এক যুগ পর ফিরছে ‘বাটেক্সপো’, পোশাকের নতুন বাজারে নজর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৫৯
পোশাক খাতের প্রদর্শনী বাটেক্সপো। ফাইল ছবি
পোশাক খাতের প্রদর্শনী বাটেক্সপো। ফাইল ছবি

এক যুগের বেশি সময় পর দেশে হতে যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো’। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর রাজধানীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনী হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি থাকবেন।

দেশে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ ছাড়া পোশাকের নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে হংকংয়ে রোডশো আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এক যুগের বেশি বিরতির পর পোশাক খাতের ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যাগশিপ প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো-২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। রজতজয়ন্তী সংস্করণের এই আয়োজনে দেশে পোশাক খাতের রূপান্তর, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং হাই-ভ্যালুড, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত শিল্প হিসেবে সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রদর্শনীতে গ্লোবাল অ্যাপারেল এক্সপো, গ্লোবাল অ্যাপারেল সামিট, এআই ও ইনোভেশন হাব, সাসটেইনেবিলিটি ও সার্কুলারিটি এক্সপোজিশন, জিআইজেড প্রেজেন্টস সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ফ্যাশন রানওয়ের মতো আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পোশাক ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি ও ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সাররা অংশ নেবেন। আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর আন্তর্জাতিক পোশাক সোর্সিং প্রতিষ্ঠান পিডিএস।

এদিকে, পোশাকের নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো’ আয়োজন করেছে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতে উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন, লাইভ শোকেস এবং সিন্থেটিক ও টেকনিক্যাল অ্যাপারেলের সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে যেসব ব্র্যান্ড ও ক্রেতা সাধারণত বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করে না তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমানে ১৬৭টি দেশে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। নতুন বাজারের মধ্যে জাপানকে অন্যতম সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির বাজারে অংশীদারত্ব বাড়াতে ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি কমিটি’ কাজ করছে। পাশাপাশি দেশীয় পোশাক প্রস্তুতকারক ও জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরিতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে ‘বিজিএমইএ-জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত এটি উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও জানান, বাজার বাড়াতে সুতি পোশাকের পাশাপাশি পলিয়েস্টার, নাইলন, ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), স্পোর্টসওয়্যার ও উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন টেকসই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার শর্ত মোকাবিলায় ওপেন সাপ্লাই হাব ও জিআইজেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কমপ্লায়েন্স ও স্বচ্ছতা দৃশ্যমান করতে এর আওতায় প্রতিটি কারখানার ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। মূলত আগস্টে রপ্তানি ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি। গত বছরের আগস্টে রপ্তানি তুলনামূলক কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত তিন বছরের তুলনামূলক বিচারে পোশাক ব্যবসা খুব বেশি বাড়েনি। অপরদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। গ্যাস সংকট, বাড়তি খরচ, কাস্টমস-বন্ডের জটিলতা ও কর ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা চাপে রয়েছেন। এজন্য বৈশ্বিক বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিল্পের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নীতিগত প্রয়োজন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত