leadT1ad

পর্ব-১

রেজল্যুশন ফেইল পার্টি স্পেশাল: রিডিং স্লাম্প কাটানোর সেরা ১০ টনিক

স্ট্রিম গ্রাফিক

২০২৫ এর পয়লা জানুয়ারি। আপনি, আমি এবং আমাদের মতো একদল অতি উৎসাহী রিডার কসম খাইছিলাম এই বছরটা বই পইড়া একেবারে দুনিয়া উল্টায় ফেলব। গুডরিডসের রিডিং চ্যালেঞ্জে ৬০টা বই পড়ব বইলা যে হম্বিতম্বিটা করছিলাম, বছর শেষে দেখা গেল সেই চ্যালেঞ্জের নিচে চাপা পইড়া ইজ্জত যায় যায় দশা। ভিতরে ভিতরে খালি দার্শনিক আবহ আর দীর্ঘশ্বাস আসতেছে আর মনে হইতেছে, ‘এই জন্যই কাউরে নিউ ইয়ার রেজল্যুশন জানাইতে নাই।’

বই পইড়া দুনিয়া উল্টাইতে গিয়ে দেখা গেল, উল্টাইছি শুধু ইনস্টা রিল আর বুকশেলফে ধুলা জমায়ে অতিথির মতো ডাইকা আনছি এলার্জি-জাতীয় রোগবিরোগ। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বই কিনে না পড়ার জাপানি আর্ট ‘সুন্দোকে’তে ব্ল্যাকবেল্টও বাগাইছি । ৬০-এর টার্গেট নাইমা আসছে ৫টায়, এর মধ্যে টু বি ফ্র্যাঙ্ক ২ টার খালি ব্লার্ব পড়া হইছে।

কিন্তু প্যারা নাই। জীবন তো আর নসিব না যে পাল্টানো যাইবোনা । সো এখনই সময়, ২০২৫ রে একটা ব্যাড চ্যাপ্টার কাউন্ট কইরা ২০২৬ এর নতুন পাতা উল্টানোর ।

গত বছর আমরা পড়ি বা না পড়ি, দুনিয়াজুইড়া অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা পড়ছেন। তাদের মধ্যে আবার ৭৫ লাখেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়া গত বছরের সেরা বইগুলারে বাইছা নিছেন। যারা এই বছরটা অন্তত রিডিং স্লাম্প কাটায়ে দুনিয়া না হোক, অন্তত নিজের জগৎটা একটু উল্টায়-পাল্টায় দেখতে চান তাদের জন্য থাকছে Goodreads এর ২০২৫ এর রিডার্স চয়েস বা পাঠকদের ভোটে নির্বাচিত সেরা ১০টা বইয়ের পোস্টমর্টেম।

গিল্টি ফিলিং সাইডে চাপায়া চলেন লিস্টটা দেখি। তবে একসাথে ১০টা বইয়ের লিস্ট একটু চাপ হয়ে যায়, তাই আজকের প্রথম পর্বে থাকছে টপ ৫টা বইয়ের কথা।

১) মিস্ট্রি & থ্রিলার: নট কোয়াইট ডেড ইয়েট (হলি জ্যাকসন)

ভাইব: ডেডলাইন যখন ‘ডেড’ লাইন, রিভার্স মার্ডার মিস্ট্রি, হাই ভোল্টেজ টেনশন

ছবি: গুডরিডস
ছবি: গুডরিডস

‘এ গুড গার্ল’স গাইড টু মার্ডার’ দিয়া ইয়াং অ্যাডাল্ট থ্রিলার ওয়ার্ল্ড কাঁপায় দেয়া হলি জ্যাকসন এইবার অ্যান্ট্রি নিছেন অ্যাডাল্ট থ্রিলার জনরায়। অ্যান্ট্রি তো অ্যান্ট্রি না, পুরা দরজা ভাঙা অ্যান্ট্রি যারে বলে!

