জুলাইয়ের পরও কেন রক্ত দিতে হবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১০
ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্ট্রিম ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস, হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা ছিল। জুলাইয়ে আমরা এত রক্ত দিলাম। তারপরও রাজনীতির জন্য কেন আরও রক্ত দিতে হবে? আমরা তো আশা করেছিলাম, রক্ত দেওয়া ওখানেই শেষ হবে। রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে।

শনিবার (১১) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহত জামায়াতকর্মী সিরাজুল ইসলামকে দেখে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। আমার আদর্শ আমার কাছে; অন্যজনের আদর্শ তাঁর কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি; আরেকজনেরও তাঁর আদর্শ ভালোবাসার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ বলবে, হাত চলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে, অভদ্রভাবে নয়।

তিনি বলেন, শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ভয়াবহ সন্ত্রাস হয়েছে। এ রকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে। আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় জামায়াতের উপজেলা সেক্রটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন আহত হন, যারা এখনো চিকিৎসাধীন।

শফিকুর রহমান বলেন, ৯ এপ্রিলের নির্বাচনেও একজন বয়স্ক মানুষকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আঘাত একটা হলেও গুরুতর। তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে এখন জ্ঞান ফিরেছে। আমাদের কাছে প্রথমে খবর ছিল– তিনি ইন্তেকাল করেছেন, আমরা সংসদেও সে কথা বলেছি। আল্লাহর শুকরিয়া তাঁর হায়াত রয়েছে।

তিনি বলেন, যারা সংসদে যাবেন, তারাই যদি মানুষ খুন করেন, তাহলে দেশবাসীর জন্য কী করবেন? মানুষের জীবন নিয়ে আমার পার্লামেন্টে যেতে হবে কেন? আমি তো যাব মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হয়ে। সেই আমার হাতেই যদি জীবন চলে যায়, ইজ্জত চলে যায়, সম্পদ ধ্বংস হয়, তাহলে আমি তো আসলেই এই ধরনের প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা রাখি না।

জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতেও বহু নির্বাচন রয়েছে। গণতান্ত্রিক একটি দেশের কাঠামো নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল। সেই নির্বাচনে যেন আর কোনো সহিংসতা না হয়, আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো বোন যেন বিধবা না হয়, কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, আদর্শের লড়াই হোক। হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়।

সম্পর্কিত