৫৪ বছরেও স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি: শফিকুর রহমান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ২১: ২৮
জাতীয় সংসদে কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্ক্রিনশট নেওয়া ছবি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রম করলেও স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক নির্ধারিত আলোচনার বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ৫ আগস্টে ঐতিহাসিক পরিণতি লাভ করে। এই আন্দোলনে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী নয় বরং কৃষক, শ্রমিক, মাঝি, মজুর থেকে শুরু করে কোলের শিশু নিয়ে মায়েরা পর্যন্ত রাস্তায় নেমেছিলেন। ৪ বছরের শিশুও এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘এত রক্তের বিনিময়ে মানুষ চায়—ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সকল নাগরিক সমান অধিকার পাবে এমন দেশ কায়েম করতে চায়। এই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছেন।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হবে এবং সেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। দুঃখের বিষয় হলো, অতীতে মানুষের সেই ভোটের অধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হত্যা করা হয়েছে।’

গণতন্ত্রের সংকটকাল তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রথম যে সরকার গঠিত হয়েছিল, তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ পেলেও পরবর্তীতে সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়ে গেলে জনগণের ভোটের কোনো মূল্য থাকে না। এভাবেই গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল, তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ‘ডামি’ ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। তাঁদের ১৫ বছরের দুঃশাসনে রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। এই সময়ে ২ হাজার ৬৬২ জন মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে।’

সম্পর্কিত