প্লটটা ইন্টারেস্টিং আছে! ধরেন, আপনি একদিন ডাক্তারের কাছে গেলেন আর ডাক্তার আপনারে জানাইলো হাতে মাত্র সাতদিন সময় আছে। কারন কী? ন্যাচারাল রিজন হইলে একটা কথা ছিলো, কিন্তু আপনি শুনলেন এই সিচুয়েশনের রিজন কেউ আপনারে মারার ট্রাই করতেছে। এই ডব্লিউটিএফ সিচুয়েশনে আপনি কী করতেন জানি না, কিন্তু প্রটাগনিস্ট জেট মেসন ডিসিশন নেয় মরার আগে খুনিরে বাইর করবে। জেনারেলি মার্ডার মিস্ট্রিতে লাশ পাওয়ার পর ডিটেক্টিভ আসে। কিন্তু জেট মেসন যেহেতু নিজেই ডিটেক্টিভ আর নট ডেড ইয়েট সে জানাজার কার্ড না বানায়ে খুনিরে খুঁজতে তোলপাড় কইরা ফেলে লস এঞ্জেলেস আন্ডার ওয়ার্ল্ডের দুনিয়া।

কেন পড়বেন: যারা গতানুগতিক ‘পুলিশ আইসা লাশ পাইল, তারপর তদন্ত শুরু হইল’ টাইপ থ্রিলার পড়তে পড়তে রুচি নষ্ট কইরা ফেলছেন, তাদের জন্য এই রিভার্স হুডানিট একদম নতুন দাওয়াই। পেজ উল্টাইতে উল্টাইতে কখন যে রাত শেষে ভোর হয়ে যাবে টেরই পাবেন না।

২) সায়েন্স ফিকশন: দ্য কম্পাউন্ড (অ্যাশলিং রাউল)

ভাইব: ডিস্টোপিয়া, প্যারানয়া, সার্ভভাইভাল গেম।

ছবি: গুডরিডস
ছবি: গুডরিডস

অ্যাশলিং রাউল এমন একটা ফিউচারিস্টিক দুনিয়া বানাইছেন, যেইখানে রিয়েলিটি শো আর রিয়েলিটির মধ্যে কোনো তফাৎ নাই। কিছু মানুষরে একটা হাই-টেক কম্পাউন্ডে আটকায় রাখা হয়। তাদের ব্রেইনওয়াশ কইরা বলা হয়, বাইরের দুনিয়া ভাইরাসে বা ক্লাইমেট চেঞ্জে ছারখার হয়ে গেছে, তোমরাই মানবজাতির লাস্ট হোপ।

সায়েন্স ফিকশন ট্যাগ দেখামাত্রই যারা ফিজিক্সের ডরে স্কিপ করতে চান, তাদের কাছে এই বইটা মজা লাগতে পারে। কারণ সায়েন্স ফিকশন হইলেও পুরা কাহিনিটা একটা সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্টের সাইকোলজিক্যাল টর্চার। চারদেয়ালে বন্দি অবস্থায় যখন আপন মানুষদেরই শত্রু মনে হইতে থাকে, আর বুঝতে পারেন অদৃশ্য কেউ আপনার প্রতিটা মুভমেন্ট সার্ভিলেন্সে রাখতেছে, তখন যে হেল্পলেসটা ফিল হয়, ওইটাই এই বইয়ের মেইন হরর।

পুরা স্টোরিটাই যেহেতু একটা ক্লস্ট্রোফোবিক স্পেসে মুভ করে, তাই পেসিং একটু স্লো মনে হইতে পারে, কিন্তু সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার হিসেবে এইটা টপ নচ রেটেড কন্টেন্ট। মিডিয়া ম্যানিপুলেশন আর গ্যাসলাইটিং কোন লেভেলে যাইতে পারে, দ্য কম্পাউন্ড তার টেক্সটবুক এক্সাম্পল।

কেন পড়বেন: বিগ বস বা স্কুইড গেম যদি হয় আপনার প্রিয় শো আর দেয়ালে পিঠ ঠেইকা গেলে মানুষ কী করতে পারে যদি জানতে চান তাইলে ওস্তাদ নগদে বইটা অর্ডার বা ডাউনলোড দেন!

৩) ফিকশন: মাই ফ্রেন্ডস (ফ্রেডরিক ব্যাকম্যান)

ভাইব: মিড এজ ক্রাইসিস, ব্রোম্যান্স আর চোখের পানি।

ছবি: গুডরিডস
ছবি: গুডরিডস

‘এ ম্যান কল্ড ওভ’ লেইখা দুনিয়ার মানুষরে ইমোশনাল কইরা দেওয়া ফ্রেডরিক ব্যাকম্যান এইবার হাজির হইছেন মিডএজড ব্যাডা মানুষের ফ্রেন্ডশিপের গল্প নিয়া । আমাদের সবারই এমন কিছু বন্ধুবান্ধব থাকে যাদের সাথে এখন আর কথা হয় না। এই গল্পটাও এমন চার ছোটবেলার ভাইব্রাদারের, যারা একসময় একে অপরের খুবই ক্লোজ ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি তাদের আলাদা আলাদা ডেস্টিনেশনে শিফট করছে। মাঝ বয়সে আইসা তাদের আবার দেখা হয়। এই গেট টুগেদারে পুরানা চাইপা রাখা কষ্ট আর মেমরির বিউটিফুল ব্লেন্ডে গল্প আগাইতে থাকে।

এই বইটা পড়ার পর অনেকেই বলতেছেন ‘ব্যাডা মানুষের ইমোশন’ নিয়ে নাকি এত সেরা ফিকশন দুনিয়াতে খুব কমই লেখা হইছে।

কেন পড়বেন: যারা একটু ইমোশনাল বা ফ্রেন্ডশিপের কমপ্লেক্সিটি নিয়া ডিল করা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বইটা একটা ফার্স্টক্লাস রেকমন্ডেশন!

৪) হিস্টোরিক্যাল ফিকশন: অ্যাটমোস্ফিয়ার (টেইলর জেনকিন্স রিড)

ভাইব: এইট্টিজের সিন্থ-পপ নস্টালজিয়া, স্পেস রেসের অ্যাড্রেনালিন আর হাই-ফাংশনিং ডিপ্রেশন।

গুডরিডস
গুডরিডস

টেইলর জেনকিন্স রিডের ট্রেডমার্ক হইতেছে উনি ফিকশন লেখেন নন-ফিকশনের স্টাইলে। উনার ফিকশন বাজারে এলেই ঘটনা সত্য কিনা বুঝতে পাবলিক কনফিউজড হয়ে গুগল সার্চ করে। হলিউড স্টারদের প্যাঁচানো গ্ল্যামারাস লাইফ আর স্ক্যান্ডাল ফিকশনে নামায় আনতে উনার কম্পিটেটর উনি একলাই।

এর আগে ‘দ্য সেভেন হাজব্যান্ডস অব ইভলিন হুগো’ লেইখা বুকস্টাগ্রামে ঝড় তোলা টেইলর জেনকিন্স এইবার এটমোস্ফিয়ারে তার রিডারদের নিয়া গেছেন এইট্টিজের নাসার স্পেস শাটল প্রোগ্রামে।

গল্পের প্লটটা সেই সময়ের, যখন কোল্ড ওয়ারের গরম বাতাসে পুড়তেছে গোটা আমেরিকা। প্রোটাগনিস্ট জোন গুডউইন খালি উড়তে চান না, তৈরি করতে চান ইতিহাস। কিন্তু স্পেস শাটল যুগের তখনকার সেই বয়েজ ক্লাব্ল কালচারে একজন নারীর জন্য জায়গা কইরা নেয়া আর ব্ল্যাক হোলে সারভাইভ করা প্রায় কাছাকাছি রিয়েলিটি। গল্পের মোড় ঘুইরা যায় যখন জোনের সাথে দেখা হয় আরেক জিনিয়াস ভ্যানেসা ফোর্ডের। একদিকে জোন গুডউইনের আকাশ ছোঁয়ার নেশা আর অন্যদিকে মাটির পৃথিবীতে পিরিতের মানুষের সাথে ডিস্টেন্সের যে চিরন্তন ট্র্যাজেডি ঐটাই টেইলর জেনকিন্স মাস্টার স্ট্রোকে ফুটায় তুলছেন। নাসার গল্প যেহেতু, নভেলটাতে জার্গন ঠাসা একটা ব্যাপারস্যাপার আছে। স্লো বার্ন নভেল যেহেতু ধুম ধারাক্কা রিডারদের একটু প্যারা হইতে পারে। বাট ক্যারেক্টারের গ্রে শেড আর কমপ্লেক্সিটি মিলায়ে এটমোস্ফিয়ার কঠিন পিনিকের এক বই।

কেন পড়বেন: যদি হিস্ট্রি, সায়েন্স আর হিউম্যান সাইকোলজির ইন্টেলেকচুয়াল ব্লেন্ডে কিছু সময়ের জন্য হারায় যাইতে চান, তাইলে এইটা আপনার জন্য মাস্ট পিক।

) ফ্যান্টাসি: বারি আওয়ার বোনস ইন দ্য মিডনাইট সয়েল (ভি. ই. শোয়াব)

ভাইব: ফিমেল রেজ, বডি হরর আর ডার্ক ম্যাজিক

গুডরিডস
গুডরিডস

ভি. ই. শোয়াবরে লোকে চিনে ‘দ্য ইনভিজিবল লাইফ অব অ্যাডি লারু’র জন্য। এই বই লেইখা উনি বুকস্টাগ্রামের অর্ধেক মানুষের ডিপ্রেশনের কারণ হইছিলেন। কিন্তু এইবার উনি যেইটা লিখছেন, সেইটা আর সফট রোমান্টিক ফ্যান্টাসি না, পিওর নাইটমেয়ার ফুয়েল।

স্টোরির ক্যানভাসটাও বিশাল। ডোমিনিকান রিপাবলিক (১৫০০ সাল), ফ্রান্স (১৮০০ সাল) আর মডার্ন ডে আমেরিকা। তিনটা ভিন্ন টাইমলাইনের তিনজন উইমেন, কিন্তু তাদের ডেস্টিনি কানেক্টেড কার্স আর ম্যাজিকর থ্রুতে। ব্যাপারটা এমন না যে তারা শখ করে অমর হইতে চায়, কিন্তু সারভাইভ করার জন্য তাদের একে অন্যের হাড়মাংসের ওপর ডিপেন্ড করতে হয়।

সোজা কথায়, ফ্যান্টাসির লেবাসে এই ফিকশন নারীদের সারভাইভালের এক আনফিল্টারড দলিল। যাদের কলিজা ছোট, তারা এই বই থেকে দূরে থাকাই ভালো কারন বইটাতে প্রচুর ডিটেইলড বডি হরর আছে। তবে, স্লো আর পোয়েটিক রাইটিং স্টাইলের জন্য শোয়াবের (কু)খ্যাতি আছে। ফলে যারা ‘মারমার কাটকাট’ ফ্যান্টাসি অ্যাকশন চান, তারা মাঝপথে ঘুমায় যাইতে পারেন।

কেন পড়বেন: আপনি যদি টিপিক্যাল তলোয়ার আর ড্রাগন মার্কা ফ্যান্টাসি পইড়া বোর হইতে হইতে এমন কিছু খুঁজেন যা আপনারে রাতে ঘুমাইতে প্যারা দিবে, তাইলে এইটা আপনার জন্য।

আজকের মতো এই ৫টা রসদই থাকুক। বেশি লোড নিলে আবার স্লাম্পের চক্করে পড়ার চান্স আছে। জানুয়ারি শেষের দিকে। মাস ফুরানোর আগেই এই লিস্ট থিকা মুড অনুযায়ী যেকোনো একদিন যেকোন একটা তুইলা নিতে পারেন। মনে রাইখেন, স্লাম্প কাটানোটাই আপনার আমার এখন আসল চ্যালেঞ্জ।

বাকি ৫টা বইয়ের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়া খুব জলদিই হাজির হচ্ছি দ্বিতীয় পর্বে। তদ্দিন পর্যন্ত, হ্যাপি রিডিং বস!

Ad 300x250

সম্পর্কিত