leadT1ad

কাঁচামাল আমদানিতে ৩০% মূল্য সংযোজন শর্ত বহালের দাবি বিটিএমএর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ২১: ১৭
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। স্ট্রিম ছবি

কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। বিটিএমএ জানায়, এই শর্ত তুলে দিলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বাড়বে। স্থানীয় কাঁচামাল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশীয় বস্ত্রখাত অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার, সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার প্রমুখ।

বাজেটে শর্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের (ভ্যালু অ্যাডিশন) বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিটিএমএ বলছে, এই শর্ত তুলে দেওয়া হলে স্থানীয় সুতা ও কাপড় উৎপাদনের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। পাশাপাশি বন্ড–সুবিধার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বস্ত্র শিল্পের সক্ষমতাকে দুর্বল করবে।

সরকারের কাছে বিটিএমএর ৪ দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র খাত রক্ষায় সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরে বিটিএমএ। এগুলো হলো, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা বহাল, বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার কমিয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ ও ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত তা বহাল, কৃত্রিম আঁশের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রধান কাঁচামাল পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ওপর প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার এবং রপ্তানির নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার রোডম্যাপ নেই

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সরকার বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার কথা জানিয়েছে। তবে এই অর্থ কোন খাতে, কাদের এবং কীভাবে দেওয়া হবে, এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই।

তিনি বলেন, যেসব খাতে পণ্যের চাহিদা নেই বা কম, সেখানে প্রণোদনা বা অর্থায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এতে অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শওকত আজিজ রাসেল জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার সুতা আমদানি হয়েছে। অথচ এসব সুতা দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৩৪টি বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত