
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক

কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬
৪ ঘণ্টা আগে
রবীন্দ্রনাথকে ভাঙতে পারলে অনেকের শান্তি হয়; যদি ভাঙা নাও যায়, অন্ততপক্ষে আঁচড় কেটে কেউ কেউ তৃপ্তি পান। বাংলা অঞ্চলে সেই আঁচড় কাটার ইতিহাস বেশ পুরনো। এমনকি বিগত দুই বছরেও নানামাত্রিক নখরাঘাত চোখে পড়েছে; প্রশ্ন তোলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, ধর্ম কিংবা অঞ্চলগত পরিচয় প্রসঙ্গে।
০৬ আগস্ট ২০২৬
৫ আগস্ট ২০২৪। সকাল ১১টা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানুষের ভিড়, মিছিল আর স্লোগান। দেশজুড়ে তখন খুনের বন্যা। যা দেখিনি, তা-ই দেখছি—চোখের সামনে। দলে দলে কোত্থেকে আসছে এত মানুষ? ভেতরে ভেতরে একটা অভ্যুত্থান ঘটে গেছে।
০৫ আগস্ট ২০২৬
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কার কবিতায় বাংলাদেশের প্রাণের স্পন্দন আর মর্মের সুর শুনতে পাওয়া যায়? সমস্ত কুণ্ঠা আর দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আমি আল মাহমুদের নাম নেব। এই কবিই আমাকে চমকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বপ্নের ভেতর, ‘নারকোলের ওই লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল/ ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠাণ্ডা গোলগাল।’
১১ জুলাই ২০২৬
তখন আমি কলেজবর্ষীয় তরুণ। থাকি একটা সাদামাটা মফস্বলে। কবিতা লিখি। বই পড়ি। আমাদের সেই গরিব শহরে সাম্প্রতিক বইপুস্তক পাওয়া ছিল বিস্ময়কার ঘটনা। একদিন খুব আচমকাই শহরতুতো সম্পর্কের এক অগ্রজের কাছে পেয়েছিলাম একটি পত্রিকা, নাম ‘লোকায়ত’। সম্পাদক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
০৫ জুলাই ২০২৬
লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন... ফ্ল্যাশব্যাক। আমরা এখন পিছিয়ে যাবো এই সময় থেকে অন্য এক সময়ে। বাংলাদেশের তখন দেড় দশক, যখন ঘরে ঘরে টিভি ছিল না, যখন শাড়ি দিয়ে ঘিরে দেয়া হতো মেয়েদের রিকশা, সোভিয়েত রাশিয়া তখনও ভাঙেনি, হকারেরা তখনও ঘরে ঘরে দিয়ে যায় ‘উদয়ন’, পত্রিকা বলতে সেই ‘ইত্তেফাক’ আর ‘বিচিত্রা’।
০৩ এপ্রিল ২০২৬
সিকিউরিটি চিফ জানালো বিপদের সমূহ শঙ্কা। মানুষের কলোনিতে এক মশা-বিশেষজ্ঞের আবির্ভাব ঘটেছে—ড. বাশার। এই মশকবিজ্ঞানী পরামর্শ দিয়েছেন যেকোনো মূল্যে ইউনাইটেড স্টেটস অব মস্কোইটোকে ‘ডেস্ট্রয়’ করতে হবে।
২১ মার্চ ২০২৬
কোনো কিছু প্রবলভাবে ভালো লাগলে কিংবা আনন্দদায়ক হলে তরুণেরা বলেন ‘জোস্’। তরুণদের ভাষায় ফারসি থেকে বাংলা ভাষায় পরিগৃহীত ‘জোশ’ শব্দটিরও রূপান্তর ঘটেছে। ‘জোশ’ থেকে হয়েছে ‘জোস্’। ফারসিতে ‘জোশ’ শব্দের প্রধান অর্থ তাপ।
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশে শিক্ষকদের ‘জাতীয় শত্রু’ হিসেবে দেখার যে প্রবণতা গড়ে উঠেছে, আখেরে তা শুভ কিছু বয়ে আনতে পারবে না। মাঝখান থেকে ভেঙে পড়বে শিক্ষার সহজাত বিন্যাস।
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকায় এখন জ্বলজ্বলে আলো, মাথার ওপর দিয়ে শাঁই শাঁই করে উড়ে যাচ্ছে মেট্রোরেল, উঁচু উঁচু দালানের শীর্ষমুখী অভিসার ঢেকে ফেলছে সমস্ত আকাশ, মেট্রোপলিটন থেকে আমাদের ঢাকাই মন আজ কসমোপলিটনের দিকে; অন্তহীন সভা ও সমাবেশের এই নগরীতে আজ পালিত হচ্ছে মুসলিম সাহিত্য সমাজের শতবর্ষপূর্তি।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ধর্মগ্রন্থ বিতরণ থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ—গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করছিলেন। বইমেলা ও রক্ত-পরীক্ষার আয়োজন করেছিল কোনো কোনো সংগঠন। টানা কয়েক দিনব্যাপী চলেছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
০৩ জানুয়ারি ২০২৬
বুদ্ধিজীবী কে? কী তাঁর কাজ? প্রশ্নগুলো বেশ পুরনো; তবু এই প্রশ্নের পাল্লায় আমাদের পড়তে হয়। ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটির সমান্তরালে ব্যবহৃত হয় আরও একটি শব্দ ‘আঁতেল’। দৈনন্দিন আলাপ ও অনুষঙ্গে মাঝেমধ্যেই তীব্র ব্যঙ্গের সঙ্গে বলা হয় ‘আঁতলামি’—‘আঁতেল’ থেকে ‘আঁতলামি’। শব্দগুলোর সামাজিক অর্থ নেতিবাচক।
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
দুই মেরুর দুই বাসিন্দা—আহমদ ছফা ও হুমায়ুন আজাদ; দুজনের মধ্যে প্রায়ই ধুন্ধুমার ঝগড়া লেগে যায়। পত্রিকায় সেসব বিবাদকাণ্ডের খবর আমরা পড়ি। নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ একদিন খেয়াল হলো দুজন বিস্ময়করভাবে একই গুরুর ‘শিষ্য’; গুরুর নাম আব্দুর রাজ্জাক। হুমায়ুন আজাদ রাজ্জাকের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
২৮ নভেম্বর ২০২৫
বাঙালির জনপ্রিয় সংস্কৃতির শক্তিমান এক চরিত্রের নাম গোপাল ভাঁড়। তাঁর নাম শোনেন নি এমন লোক পাওয়াই মুশকিল। বাঙালির লোককথায় গোপালের অস্তিত্ব চিরায়ত রূপ লাভ করেছে। লোকে তাকে ভালোবাসে, তাঁর কথা শুনে হাসে, চমকে ওঠে তাঁর বুদ্ধির দীপ্তিতে। গোপালের কাজ, যুক্তি অথবা হাস্যরস শ্রোতা আর পাঠককে মুগ্ধ করে।
২২ নভেম্বর ২০২৫
আজ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর ছিল বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক পরিকল্পনাও। কোন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা তিনি ভেবেছিলেন, তা জানা যাবে এ লেখায়।
১৭ নভেম্বর ২০২৫
উনিশ শতকের শেষতম দশক। গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্কুল শিক্ষক। এ বাড়ি ও বাড়ি গিয়ে পরশপাথরের মতো খুঁজে ফিরছেন ‘অতি সামান্য’জিনিস, পরোনো পুঁথি। মনে হতে পারে, আহা মরি কিছু নয়। উচ্চবর্গের ‘উচ্চ সংস্কৃতি’র কাছে এর বিশেষ কদর থাকার কথাও নয়। কিন্তু কেউ কেউ এর মূল্য বুঝেছিলেন ভবিষ্যতের বিচারে; সেই জনাকয়েক সমঝদ
১১ অক্টোবর ২০২৫.png)