রায়হান রাহিম

ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৭ ৷ বাংলাদেশের বিনোদন জগতের আকাশ-বাতাস ভারী হয়া আছে সেলিব্রেটি কাপল তাহসান-মিথিলার বিচ্ছেদের কালো মেঘে৷ কেউ বিশ্বাসই করতে পারতেছে না এরকম একটা পারফেক্ট কাপল আলাদা হয়ে যাইতে পারে ৷ তখন ফেসবুকের নানান দীর্ঘশ্বাস মাখা পোস্টে বিজিএম হিসেবে তাহসানের কোনো দুঃখের গান জিনিসটারে এবস্যুলুট ট্রাজেডি হিসেবে হাজির করছিল আমাদের সামনে ৷
ফাস্ট ফরওয়ার্ড ২০২৬ ৷ গতকাল রাতে আবারও খবর এল তাহসান আবারও সিঙ্গেল লাইফের পথে । কিন্তু এইবার? এইবার অডিয়েন্সের হাতে টিস্যু তো নাইই, আছে কেবল মিম টেমপ্লেটের বিশাল ভান্ডার । নিউজফিডে কোন শোক নাই, কেবল রোস্ট আর মিমের বন্যায় ভাইসা যাচ্ছে প্রতিটা মানুষ ৷ কেউ পোস্ট দিতেছেন, ‘ ইফতার করলেন তাহসান।’ আর কেউ বিড়ালের হা করা ছবি দিয়া মিম বানাইতেছেন : ‘আয়হায়, রোজা শুরু হওয়ার আগেই তাহসানের রোজা শেষ হয়া গেলো!’

কিন্তু ঘটনা কী? মাত্র নয় বছরে কী এমন ঘটল যে আমাদের সেই স্যাড প্রিন্স আজ জেনজির কাছে কেবলই একটা মিম টেমপ্লেট হয়া উঠল? উত্তরটা লুকায়ে আছে আমাদের মিডিয়া কনজাম্পশন আর সেলিব্রেটি কালচারের অদ্ভুত বিবর্তনের মধ্যে । চলেন একটু পপ ফিলোসফির লেন্স দিয়া তাহসানের এই মিম ফেনোমেননরে কাঁটাছেড়া করি ৷

কার্ল মার্ক্সরে কি এই আলোচনায় টানা ঠিক হইতেছে? জানি না। তবে আমার কেন জানি মনে হয়, মার্ক্স যদি ২০২৬ এর বাংলাদেশে বাঁইচা থাকতেন আর তাহসানের রিলেশনশিপ টাইমলাইন ফলো করতেন, উনি শিওর উনার সেই বিখ্যাত কোটটা হালকা এডিট মেরে বলতেন: 'হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ: প্রথমবার ট্র্যাজেডি হিসেবে, আর দ্বিতীয়বার... মিম হিসেবে!'

২০১৭ সালে পাবলিক তাহসানরে নিয়া যে সহানুভূতির বন্যা ভাসায় দিছিল, এইবার সিনপাট কিন্তু একদম ডিফারেন্ট। মনে হইতেছে পাবলিকের সিম্প্যাথি ব্যাংক অফিশিয়ালি দেউলিয়া হয়া গেছে। কিন্তু কেন?
কারণটা মেবি অডিয়েন্স শিফট। তাহসানের ম্যাক্সিমাম ফ্যানবেজ হলো মিলেনিয়ালরা। এরা তাহসানকে চেনে ব্ল্যাক ব্যান্ড থিকা ৷ ঈর্ষা, প্রেমমাতাল বা আলোর লিরিক্সে বা অফবিট নানান ইউটিউব নাটক দিয়ে। কিন্তু সমস্যা হইলো, ইন্টারনেটের ভাইরালিটি কন্ট্রোল এখন আর মিলেনিয়ালদের হাতে নাই। তারা জেনারেলি এখন সংসার, বাচ্চার প্যাম্পার আর ক্রনিক ব্যাকপেইন সামলাইতে ব্যস্ত।
ইন্টারনেটের ড্রাইভিং সিটে এখন আইসা বসছে জেনজিরা । আর জেনজির কাছে তাহসানের এই চিরস্থায়ী বিরহী বা সাফারিং হিরোর ব্যাপারটা মোটেই রোমান্টিক না, বরং অনেকটাই ক্রিঞ্জ বা সিম্প বিহেভিয়ারে আইসা ঠেকছে।
মিলেনিয়ালরা যেখানে টিস্যু খুঁজত, জেনজি সেখানে মিম টেমপ্লেট খোঁজে। তাই এই নতুন অডিয়েন্স আর ইমোশন দিয়ে না, খেলতেছে শব্দ বা Pun দিয়ে। তাহসানের সদ্য-সাবেক সঙ্গীর নাম ‘রোজা’ হওয়াই যেন নেটিজেনদের জন্য ঈদের চাঁদ পাওয়ার মতো ঘটনা। ফলে একটা সিরিয়াস ব্রেকআপ নিউজ এখন আর নিউজ না থেকে হয়া উঠেছে একটা দুর্দান্ত লিঙ্গুইস্টিক জোক।

ফলে যখন কেউ লেখে ‘ইফতার করলেন তাহসান’ বা ‘রোজা ভাঙলেন তাহসান’—তখন বুঝবেন, পাবলিক আসলে তাহসানকে অ্যাটাক দিতেছেনা; পাবলিক জাস্ট নামের মিল পেয়ে ওয়ার্ডপ্লের লোভ সামলাইতে পারতেছে না। ট্র্যাজেডি যখন কমেডি হয়, তখন সেটা আর ব্যক্তির থাকে না, পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যায়!

দ্য হলিউড হাইব্রিড থিয়োরি
ইন্টারনেট বড়ই নির্মম জায়গা। এই জায়গাটা আপনার সযত্নে গইড়া তোলা ইমেজের মেকআপ ধুইয়া মুইছা আসল প্যাটার্নটা বাইর কইরা আনে। আর এই প্যাটার্ন খুঁজতে গিয়াই নেটিজেনরা আবিষ্কার করছেন এক অদ্ভুত সত্য ৷ আর সেই সত্য হইলো, তাহসান হইতেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং টেইলর সুইফটের এক হাইব্রিড সংস্করণ (ডোন্ট কিল মি প্লিজ)।
প্রথমত, ডিক্যাপ্রিও এঙ্গেলটা দেখবো।

হলিউডের ডিক্যাপ্রিও যেমন ২৫ বছরের কম বয়সী সঙ্গিনীদের সঙ্গে ডেটিং এবং নির্দিষ্ট সময় পর রিপ্লেসমেন্ট আনার জন্য কুখ্যাত, নেটিজেনরা তাহসানের রিলেশনশিপ গ্রাফেও হুবহু সেই লুপ খুঁইজা পাইছেন। গতকাল রাতে একটা মিম ভাইরাল হইছে যেইখানে দেখলাম মিথিলার সেই আইকনিক টিভি বিজ্ঞাপনের সংলাপ—‘ও, আমি পুরনো হয়ে গেছি, না?’ এর ওপর রোজার মুখ বসায় দেওয়া হইছে।

এই একটা মিম তাহসানের মাসুম প্রেমিক ইমেজের প্রতি একটা স্ট্রং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হিসেবে দেখতেছি! পাবলিক ইনডিরেক্টলি বলার ট্রাই করতেছে, তাহসান হয়তো সম্পর্কের চেয়ে আপডেট ভার্সন খুঁজতেই বেশি পছন্দ করেন।
কিন্তু এইখানেই শেষ না। ঠিক এই পয়েন্টেই এন্ট্রি নিতেছে ফেমাস টেইলর সুইফট সিনড্রম ৷
পশ্চিমা পপ কালচারে একটা আলাপ আছে, 'যদি তোমার সব এক্সই খারাপ হয়, তবে সমস্যাটা হয়তোবা তোমারই!'
তাহসানের ক্ষেত্রে বাজারে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, উনি ঠিক টেইলর সুইফটের মতোই তার ভদ্রলোক ইমেজ এবং মার্জিত নীরবতা দিয়া প্রতিবার নিজেরে ভিক্টিম এবং অপরপক্ষরে ভিলেন বানায় ফেলেন। সুইফট যেমন ব্রেকআপরে গানে কনভার্ট কইরা গ্র্যামি বগলদাবা করেন, তাহসানও তেমনি তার বিরহ বেইচা টিভিসি আর নাটকের টিআরপি বাড়ান।

এই জন্যই হয়তো বা অডিয়েন্স তাহসানের নয়া ব্রেকআপের খবর শুইনা টোটালি কনফিউজড এবং স্যাটায়ারিক্যাল মুডে আছে । প্রশ্ন উঠতেছে, এই যে বারবার রিপ্লেসমেন্ট এবং তারপর সেইটা নিয়া আর্ট বানানো (বেইলি রোডের দুঃখগাঁথা)— এইটা কি আসলেই পরিস্থিতির শিকার হইবার ঘটনা, নাকি এইটা তার পার্সোনার একটা গ্ল্যামারাস ট্র্যাজেডি? বা তাহসান কি আসলেই দুঃখী, নাকি তিনি স্যাড বয় লুপের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন?
কারণ দিনশেষে আমরা সবাই জানি, ইন্টারনেট কালচারে ‘হার্টব্রেক সেলস’!

দর্শকদের কাছে তাহসানের জীবনটা এখন মার্ভেলের মাল্টিভার্সের মতো। সমস্যা হইলো, অডিয়েন্স এখনো স্যাক্রেড টাইমলাইন (মিথিলা পর্ব) থিকা বের হইতে পারেন নাই। তারা এখনো এন্ডগেমের আগের যুগে পইড়া আছেন।
তাই তো যখন স্যাটায়ার নিউজের হেডলাইন আসে—‘Reports now suggest Roza and Mithila are deeply connected’ বা মিথিলার তান্ত্রিক ইমেজের সাথে রোজা-তাহসানের ব্রেকআপ কানেকশন খোঁজা হয়, তখন পাবলিক সেইটা শেয়ার কইরা হাসতে হাসতে গড়ায়ে পড়ে।
কেন? কারণ, পাবলিকের কাছে তাহসানের বর্তমান পার্টনারদের কোনো আলাদা বা স্বতন্ত্র সত্তা নাই। দর্শকের সাবকনশাস মাইন্ডে তাহসান হইলেন সেই হিরো, যার জীবনে মিথিলা হইতেছেন ‘আদি ও আসল’ নায়িকা, আর বাকিরা সব মাল্টিভার্সাল ভ্যারিয়েন্ট।
সোজা বাংলায়, দর্শকরা এখনো নস্টালজিয়ায় ভুগতেছেন। তারা রোজার মধ্যেও মিথিলার ছায়া খুঁজতেছেন, যেন পুরা ব্যাপারটা একটা লুপ। ফিলোসফির ভাষায় এইটারে বলে ‘প্যারা-সোশ্যাল হন্টোলজি’, যার মানে হইলো অতীতের ভূত বর্তমানরে তাড়া কইরা বেড়াইতেছে।
তাহসান হয়তো মুভ অন করছেন, কিন্তু তার ফ্যানরা এখনো সেই ২০১৭ সালের ব্রেকআপ ভূতের আছরেই আটকায় আছে!
আর ছোট্ট দুয়েকটা আলাপ কইরা লেখাটা শেষ করবো ৷ তো শেষমেশ এই ডিজিটাল মিম ফেস্টিভ্যালের বটম লাইনটা কী?
আমার কাছে মনে হয়, তাহসান এখন আর আমাদের কাছে রক্তমাংসের মানুষ না, তিনি হইলেন‘ দ্য ট্রুম্যান শো’ মুভির সেই ট্রুম্যান বারব্যাঙ্ক, যার পুরা জীবনটাই দর্শকদের জন্য সাজানো একটা রিয়্যালিটি শো।

আমরা এখন আর তাহসানের গান বা নাটক আসার ওয়েট করি না ৷ আমরা ওয়েট করি তাঁর লাইফের নতুন প্লট টুইস্টের জন্য। তিনি প্রেম করলে আমরা শিপ করি, বিয়ে করলে বিচার করি আর ব্রেকআপ করলে মিম বানাই। তার বিষাদ এখন আর আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে না, বরং আমাদের নিউরনে ডোপামিনের ঝটকা দেয়। কারণ, ডিজিটাল যুগের গোল্ডেন রুল হইলো 'Tragedy is boring, unless it's Memeable.'
তাহসান হয়তো ভাবেন তিনি তাঁর লাইফ লিড করতেছেন, কিন্তু তাঁর বিচ্ছেদ ঘোষণার পর যে কাহিনি দেখতেছি নিউজফিডে, মনে হইতেছে যেনবা তাঁর এক্সিজটেন্স কেবল আমাদের নিউজফিডের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর একটা ঘটনা। স্পেশালি গতকালের পর থিকা, তিনি শ্বাস ফেললেও নিউজ হইতেছে ৷ কন্টেন্ট কিং হিসেবে তাহসানের এই ট্রান্সফর্মেশন প্রমাণ করতেছে আমাদের বাংলাদেশি পপ কালচারে তাহসান কতটা অপরিহার্য এক নাম ৷
তাই তাহসানরে সবিনয় বিনীত নিবেদনে বলতে চাই, 'ভাই আপনি গান গান বা নাটক করেন, ব্রেকআপ করেন বা মোটিভেশনাল স্পিকার হন, আমাদের কোন প্যারা নাই ৷ খালি স্ক্রিপ্টটা হালকা ইন্টারেস্টিং রাইখেন' xD

ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৭ ৷ বাংলাদেশের বিনোদন জগতের আকাশ-বাতাস ভারী হয়া আছে সেলিব্রেটি কাপল তাহসান-মিথিলার বিচ্ছেদের কালো মেঘে৷ কেউ বিশ্বাসই করতে পারতেছে না এরকম একটা পারফেক্ট কাপল আলাদা হয়ে যাইতে পারে ৷ তখন ফেসবুকের নানান দীর্ঘশ্বাস মাখা পোস্টে বিজিএম হিসেবে তাহসানের কোনো দুঃখের গান জিনিসটারে এবস্যুলুট ট্রাজেডি হিসেবে হাজির করছিল আমাদের সামনে ৷
ফাস্ট ফরওয়ার্ড ২০২৬ ৷ গতকাল রাতে আবারও খবর এল তাহসান আবারও সিঙ্গেল লাইফের পথে । কিন্তু এইবার? এইবার অডিয়েন্সের হাতে টিস্যু তো নাইই, আছে কেবল মিম টেমপ্লেটের বিশাল ভান্ডার । নিউজফিডে কোন শোক নাই, কেবল রোস্ট আর মিমের বন্যায় ভাইসা যাচ্ছে প্রতিটা মানুষ ৷ কেউ পোস্ট দিতেছেন, ‘ ইফতার করলেন তাহসান।’ আর কেউ বিড়ালের হা করা ছবি দিয়া মিম বানাইতেছেন : ‘আয়হায়, রোজা শুরু হওয়ার আগেই তাহসানের রোজা শেষ হয়া গেলো!’

কিন্তু ঘটনা কী? মাত্র নয় বছরে কী এমন ঘটল যে আমাদের সেই স্যাড প্রিন্স আজ জেনজির কাছে কেবলই একটা মিম টেমপ্লেট হয়া উঠল? উত্তরটা লুকায়ে আছে আমাদের মিডিয়া কনজাম্পশন আর সেলিব্রেটি কালচারের অদ্ভুত বিবর্তনের মধ্যে । চলেন একটু পপ ফিলোসফির লেন্স দিয়া তাহসানের এই মিম ফেনোমেননরে কাঁটাছেড়া করি ৷

কার্ল মার্ক্সরে কি এই আলোচনায় টানা ঠিক হইতেছে? জানি না। তবে আমার কেন জানি মনে হয়, মার্ক্স যদি ২০২৬ এর বাংলাদেশে বাঁইচা থাকতেন আর তাহসানের রিলেশনশিপ টাইমলাইন ফলো করতেন, উনি শিওর উনার সেই বিখ্যাত কোটটা হালকা এডিট মেরে বলতেন: 'হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ: প্রথমবার ট্র্যাজেডি হিসেবে, আর দ্বিতীয়বার... মিম হিসেবে!'

২০১৭ সালে পাবলিক তাহসানরে নিয়া যে সহানুভূতির বন্যা ভাসায় দিছিল, এইবার সিনপাট কিন্তু একদম ডিফারেন্ট। মনে হইতেছে পাবলিকের সিম্প্যাথি ব্যাংক অফিশিয়ালি দেউলিয়া হয়া গেছে। কিন্তু কেন?
কারণটা মেবি অডিয়েন্স শিফট। তাহসানের ম্যাক্সিমাম ফ্যানবেজ হলো মিলেনিয়ালরা। এরা তাহসানকে চেনে ব্ল্যাক ব্যান্ড থিকা ৷ ঈর্ষা, প্রেমমাতাল বা আলোর লিরিক্সে বা অফবিট নানান ইউটিউব নাটক দিয়ে। কিন্তু সমস্যা হইলো, ইন্টারনেটের ভাইরালিটি কন্ট্রোল এখন আর মিলেনিয়ালদের হাতে নাই। তারা জেনারেলি এখন সংসার, বাচ্চার প্যাম্পার আর ক্রনিক ব্যাকপেইন সামলাইতে ব্যস্ত।
ইন্টারনেটের ড্রাইভিং সিটে এখন আইসা বসছে জেনজিরা । আর জেনজির কাছে তাহসানের এই চিরস্থায়ী বিরহী বা সাফারিং হিরোর ব্যাপারটা মোটেই রোমান্টিক না, বরং অনেকটাই ক্রিঞ্জ বা সিম্প বিহেভিয়ারে আইসা ঠেকছে।
মিলেনিয়ালরা যেখানে টিস্যু খুঁজত, জেনজি সেখানে মিম টেমপ্লেট খোঁজে। তাই এই নতুন অডিয়েন্স আর ইমোশন দিয়ে না, খেলতেছে শব্দ বা Pun দিয়ে। তাহসানের সদ্য-সাবেক সঙ্গীর নাম ‘রোজা’ হওয়াই যেন নেটিজেনদের জন্য ঈদের চাঁদ পাওয়ার মতো ঘটনা। ফলে একটা সিরিয়াস ব্রেকআপ নিউজ এখন আর নিউজ না থেকে হয়া উঠেছে একটা দুর্দান্ত লিঙ্গুইস্টিক জোক।

ফলে যখন কেউ লেখে ‘ইফতার করলেন তাহসান’ বা ‘রোজা ভাঙলেন তাহসান’—তখন বুঝবেন, পাবলিক আসলে তাহসানকে অ্যাটাক দিতেছেনা; পাবলিক জাস্ট নামের মিল পেয়ে ওয়ার্ডপ্লের লোভ সামলাইতে পারতেছে না। ট্র্যাজেডি যখন কমেডি হয়, তখন সেটা আর ব্যক্তির থাকে না, পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যায়!

দ্য হলিউড হাইব্রিড থিয়োরি
ইন্টারনেট বড়ই নির্মম জায়গা। এই জায়গাটা আপনার সযত্নে গইড়া তোলা ইমেজের মেকআপ ধুইয়া মুইছা আসল প্যাটার্নটা বাইর কইরা আনে। আর এই প্যাটার্ন খুঁজতে গিয়াই নেটিজেনরা আবিষ্কার করছেন এক অদ্ভুত সত্য ৷ আর সেই সত্য হইলো, তাহসান হইতেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং টেইলর সুইফটের এক হাইব্রিড সংস্করণ (ডোন্ট কিল মি প্লিজ)।
প্রথমত, ডিক্যাপ্রিও এঙ্গেলটা দেখবো।

হলিউডের ডিক্যাপ্রিও যেমন ২৫ বছরের কম বয়সী সঙ্গিনীদের সঙ্গে ডেটিং এবং নির্দিষ্ট সময় পর রিপ্লেসমেন্ট আনার জন্য কুখ্যাত, নেটিজেনরা তাহসানের রিলেশনশিপ গ্রাফেও হুবহু সেই লুপ খুঁইজা পাইছেন। গতকাল রাতে একটা মিম ভাইরাল হইছে যেইখানে দেখলাম মিথিলার সেই আইকনিক টিভি বিজ্ঞাপনের সংলাপ—‘ও, আমি পুরনো হয়ে গেছি, না?’ এর ওপর রোজার মুখ বসায় দেওয়া হইছে।

এই একটা মিম তাহসানের মাসুম প্রেমিক ইমেজের প্রতি একটা স্ট্রং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হিসেবে দেখতেছি! পাবলিক ইনডিরেক্টলি বলার ট্রাই করতেছে, তাহসান হয়তো সম্পর্কের চেয়ে আপডেট ভার্সন খুঁজতেই বেশি পছন্দ করেন।
কিন্তু এইখানেই শেষ না। ঠিক এই পয়েন্টেই এন্ট্রি নিতেছে ফেমাস টেইলর সুইফট সিনড্রম ৷
পশ্চিমা পপ কালচারে একটা আলাপ আছে, 'যদি তোমার সব এক্সই খারাপ হয়, তবে সমস্যাটা হয়তোবা তোমারই!'
তাহসানের ক্ষেত্রে বাজারে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, উনি ঠিক টেইলর সুইফটের মতোই তার ভদ্রলোক ইমেজ এবং মার্জিত নীরবতা দিয়া প্রতিবার নিজেরে ভিক্টিম এবং অপরপক্ষরে ভিলেন বানায় ফেলেন। সুইফট যেমন ব্রেকআপরে গানে কনভার্ট কইরা গ্র্যামি বগলদাবা করেন, তাহসানও তেমনি তার বিরহ বেইচা টিভিসি আর নাটকের টিআরপি বাড়ান।

এই জন্যই হয়তো বা অডিয়েন্স তাহসানের নয়া ব্রেকআপের খবর শুইনা টোটালি কনফিউজড এবং স্যাটায়ারিক্যাল মুডে আছে । প্রশ্ন উঠতেছে, এই যে বারবার রিপ্লেসমেন্ট এবং তারপর সেইটা নিয়া আর্ট বানানো (বেইলি রোডের দুঃখগাঁথা)— এইটা কি আসলেই পরিস্থিতির শিকার হইবার ঘটনা, নাকি এইটা তার পার্সোনার একটা গ্ল্যামারাস ট্র্যাজেডি? বা তাহসান কি আসলেই দুঃখী, নাকি তিনি স্যাড বয় লুপের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন?
কারণ দিনশেষে আমরা সবাই জানি, ইন্টারনেট কালচারে ‘হার্টব্রেক সেলস’!

দর্শকদের কাছে তাহসানের জীবনটা এখন মার্ভেলের মাল্টিভার্সের মতো। সমস্যা হইলো, অডিয়েন্স এখনো স্যাক্রেড টাইমলাইন (মিথিলা পর্ব) থিকা বের হইতে পারেন নাই। তারা এখনো এন্ডগেমের আগের যুগে পইড়া আছেন।
তাই তো যখন স্যাটায়ার নিউজের হেডলাইন আসে—‘Reports now suggest Roza and Mithila are deeply connected’ বা মিথিলার তান্ত্রিক ইমেজের সাথে রোজা-তাহসানের ব্রেকআপ কানেকশন খোঁজা হয়, তখন পাবলিক সেইটা শেয়ার কইরা হাসতে হাসতে গড়ায়ে পড়ে।
কেন? কারণ, পাবলিকের কাছে তাহসানের বর্তমান পার্টনারদের কোনো আলাদা বা স্বতন্ত্র সত্তা নাই। দর্শকের সাবকনশাস মাইন্ডে তাহসান হইলেন সেই হিরো, যার জীবনে মিথিলা হইতেছেন ‘আদি ও আসল’ নায়িকা, আর বাকিরা সব মাল্টিভার্সাল ভ্যারিয়েন্ট।
সোজা বাংলায়, দর্শকরা এখনো নস্টালজিয়ায় ভুগতেছেন। তারা রোজার মধ্যেও মিথিলার ছায়া খুঁজতেছেন, যেন পুরা ব্যাপারটা একটা লুপ। ফিলোসফির ভাষায় এইটারে বলে ‘প্যারা-সোশ্যাল হন্টোলজি’, যার মানে হইলো অতীতের ভূত বর্তমানরে তাড়া কইরা বেড়াইতেছে।
তাহসান হয়তো মুভ অন করছেন, কিন্তু তার ফ্যানরা এখনো সেই ২০১৭ সালের ব্রেকআপ ভূতের আছরেই আটকায় আছে!
আর ছোট্ট দুয়েকটা আলাপ কইরা লেখাটা শেষ করবো ৷ তো শেষমেশ এই ডিজিটাল মিম ফেস্টিভ্যালের বটম লাইনটা কী?
আমার কাছে মনে হয়, তাহসান এখন আর আমাদের কাছে রক্তমাংসের মানুষ না, তিনি হইলেন‘ দ্য ট্রুম্যান শো’ মুভির সেই ট্রুম্যান বারব্যাঙ্ক, যার পুরা জীবনটাই দর্শকদের জন্য সাজানো একটা রিয়্যালিটি শো।

