ভারতে মুসলিমরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন: ডা. শফিকুর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৭: ১৩
জামায়াতের জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মুসলিমরা সব সময় জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সব সময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) জামায়াতের জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে গত ২ জুলাই এই শিক্ষা শিবির শুরু হয়েছিল বলে জামায়াতের প্রচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই। এই সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। মানুষের সারা জীবনের সুনাম ও অর্জন একটি ছোটো-খাটো দুর্ঘটনা ম্লান করে দিতে পারে বলেও শিক্ষা শিবিরের ডেলিগেটদের স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে আমাদের সংগঠনের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসেছে। অন্যদিকে, ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নন। তারা সব সময় জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সব সময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা। মুসলিমরা সার্বজনীন গোষ্ঠী। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তাদেরই বলা হয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সংরক্ষিতসহ আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল– তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত দলকে দায়িত্ব দেবে; যারা সমাজকে দুর্নীতি মুক্ত করবে। জামায়াতই একটি দল যারা, এর উপযুক্ত। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য যদি হয় জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা, তাহলে আমাদের ব্যাপ্তি দুনিয়া পর্যন্ত। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে ব্যাপ্তি আখিরাত পর্যন্ত। যিনি দেশ চালানোর সক্ষমতা রাখেন, তাঁর হক গোটা দেশের। দেশের অভ্যন্তরে থাকা পশুত্ব দমনের আগে নিজের ভেতরের পশুত্ব দমন করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজ থেকে ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করে নিতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্নদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হালাল উপার্জন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদের বাছাই করতে হবে। এর মাধ্যমে সেখানে দায়িত্বশীল তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় শিক্ষা শিবিরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত