ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুকের প্রতিবেদন
স্ট্রিম প্রতিবেদক

২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। চালের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এসেছে এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংগ্রহ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমেছে, যা আগের মাস ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মূলত চালের দাম কমায় এই হ্রাস দেখা গেছে। দেশের মানুষের খাদ্যব্যয়ের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চাল। বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কমায় সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও তুলনামূলক বেশি রয়েছে; যা প্রায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মূল্যস্ফীতির প্রায় ৪৩ শতাংশই খাদ্যপণ্য থেকে এসেছে। এর পরেই রয়েছে বাসস্থান ও ইউটিলিটি খাত এবং অন্যান্য সেবা। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিবারের ব্যয় এখনো মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ কমেনি। কারণ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। একই সময়ে নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফলে এই ব্যবধান বাড়ায় অনেক পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা সংশোধিত মাসিক লক্ষ্যমাত্রা ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য করখাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে।
উন্নয়ন ব্যয়েও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট বরাদ্দের মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রকল্প প্রস্তুতিতে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘাটতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি। যদিও কিছু চাপ কমার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, তবু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির পথে রাখতে এখনও শক্তিশালী নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। চালের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এসেছে এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংগ্রহ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমেছে, যা আগের মাস ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মূলত চালের দাম কমায় এই হ্রাস দেখা গেছে। দেশের মানুষের খাদ্যব্যয়ের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চাল। বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কমায় সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও তুলনামূলক বেশি রয়েছে; যা প্রায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মূল্যস্ফীতির প্রায় ৪৩ শতাংশই খাদ্যপণ্য থেকে এসেছে। এর পরেই রয়েছে বাসস্থান ও ইউটিলিটি খাত এবং অন্যান্য সেবা। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিবারের ব্যয় এখনো মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ কমেনি। কারণ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। একই সময়ে নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফলে এই ব্যবধান বাড়ায় অনেক পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা সংশোধিত মাসিক লক্ষ্যমাত্রা ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য করখাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে।
উন্নয়ন ব্যয়েও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট বরাদ্দের মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রকল্প প্রস্তুতিতে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘাটতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি। যদিও কিছু চাপ কমার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, তবু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির পথে রাখতে এখনও শক্তিশালী নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আমানতের টাকা ফেরত’ ও ‘হেয়ার কাট বা আমানত থেকে টাকা কাটার সিদ্ধান্ত’ বাতিলসহ ৩ দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা।
২ ঘণ্টা আগে
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলে দাম বেড়েছে ২.৬৫ ডলার বা ৩.২৬ শতাংশ। এই তেলের ব্যারেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৩.৯৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ২.৭৬ ডলার বা ৩.৭০ শতাংশ বেড়ে ৭৭.৪২ ডলারে উঠেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো নতুন সরকারকেও অব্যাহত রাখতে হবে। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা না গেলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে– এমন মত দিয়েছে সিপিডি।
১ দিন আগে
টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার কল্যাণরাষ্ট্রভিত্তিক ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের দিকে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
১ দিন আগে