জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৮ ফেব্রুয়ারি, বাড়ছে পরিসর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব থেকে উঠে আসাদের নিয়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় এনসিপি। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে দলটি ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেই কাউন্সিল করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এনসিপি। ডান, বাম, ইসলামপন্থী ও নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে গড়ে ওঠা মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক দলটি তাদের পরিসর আরও বড় করতে চলেছে। এ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশপন্থী’ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় নেতারা আলোচনা করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশসহ (আপ-বাংলাদেশ) বাংলাদেশপন্থী যেসব প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, এনসিপিতে যুক্ত করার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যে কাউন্সিল হবে, সেখানে এ বিষয়ে বড় চমক থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন এই মুখপাত্র।

এ ব্যাপারে আপ-বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে বলেন, এনসিপির সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি, আমরা একসঙ্গে কাজ করলে ভবিষ্যতের জন্য ভালো কিছু হবে।

সিটি করপোরেশন ও ইউপি নির্বাচনে লড়বে এনসিপি

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের পরিকল্পনা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এনসিপি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানায়। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনগুলোতে তড়িঘড়ি করে দলীয় ‘তোষামোদকারী’ প্রশাসক নিয়োগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ সময় এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি এক বছর পূর্ণ করছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়জনের নির্বাচিত হওয়া দলের জন্য বড় অর্জন। আমরা সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী দেব।

তিনি বলেন, আমরা ১২ সিটি করপোরেশন, ৪৯৫ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শুধু দলীয় নেতাকর্মী নন, আমরা চাই সৎ ও যোগ্য চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষ আগামীর জনপ্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসুক। যোগ্য কেউ যদি অন্য রাজনৈতিক দলে অবমূল্যায়িত হন, তাদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা থাকবে।

সরকারের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ছয় সিটি করপোরেশনে যেভাবে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্তর্বর্তী সরকার যে আইনটি বিশেষ পরিস্থিতিতে করেছিল, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেই সেটির অপব্যবহার করে নিজেদের বঞ্চিত ও পরাজিত প্রার্থীদের ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দিয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকদের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ উল্লেখ নেই, যা চরম অস্বচ্ছতার পরিচয় দেয়। অবিলম্বে স্থানীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট টাইমলাইন বা রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান আসিফ মাহমুদ।

সরকার ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে

গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের রেইড এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার রেইডের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। এটি নতুন বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থী। কারও যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দেওয়া বা সংবিধান প্রদত্ত কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে হান্নান মাসউদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের প্রাথমিক লক্ষ্য ও প্রতিনিধি দল গঠনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত