একনেকে নতুন মেট্রোরেলসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩৬
একনেকে নতুন মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি-৫ সাউদার্ন রুট) সহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন। ছবি: সংগৃহীত
একনেকে নতুন মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি-৫ সাউদার্ন রুট) সহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজধানীতে নতুন একটি মেট্রোরেল লাইনসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

সভায় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল করিডর নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ।

প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে অনুমোদিত চলমান এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

দুই মেট্রো প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১১০ হাজার কোটি টাকা

২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

এমআরটি লাইন-১

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত সংযোগকারী ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ২০১৯ সালে অনুমোদিত ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা হয়েছে।

এ প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সরকারের অর্থায়ন ১৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের তুলনায় ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট-এর ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা হয়েছে।

প্রকল্পের হেমায়েতপুর-আমিনবাজার অংশ হবে উড়ালপথে। আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে ভূগর্ভস্থ পথে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালুর কথা থাকলেও সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৩২ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প

অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; শ্রম ও কর্মসংস্থান; এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অন্য দুটি প্রকল্প হলো—৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প দুটি হলো— ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং ৩৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌসদস্যদের আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প দুটি হলো—৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা চালু, এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), অতিরিক্ত ব্যয় ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মনপুরা দ্বীপ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি ৮১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত