leadT1ad

ফেনী-২

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত উন্নয়ন চান ফেনীবাসী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফেনী

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ০৭
স্ট্রিম গ্রাফিক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনী-২ (সদর) আসনে নির্বাচনি আমেজ তুঙ্গে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক আর জনসেবার নানা অঙ্গীকারে মুখর এখন ফেনী সদর। তবে ভোটাররা বলছেন, তারা শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত একটি মানবিক সমাজ ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন চান।

ফেনী-২ আসনে এবার লড়াই করছেন মোট ১১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) ও এবি পার্টির মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জাসদ, বাসদ, খেলাফত মজলিসসহ আরও বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধারে একাট্টা হলেও জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনি সমীকরণে ভাগ বসাতে চাইছেন। প্রার্থীরা দিন-রাত নির্ঘুম প্রচারণা চালিয়ে নদীভাঙন রোধ, মাদক নির্মূল এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের আশ্বাস দিচ্ছেন।

নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা উন্নয়নের বড় বড় কথা বললেও জয়ী হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়—এমনটাই মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনী জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জয়লাভের পর প্রার্থীর অর্থনৈতিক অবস্থা বদলালেও ভোটারদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। অতীতে বেকারত্ব ও সন্ত্রাস দমনের অঙ্গীকার এলেও বাস্তবে তা বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্বাস্থ্য খাতের নৈরাজ্যে মানুষ নাজেহাল।’

ফেনী শাহীন একাডেমির শিক্ষক ওয়াজি উল্যাহ মনে করেন, প্রার্থীদের উচিত অবাস্তব প্রতিশ্রুতি না দিয়ে রাষ্ট্রের বাজেট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে কথা বলা। তিনি বলেন,‘“প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কঠিন। মানুষ এখন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দেখতে চায়।’

বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবদিন বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। ফেনীতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।”

এবি পার্টির নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা সংস্কারের জন্য কাজ শুরু করেছি। ফেনীর উন্নয়নে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মাদক নির্মূল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেব।’

ফেনী-২ আসনের ভোটারদের দাবি, যিনি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে সুশাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, তাকেই তারা বেছে নেবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে ৩ লাখের বেশি ভোটারের রায় কার পক্ষে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত