ইমন ফোনে এমনভাবে কথা বলেন যে মানুষ সহজেই ভয় পেয়ে যায়, আর অস্ত্রও ভালো চালাতে পারেন তিনি।
কী বলছেন সহযোগী ও পুলিশ
বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের (বড় সাজ্জাদ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার কোনো বাহিনী নেই। তিনি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হান আলম বলেন, তাকে যেসব মামলায় জড়ানো হচ্ছে তার বেশিরভাগই মিথ্যা। বিশেষ করে ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডে তাকে জড়ানো হয়েছে, যেসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ডেভিড ইমনের আরও যারা সহযোগী আছে তাদের ধরতে আমাদেরও অভিযান অব্যাহত আছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাজ্জাদের বিষয়েও ইন্টারপোলের মাধ্যমে কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনায়েত কাউছার বলেন, বড় সাজ্জাদের দুজন সহযোগী রায়হান আলম ও বোরহান উদ্দিনকে ধরতে পারলে পুরো চেইন ভেঙে যাবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, ইমন গ্রেপ্তারের চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকেছিলেন এবং পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে আবার ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
ডেভিড ইমন ধরা পড়লেও রায়হান আলম মঙ্গলবার একই রাতে নোয়াখালীর অভিযানে ফসকে যাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, তারা রায়হানকে একটুর জন্য ধরতে পারেননি, তবে তিনি এখনো তাদের নজরদারির আওতায় আছেন এবং শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
.png)

রাজধানীর মিরপুর কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির চারদিক দেয়ালে ঘেরা। বহু বছরের পুরোনো ও দুর্বল এই সীমানাপ্রাচীর ধসেই মারা গেছেন ৩ জন। মারা যাওয়া তিনজনই ছিলেন পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তি। তাদের হারিয়ে পথে বসতে চলেছে এসব পরিবার।
২২ মিনিট আগে
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ‘গুপ্ত দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাটে ‘জুলাই পথযাত্রা’ শেষে পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।
৩৮ মিনিট আগে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা কোটি টাকার ১০১ কার্টন নিষিদ্ধ পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২ ঘণ্টা আগে
প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। গত ২৭ মে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে তিন শর্তে সোমবার (২৭ জুলাই) লাইসেন
৩ ঘণ্টা আগে