আমরা এখন আর তাহসানের গান বা নাটক আসার ওয়েট করি না ৷ আমরা ওয়েট করি তাঁর লাইফের নতুন প্লট টুইস্টের জন্য। তিনি প্রেম করলে আমরা শিপ করি, বিয়ে করলে বিচার করি আর ব্রেকআপ করলে মিম বানাই। তার বিষাদ এখন আর আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে না, বরং আমাদের নিউরনে ডোপামিনের ঝটকা দেয়। কারণ, ডিজিটাল যুগের গোল্ডেন রুল হইলো 'Tragedy is boring, unless it's Memeable.'
তাহসান হয়তো ভাবেন তিনি তাঁর লাইফ লিড করতেছেন, কিন্তু তাঁর বিচ্ছেদ ঘোষণার পর যে কাহিনি দেখতেছি নিউজফিডে, মনে হইতেছে যেনবা তাঁর এক্সিজটেন্স কেবল আমাদের নিউজফিডের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর একটা ঘটনা। স্পেশালি গতকালের পর থিকা, তিনি শ্বাস ফেললেও নিউজ হইতেছে ৷ কন্টেন্ট কিং হিসেবে তাহসানের এই ট্রান্সফর্মেশন প্রমাণ করতেছে আমাদের বাংলাদেশি পপ কালচারে তাহসান কতটা অপরিহার্য এক নাম ৷
তাই তাহসানরে সবিনয় বিনীত নিবেদনে বলতে চাই, 'ভাই আপনি গান গান বা নাটক করেন, ব্রেকআপ করেন বা মোটিভেশনাল স্পিকার হন, আমাদের কোন প্যারা নাই ৷ খালি স্ক্রিপ্টটা হালকা ইন্টারেস্টিং রাইখেন' xD

পরিচিত ভাইব্রাদার, যারা স্করসেজির 'দ্য আইরিশম্যান' দেখতে দেখতে মাঝপথে ঘুমায় যাওয়ার পোস্ট দিছিলেন, তারাও দেখলাম 'রেস্ট ইন পিস লেজেন্ড' লেইখা ফেসবুকে একের পর এক স্ট্যাটাস মারতেছেন ৷ আরেক দল ভাইব্রাদার আছেন যারা জিগাইতেছেন, ‘কিসের তার?’ আর সাথে সাথে গুগল সার্চবারে ডেস্পারেটলি টাইপ করতেছেন...
৪ দিন আগে
আপনি নিউজটাতে কী রিঅ্যাক্ট দিবেন? অ্যাংরি রিএকশনটা একটু ভারী হইবার কথা; ঐটা দেয়ার মত আপনার হয়তো কোনরকম মেন্টাল এনার্জি আর অবশিষ্ট নাই। স্যাড রিএকশনে ক্লিক করা মানেই সেলফ ডিফিট একনোলেজ করার মতো একটা ঘটনা হইতে পারে ৷ এরপর আর কিছু না ভাইবাই আপনি হাহা রিএকশন প্রেস করলেন।
৬ দিন আগে
‘গভীরতম দুঃখের গল্প বলা গানগুলো আমাদের মধুরতম গান– লিখেছিলেন পি বি শেলি। দুঃখের গানের নানা ধরণের মধ্যে আছে এক বিশেষ ধরণ। একে চলতি বাংলায় বলে ‘ছ্যাকা খাওয়া’ গান। করুণরসের তেমনই আলোচিত কিছু গান নিয়ে এই লেখা। দেখুন তো গানগুলো শুনলে আপনারও বুকে চিনচিনে ব্যথা হয় কিনা।
১০ ডিসেম্বর ২০২৫
আইনের দেবী থেমিসের চোখে কালো কাপড় বাঁধা থাকে। এর কেতাবি অর্থ, বিচার হবে অন্ধ বা নিরপেক্ষ; আবেগ, পরিচয় বা দৃশ্যমান চাকচিক্য সেখানে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু আমার মনে হয় ঘটনা অন্য। থেমিস সম্ভবত লজ্জায় চোখ বাইন্ধা রাখছেন।
০১ ডিসেম্বর ২০২৫