জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ২০: ২৭
চাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদল ৮ দফা ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদল ৮ দফা ও ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরেে আলাদা সময়ে নিজ নিজ ইশতেহার প্রকাশ করে সংগঠন দুটি।

দুপুর ৩টায় ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহার ঘোষণার আগে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের ইশতেহার জানার জন্য অনেক আগ্রহী ছিল। ইশতেহার তৈরির আগে আমরা শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ভাবনাই আমাদের ইশতেহার। শিক্ষার্থীদের দাবির আলোকেই আমাদের ৮ দফা ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। আমরা ইশতেহার বাস্তবায়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব। '

ইশতেহারে থাকা ছাত্রদলের ৮ দফা হলো—শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, মানসম্মত খাদ্য ও আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস ও নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পরিবহন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাহিত্য সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম সমৃদ্ধকরণ ও ক্যারিয়ার গঠনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

এর আগে, দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট প্যানেল '১২ মাসে ৩৩ সংস্কার বাস্তবায়নের ইশতেহার’ ঘোষণা করে। প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী ইব্রাহীম রনি ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারের ৩৩ দফায় রয়েছে— আবাসন সংকট নিরসন ও উন্নয়ন, শাটলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন, নিরাপদ বাস সার্ভিস, সুলভ মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ, সেশনজট নিরসন করা, কটেজ-মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সুবিধা, নিয়মিত চাকসু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত ক্যাম্পাস বিনির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও নারীবান্ধব কমনরুম।

‘যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, গবেষণায় উৎসাহ ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীবান্ধব লাইব্রেরি, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, গ্রিন ক্যাম্পাস, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস, হল ও ফ্যাকাল্টিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, প্রেয়ার রুম উন্নয়ন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার বিকাশ ও সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার।’

এছাড়াও অটোমেশন পদ্ধতি চালুকরণ, উচ্চশিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষাবৃত্তি, টিএসসি ও সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম নির্মাণ, শরীরচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি, লিগ্যাল এইড সেল গঠন, অফিসিয়াল ই-মেইলের সহজলভ্যতা, অ্যালামনাইদের সঙ্গে সমন্বয়, মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল ও অন-ক্যাম্পাস জব।

অন্যদিকে ঘোষিত ইশতেহারের মধ্যে ৯টি ফোকাস পয়েন্ট রেখেছে প্যানেলটি। ফোকাস পয়েন্টগুলো হলো— আবাসন, যাতায়াত, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, নিরাপদ ও গ্রিন ক্যাম্পাস, সেশনজট, অটোমেশন, শিক্ষা গবেষণা ও ক্যারিয়ার, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস, ওয়েলফেয়ার কার্যক্রম।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে ইব্রাহীম রনি বলেন, 'আমরা ৩৩টি বিষয় সংস্কারকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাগুলো ইশতেহারে তুলে ধরেছি। আমরা ১২ মাসে ৩৩ দফা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব। '

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত