গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

শুক্রবার রাজধানীতে লক্ষাধিক জনতার জমায়েতের প্রস্তুতি মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ছবি: খেলাফত মজলিসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীতে গণসমাবেশ করতে যাচ্ছে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ১১ দলের শীর্ষ সব নেতাই সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এর বাইরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের শরিক জমিয়ত নেতাদেরও।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। সুশাসন বা গণভোট নিয়ে কথা বলতে রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও থাকবেন।

শুক্রবার সমাবেশ শুরু হবে জুমার নামাজের পর দুপুর ২টা থেকে। শেষ হবে সাড়ে ৫টার মধ্যে। সমাবেশের মাঠেই আসরের নামাজ আদায় করা হবে।

সমাবেশের আয়োজক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, লাখো জনতার এ সমাবেশে জোট শরিকদের বাইরে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জালালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখা অন্য আরও কয়েকটি দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছা থাকলেও তাদের কেউ কেউ বিএনপি সরকারে থাকায় বিব্রতবোধ করতে পারেন বিধায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এক মাসের প্রস্তুতি

শুক্রবারের সমাবেশের ঘোষণা এসেছিল গত ৭ মার্চ রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। ওই দিন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক থেকে সমাবেশের ঘোষণা দেন মামুনুল হক। ওই সময় গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনা ‘জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠক থেকে সারা দেশের নেতাকর্মীদের সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বুধবার বিকেলে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, ঘোষণার পরে একই দাবিতে ১১ দলের উদ্যোগে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। লিফলেট বিতরণ, সেমিনার আয়োজনসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তবে মাঝখানে পবিত্র রমজান মাস আর ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় গণসমাবেশের প্রস্তুতিতে মাসখানেক সময় পাওয়া গেছে।

থাকবে ২ শ মাইক, ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী

সমাবেশ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমদ স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে মৎস ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকবে। এসব এলাকায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবী সক্রিয় থাকবেন। ঢাকার বাইরের ছোট গাড়ি উদ্যানের ভেতরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর সমাবেশ এলাকায় ২ শ মাইক বসানো হবে।

ফয়সল আহমদ বলেন, ‘এডিসি ট্র্যাফিক ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। এর বাইরেও পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’

দলটির শীর্ষ এই নেতা জানান, সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রতি জেলায় কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা সফর করেছেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসবেন। প্রতিটি জেলা থেকেই কিছু বাস আসবে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বাস সংকট থাকায় প্রত্যাশিত মাত্রায় যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা বেশি আসবেন।

পরিবহন সংকটের কারণে রাজধানীর আশেপাশে জোর

জ্বালানি সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সমাবেশে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে গত ১৫ দিন ধরে প্রচারণা চালানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ স্ট্রিমকে বলেন, ১১ দলের বাইরে আমরা ইসলামী আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকেও দাওয়াত করেছি। এর বাইরে যারা আছে তাদেরও আমরা দাওয়াত দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দাওয়াত করলে তারা বিব্রতবোধ করবেন ভেবে করা হয়নি। আর ব্যারিস্টার আবু হেনা রাজ্জাক, শিশির মনির, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মতো পেশাজীবীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কম করে হলেও লক্ষাধিক লোক জমা করার। কিন্তু কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সারাদেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পরিবহনখাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মানে পর্যাপ্ত পরিবহন নাই। তাছাড়া পরিবহন ভাড়াও বেড়ে গেছে। এসব কারণে সমাবেশে আসতে ইচ্ছুকদের কষ্টে পড়তে হতে পারে। অনেক দূর থেকে লোকজন আসবে। দেখা যাবে, যেখান থেকে এক হাজার লোক আসার কথা, পরিবহন সংকটের কারণে হয়তো কম আসবে। এ কারণে আমরা ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশকে জোর দিচ্ছি।

সমাবেশ থেকে বার্তা দেওয়া হবে

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি না মানা পর্যন্ত রাজপথে নতুন নতুন আন্দোলন নিয়ে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন খেলাফত নেতারা।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনড় থাকব। পৃথিবীতে গণভোট অনেক জায়গায় হয়েছে। এই বাংলাদেশেও আরও তিনবার গণভোট হয়েছে। জিয়াউর রহমান সাহেবের আমলেও গণভোট হয়েছে। কোনো সময় গণভোট বাতিল বা ল্যাপস হয় নাই। কিন্তু এই সরকার যারা গণভোটের পক্ষে কথা বললেন, হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট চাইলেন, আজকে তারা সংসদে টু-থার্ড মেজোরিটির পাওয়ারে পুরা ইউ-টার্ন করে ফেললেন। ৭০ পার্সেন্ট জনগণের রায়কে বৃথা যেতে আমরা দেব না।’

সম্পর্কিত