ad

আর্জেন্টিনা জিতল ম্যাচ, কেপ ভার্দে হৃদয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

অতিরিক্ত সময়েই এই গোলেই ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি, গোলপোস্টের নিচে ‘চীনের প্রাচীর’ এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কথা বাদ দেন। দলের র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসাবেও আর্জেন্টিনা (২ নম্বর) ও কেপ ভার্দের (৬৪ নম্বর) তুলনা চলে না। তবে ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটিই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ এর ম্যাচে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

শনিবার (৪ জুলাই) মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষপর্যন্ত ৩-২ গোলে হারলেও হৃদয় ঠিকই জিতেছে কেপ ভার্দে। মেসির একের পর এক চেষ্টা যেমন রুখে দিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, আবার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চড়ালেই অতিমানব হয়ে ওঠা মার্তিনেজের কাছ থেকে দুটি গোলও আদায় করেছে। ম্যাচও নিয়ে গেছে অতিরিক্ত সময়ে।

অথচ আলবিসেলেস্তেরার ডাগআউটে শততম ম্যাচের মাইলফলকটি আজই ছুঁয়েছেন ‘প্ল্যানিং মাস্টার’ লিওনেল স্কালোনি। শিষ্যরা শুরুও করেছিলেন সেভাবেই। প্রথমার্ধ থেকেই বলের পুরাপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। কিন্তু লড়াইয়ে সব চেনা সমীকরণ উল্টে যাচ্ছিল কেপ ভার্দে ৪০ বছরের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সামনে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের আক্রমণ, ২১ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক সবই এসে ধাক্কা খায় দুর্ভেদ্য এই দেয়ালে।

কিন্তু ওই যে আর্জেন্টিনার যে একজন মেসি আছে! ২৯ মিনিটে ‘এলিয়েনকে’ আর ঠেকাতে পারলেন না ভোজেনিয়া। ডি-বক্সের ভেতর সামান্য জায়গা খুঁজে নিয়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ালেন মেসি।

এই গোলে মেসির নিজের গড়া আগের রেকর্ডেই হলো আঁকিবুঁকি। আজকেরটিসহ বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে বিপক্ষ দলের গোলরক্ষকেরা অসহায়ভাবে মেসিকে জাল ভেদ করতে দেখলেন। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের সংখ্যাও নিয়ে গেলেন ২০-এ। আর এবারের আসরে ৭ম গোলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করলেন এলএমটেন।

পরের ১৬ মিনিটে কোনো দল গোল দিতে না পারায় ১-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। তবে বিরতির থেকে ফিরেই কেপ ভার্দে পুরা ভিন্ন রূপে খেলা শুরু করে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইনে চিড় ধরানো একের পর এক আক্রমণ চালায়। এর সুফল মেলে ৫৯ মিনিটে। উইঙ্গার রায়ান মেন্দেস ডান দিক থেকে বল বাড়িয়ে দেন মিডফিল্ডার লারোস দুয়ার্তের কাছে। তাঁকে ঠেকাতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার সান্দ্রো মার্তিনেজ এগিয়ে গেলেও কাজ হয়নি। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে দলকে ১-১ এ সমতায় ফেরান দুয়ার্তে।

কেপ ভার্দে সমতায় ফেরার পর যেন জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির শট শরীর ছড়িয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ভোজেনিয়া। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ফের ‘ভোজেনিয়া শো’। মেসির ফ্রি-কিক বামদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। এরপর ৯০ মিনিট পর্যন্ত একের পর পর প্রেস করেও ভোজেনিয়া জট আর খুলতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

এতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে শুরুতেই এগিয়ে যায় মেসিরা। ৯৩ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বল কেপভার্দের জালে পাঠান আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। যখন মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে, ঠিক তখনই বক্সের বাইরের থেকে কোনাকুনি শটে কেপ ভার্দেকে ২-২ গোলে সমতায় ফেরান লেফট ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল।

১০৩ মিনিটে তাঁর ওই গোলে ফের হিসাবনিকাশ পাল্টে যায়। তবে নাটকীয়তা তখনও বাকি। সবার মাথায় যখন টাইব্রেকারের চিন্তা ঘুরছে তখনই ১১০ মিনিটে কেপভার্দের ডিফেন্ডার বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর আর কোনো অঘটন হতে দেয়নি আলবিসেলেস্তেরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত