স্ট্রিম প্রতিবেদক

ম্যাচ শেষ হতে তখনও মিনিট দশেক বাকি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিগ স্ক্রিনে ক্যামেরার চোখে বারবার ধরা পরছিল একটা মুখ- সুইডিশ অধিনায়ক ভিক্টর লিন্ডেলফ। সেই মুখে তখন ফুটে উঠেছে গভীর অসহায়ত্ব। কেননা ততক্ষণে তিনি বুঝে গেছেন ফ্রেঞ্চ এই গোল মেশিনকে আটকানোর আর কোনো কৌশল তার ঝুলিতে নেই। গোল মেশিনের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সুইডিশ কোচ পুরো সপ্তাহ ছক কষেছেন। মাঠে তিনজন ডিফেন্ডারকে ছায়ার মতো লেলিয়ে দিয়েছিলেন। বুধবার (১ জুলাই) রাতে সেই ছায়া পেরিয়ে ৪৫ ও ৭৪ মিনিটে ডি-বক্সে মাত্র কয়েক ইঞ্চি জায়গা পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। আর ওই কয়েক ইঞ্চি জায়গাতেই শেষ হয়ে গেছে সুইডেনের বিশ্বকাপ। এমবাপ্পের জোড়া গোল ও মাইকেল ওলিসের জোড়া অ্যাসিস্টে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
তবে এই রাতটা শুধু এমবাপ্পের নয়।
কয়েকদিন আগে মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ বস ম্যানেজার দিদিয়ের দেশম। শেষকৃত্য সেরে এসে কালই ফিরেছেন ডাগআউটে। ফেরার রাতেই প্রতিটি গোলের পর শিষ্যদের দেখলেন সাইডলাইনে ছুটে আসতে- কোচকে জড়িয়ে ধরতে। শোকের পর এমন উৎসব, এমন উষ্ণতা- নিজেকে সামলেও চোখেমুখে সেই অনুভূতি লুকাতে পারছিলেন না দেশম।
আর ওলিসে? নিউ জার্সির এই রাতটাকে এমবাপ্পে ও দেশমের করে তোলার আসল কারিগর এই ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা ম্যাচে ৯৪ বার বলে স্পর্শ করেছেন, নিয়েছেন ৬টি শট। দুটি অ্যাসিস্ট করে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে- ১৯৯৪ সালের পর এক টুর্নামেন্টে যা সর্বোচ্চ।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য সুইডেন বোঝাতে চেয়েছিল, এত সহজ হবে না। ৩-৪-৩ ছকে নামলেও বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা রূপ নিচ্ছিল নিরেট ৫-৪-১ এর লো-ব্লকে। ফ্রান্সের আক্রমণ থামাতে নিজেদের বক্সের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীর।
কিন্তু ফুটবলে প্রাচীর আর কতক্ষণ! যদিও এতে কম ভোগেনি ফ্রান্স। ১৩ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে এমবাপ্পের একটি গোল বাতিল হয়। ৩২ মিনিটে জুলস কুন্দের পাস থেকে এমবাপ্পের শট লাগে পোস্টে। ৩৬ মিনিটে শূন্যে ভেসে ওলিসের অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকও থামে পোস্টেই। গোল নেই, তবু ফরাসি আক্রমণের চাপে তখন হাঁসফাঁস সুইডেন।
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটান এমবাপ্পে নিজেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেম্বেলের পাসে বল পেয়ে ইনসাইড-কাট করে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানান, তারপর সেই চেনা বাঁকানো শট। বল জালে। গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে সেই সিগনেচার সেলিব্রেশন। আর পুরো দল ছুটে গেল কোচ দেশমের দিকে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে গল্পটা আর বদলায়নি। ৫৩ মিনিটে ওলিসের রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। ৭৪ মিনিটে আবার ওলিসের পাস, আবার এমবাপ্পে— এবার ঠান্ডা মাথায় পোস্টের কোণ বরাবর শট। ৩-০।
এই গোলে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন দাঁড়াল ১৮ তে- লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি কম। নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১০ গোলের রেকর্ড এখন এককভাবে এই ফ্রেঞ্চ গোল মেশিনের। পেছনে পড়ে গেছে লিওনাদাইজ ও রোনালদো নাজারিওর ৮ গোল। চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোলদাতার তালিকায় মেসির পাশে বসলেন এমবাপ্পে। আর দেম্বেলে-এমবাপ্পে জুটির বিশ্বকাপে যৌথ অবদান দাঁড়াল ছয় গোলে— যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে-কোনো জুটির মধ্যে সর্বোচ্চ।
৮৫ মিনিটে দেশম এমবাপ্পেকে তুলে নিলেন। মাঠ ছাড়ার সময় ৮০ হাজার দর্শকের গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল ফ্রান্স অধিনায়ককে। শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফে হয়ে গেল একপশলা ফ্রেঞ্চ উৎসব। আর সেই উৎসবের মাঝখানে মায়ের মৃত্যুশোক নিয়ে দাঁড়িয়ে দিদিয়ের দেশম। আজ রাতটা তাঁরও।
আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে- যারা গতকাল চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩-এ বিদায় করে নিজেরাই একটা ইতিহাস লিখে এসেছে।

ম্যাচ শেষ হতে তখনও মিনিট দশেক বাকি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিগ স্ক্রিনে ক্যামেরার চোখে বারবার ধরা পরছিল একটা মুখ- সুইডিশ অধিনায়ক ভিক্টর লিন্ডেলফ। সেই মুখে তখন ফুটে উঠেছে গভীর অসহায়ত্ব। কেননা ততক্ষণে তিনি বুঝে গেছেন ফ্রেঞ্চ এই গোল মেশিনকে আটকানোর আর কোনো কৌশল তার ঝুলিতে নেই। গোল মেশিনের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সুইডিশ কোচ পুরো সপ্তাহ ছক কষেছেন। মাঠে তিনজন ডিফেন্ডারকে ছায়ার মতো লেলিয়ে দিয়েছিলেন। বুধবার (১ জুলাই) রাতে সেই ছায়া পেরিয়ে ৪৫ ও ৭৪ মিনিটে ডি-বক্সে মাত্র কয়েক ইঞ্চি জায়গা পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। আর ওই কয়েক ইঞ্চি জায়গাতেই শেষ হয়ে গেছে সুইডেনের বিশ্বকাপ। এমবাপ্পের জোড়া গোল ও মাইকেল ওলিসের জোড়া অ্যাসিস্টে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
তবে এই রাতটা শুধু এমবাপ্পের নয়।
কয়েকদিন আগে মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ বস ম্যানেজার দিদিয়ের দেশম। শেষকৃত্য সেরে এসে কালই ফিরেছেন ডাগআউটে। ফেরার রাতেই প্রতিটি গোলের পর শিষ্যদের দেখলেন সাইডলাইনে ছুটে আসতে- কোচকে জড়িয়ে ধরতে। শোকের পর এমন উৎসব, এমন উষ্ণতা- নিজেকে সামলেও চোখেমুখে সেই অনুভূতি লুকাতে পারছিলেন না দেশম।
আর ওলিসে? নিউ জার্সির এই রাতটাকে এমবাপ্পে ও দেশমের করে তোলার আসল কারিগর এই ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা ম্যাচে ৯৪ বার বলে স্পর্শ করেছেন, নিয়েছেন ৬টি শট। দুটি অ্যাসিস্ট করে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে- ১৯৯৪ সালের পর এক টুর্নামেন্টে যা সর্বোচ্চ।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য সুইডেন বোঝাতে চেয়েছিল, এত সহজ হবে না। ৩-৪-৩ ছকে নামলেও বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা রূপ নিচ্ছিল নিরেট ৫-৪-১ এর লো-ব্লকে। ফ্রান্সের আক্রমণ থামাতে নিজেদের বক্সের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীর।
কিন্তু ফুটবলে প্রাচীর আর কতক্ষণ! যদিও এতে কম ভোগেনি ফ্রান্স। ১৩ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে এমবাপ্পের একটি গোল বাতিল হয়। ৩২ মিনিটে জুলস কুন্দের পাস থেকে এমবাপ্পের শট লাগে পোস্টে। ৩৬ মিনিটে শূন্যে ভেসে ওলিসের অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকও থামে পোস্টেই। গোল নেই, তবু ফরাসি আক্রমণের চাপে তখন হাঁসফাঁস সুইডেন।
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটান এমবাপ্পে নিজেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেম্বেলের পাসে বল পেয়ে ইনসাইড-কাট করে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানান, তারপর সেই চেনা বাঁকানো শট। বল জালে। গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে সেই সিগনেচার সেলিব্রেশন। আর পুরো দল ছুটে গেল কোচ দেশমের দিকে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে গল্পটা আর বদলায়নি। ৫৩ মিনিটে ওলিসের রক্ষণচেরা থ্রু পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। ৭৪ মিনিটে আবার ওলিসের পাস, আবার এমবাপ্পে— এবার ঠান্ডা মাথায় পোস্টের কোণ বরাবর শট। ৩-০।
এই গোলে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন দাঁড়াল ১৮ তে- লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি কম। নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১০ গোলের রেকর্ড এখন এককভাবে এই ফ্রেঞ্চ গোল মেশিনের। পেছনে পড়ে গেছে লিওনাদাইজ ও রোনালদো নাজারিওর ৮ গোল। চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোলদাতার তালিকায় মেসির পাশে বসলেন এমবাপ্পে। আর দেম্বেলে-এমবাপ্পে জুটির বিশ্বকাপে যৌথ অবদান দাঁড়াল ছয় গোলে— যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে-কোনো জুটির মধ্যে সর্বোচ্চ।
৮৫ মিনিটে দেশম এমবাপ্পেকে তুলে নিলেন। মাঠ ছাড়ার সময় ৮০ হাজার দর্শকের গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল ফ্রান্স অধিনায়ককে। শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফে হয়ে গেল একপশলা ফ্রেঞ্চ উৎসব। আর সেই উৎসবের মাঝখানে মায়ের মৃত্যুশোক নিয়ে দাঁড়িয়ে দিদিয়ের দেশম। আজ রাতটা তাঁরও।
আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে- যারা গতকাল চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩-এ বিদায় করে নিজেরাই একটা ইতিহাস লিখে এসেছে।

শেষ বাঁশি যখন বাজলো তখনও ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা। বিজয়ী নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। ফল মেলেনি সেখানেও। সব শেষে ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকার। আর সেখানেই ইতিহাস গড়ল মরক্কো। রোমাঞ্চকর এক টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি।
৩০ জুন ২০২৬
নকআউটে জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত উতরে গেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও কাসেমিরো ও মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
৩০ জুন ২০২৬
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১–১ গোলে সমতা। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও মিলল না গোলের দেখা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে।
৩০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হচ্ছে তিনবারের রানার আপ নেদারল্যান্ডস ও আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো। মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকালে মেক্সিকোর মোনতেরেইর এস্তাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে এই লড়াই হবে।
২৯ জুন ২০২৬