ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হিসেবে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকাকে দায়ী করছে জামায়াত ইসলামী। পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতার কথাও বলছে দলটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক ব্রিফিংয়ে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানান।
দেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকায় নারী প্রতিনিধিত্ব থাকলেও জামায়াতে ইসলামী এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। অথচ দলটির দাবি, তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় নারী সদস্য ও নেত্রীরা রয়েছেন।
এই বৈপরীত্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, প্রথম বিষয় হলো নারী প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা। জুলাই সনদে নারীদের জন্য ৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের কথা থাকলেও তা বর্তমানে বাধ্যতামূলক নয় এবং সেটি উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ ছাড়া তা কার্যকর হবে আসন্ন গণভোটে পাসের পর। ফলে বর্তমানে নারী প্রার্থী না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি চাপ নেই।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াত তৃণমূল থেকে পরামর্শ নিয়ে প্রার্থী ঠিক করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত মানা বাধ্যতামূলক হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা নয়। একজন নারী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তিনি নির্বাচন করবেন কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নীতিগত অবস্থানের ফলেই দলটি নারীদের ওপর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো চাপ প্রয়োগ করেনি। তৃণমূল থেকেও এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থীর জোরালো প্রস্তাব আসেনি।
অ্যাডভোকেট জুবায়েরের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এখনও নারীদের জন্য পুরোপুরি সহায়ক নয়। নিরাপত্তা, চলাচল ও পারিবারিক চাপের কারণে অনেক নারী রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হন না।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের জানান, নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে জামায়াত সংস্কার প্রস্তাবের কথাও বারবার তুলে ধরছে। যেমন—ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কার প্রস্তাবে নয়জন সদস্যের সঙ্গে নয়জন নারী সদস্য রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জামায়াতের নারী প্রার্থীও দেখা যাবে।