ওলিউর রহমান

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে ঈদের জামাতে। সকালে নতুন জামা পরে আতরের সুগন্ধ মেখে, বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঈদগাহের পথে হাঁটতে শুরু করে। খোলা আকাশের নিচে অসংখ্য মানুষের কণ্ঠে তাকবিরের ধ্বনি ধীরে ধীরে উচ্চকিত হয়। সেই মিলিত দোয়া, সম্মিলিত উপস্থিতি—সত্যিই ঈদের সকালকে বিশেষ করে তোলে।
কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেই একটি বড় অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়—আমাদের সমাজের নারীরা প্রায়শই এই আনন্দের অংশ হতে পারে না।
বাংলাদেশের শহর–গ্রামে একই ছবি। ঈদের দিন সকালে পুরুষেরা নতুন জামা পরে, আতর মেখে দলে দলে ঈদগাহে যায়; আর নারীরা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকে হাঁড়ি–পাতিল, সেমাই–পোলাও আর মাংসের চাপ সামলাতে। ঈদ তাদের জন্য যেন একটা “এক্সট্রা ব্যস্ত কর্মদিবস” ছাড়া আর কিছুই নয়।
নবীজী (সা.)-এর যুগে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ছিল। উম্মে আতীয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী (সা.) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিতেন। পরিণত বয়স্কা, গৃহবধূ, এমনকি ঋতুমতী নারীরাও জামাতে শরিক হতেন। ( সহীহ মুসলিম)
ঋতুমতী নারীদের ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে ঈদের জামাত কেবল ইবাদত নয় বরং এটি সামাজিক এবং ধর্মীয় উৎসবও।
তবে সময়ের সাথে সাথে এই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা, শালীনতা—এসব বিষয় সামনে এনে অনেক আলেম সতর্কতার অবস্থান গ্রহণ করেছেন। যার উদ্দেশ্য ছিল মূলত সমাজকে সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সতর্কতা এমন এক প্রথায় রূপ নিয়েছে, যেখানে নারীদের ঈদের জামাতে অনুপস্থিতি যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এখানে ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে নবীজীর সুন্নাহ আমাদের নারীদের অংশগ্রহণের বৈধতা ও উৎসাহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্যদিকে শালীনতা, পর্দা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও অপরিহার্য হিসেবে সামনে আনে। ফলে সমস্যার সমাধান কোনো একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সামাজিক ব্যবস্থাপনায় নিহিত।
বর্তমান সময়ে বিশ্বের নানা মুসলিম দেশে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও মলয়েশিয়ায় অনেক জায়গায় নারী-পুরুষের জন্য পৃথক, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জামাত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
এই উদাহরণ দেখায়— শালীনতা এবং নিরাপত্তার পরিকল্পনা করে ঈদের জামাতে নারীদের অংশগ্রহণ সম্ভব।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
ঈদগাহে নারীদের জন্য পৃথক, কিন্তু দৃশ্যগতভাবে সংযুক্ত অংশ তৈরি করা।
নিরাপত্তা ও শালীনতা নিশ্চিত করে নারীদের জামাতে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।
পরিবার ও সমাজে মানসিকতা পরিবর্তন আনা, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
কারণ ঈদের জামাত কেবল নামাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত আনন্দ, ঐক্য ও সামাজিক চেতনার প্রতীক। আর এই প্রতীক তখনই পূর্ণ অর্থে জীবন্ত হয়, যখন সমাজের সব নারী-পুরুষ—সবার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সেই কারণেই আজ আমাদের সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান হলো ঈদের জামাতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনা করা৷ যাতে ঈদের আনন্দ প্রকৃত অর্থে সবার জন্য হয়ে ওঠে।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে ঈদের জামাতে। সকালে নতুন জামা পরে আতরের সুগন্ধ মেখে, বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঈদগাহের পথে হাঁটতে শুরু করে। খোলা আকাশের নিচে অসংখ্য মানুষের কণ্ঠে তাকবিরের ধ্বনি ধীরে ধীরে উচ্চকিত হয়। সেই মিলিত দোয়া, সম্মিলিত উপস্থিতি—সত্যিই ঈদের সকালকে বিশেষ করে তোলে।
কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেই একটি বড় অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়—আমাদের সমাজের নারীরা প্রায়শই এই আনন্দের অংশ হতে পারে না।
বাংলাদেশের শহর–গ্রামে একই ছবি। ঈদের দিন সকালে পুরুষেরা নতুন জামা পরে, আতর মেখে দলে দলে ঈদগাহে যায়; আর নারীরা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকে হাঁড়ি–পাতিল, সেমাই–পোলাও আর মাংসের চাপ সামলাতে। ঈদ তাদের জন্য যেন একটা “এক্সট্রা ব্যস্ত কর্মদিবস” ছাড়া আর কিছুই নয়।
নবীজী (সা.)-এর যুগে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ছিল। উম্মে আতীয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী (সা.) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিতেন। পরিণত বয়স্কা, গৃহবধূ, এমনকি ঋতুমতী নারীরাও জামাতে শরিক হতেন। ( সহীহ মুসলিম)
ঋতুমতী নারীদের ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে ঈদের জামাত কেবল ইবাদত নয় বরং এটি সামাজিক এবং ধর্মীয় উৎসবও।
তবে সময়ের সাথে সাথে এই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা, শালীনতা—এসব বিষয় সামনে এনে অনেক আলেম সতর্কতার অবস্থান গ্রহণ করেছেন। যার উদ্দেশ্য ছিল মূলত সমাজকে সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু ধীরে ধীরে এই সতর্কতা এমন এক প্রথায় রূপ নিয়েছে, যেখানে নারীদের ঈদের জামাতে অনুপস্থিতি যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এখানে ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে নবীজীর সুন্নাহ আমাদের নারীদের অংশগ্রহণের বৈধতা ও উৎসাহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্যদিকে শালীনতা, পর্দা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও অপরিহার্য হিসেবে সামনে আনে। ফলে সমস্যার সমাধান কোনো একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞায় নয়, বরং একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সামাজিক ব্যবস্থাপনায় নিহিত।
বর্তমান সময়ে বিশ্বের নানা মুসলিম দেশে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও মলয়েশিয়ায় অনেক জায়গায় নারী-পুরুষের জন্য পৃথক, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জামাত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
এই উদাহরণ দেখায়— শালীনতা এবং নিরাপত্তার পরিকল্পনা করে ঈদের জামাতে নারীদের অংশগ্রহণ সম্ভব।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
ঈদগাহে নারীদের জন্য পৃথক, কিন্তু দৃশ্যগতভাবে সংযুক্ত অংশ তৈরি করা।
নিরাপত্তা ও শালীনতা নিশ্চিত করে নারীদের জামাতে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা।
পরিবার ও সমাজে মানসিকতা পরিবর্তন আনা, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
কারণ ঈদের জামাত কেবল নামাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত আনন্দ, ঐক্য ও সামাজিক চেতনার প্রতীক। আর এই প্রতীক তখনই পূর্ণ অর্থে জীবন্ত হয়, যখন সমাজের সব নারী-পুরুষ—সবার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সেই কারণেই আজ আমাদের সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান হলো ঈদের জামাতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনা করা৷ যাতে ঈদের আনন্দ প্রকৃত অর্থে সবার জন্য হয়ে ওঠে।

ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
৩ দিন আগে
সমাপ্তির পথে এ বছরের রমজান। আর মাত্র দুই দিন বা তিন দিন পরই শেষ হবে এই বরকতময় মাস। প্রকৃতির বসন্ত যেমন একসময় ফুরিয়ে যায়, তেমনি মানুষের অন্তরের বসন্তও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন মুমিনের জন্য অন্তরের সেই বসন্তের নাম—‘রমজান’।
৪ দিন আগে
আজ ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে ২৭ রমজান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ রাতটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। এ রাতের প্রেক্ষাপট ও মহিমা বর্ণনা করে আল কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল হয়েছে, যেখানে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
রমজানের শেষ দশ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতেকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রেখে একান্তই আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ ঘটে ইতেকাফের মাধ্যমে।
৬ দিন আগে