চাঙ্গা বিশ্ববাজারেও পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৮
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়লেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কঠিন সময় যাচ্ছে বাংলাদেশের। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভিয়েতনামের দ্রুত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

পোশাকশিল্প নিয়ে ওয়াজির অ্যাডভাইজরসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রিটেইল খাতে তৈরি পোশাক বিক্রি বেশ চাঙ্গা রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বেড়েছে ৪ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৩ শতাংশ। অথচ এ সময়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২ শতাংশ কমেছে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও এর হার দেশটির মোট আমদানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশ কম। আলোচ্য মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে মোট ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক গিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। তবে এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানি বাজার হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আবার জোটটির দিক থেকেও বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ আমদানি-অংশীদার। ২০১২ সাল থেকে ইইউর বাজারে চীনের পর সবচেয়ে বেশি পোশাক সরবরাহকারী বাংলাদেশ। অথচ জুলাইয়ে সেই ইইউর বাজারেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বছরওয়ারি ১ শতাংশ কমেছে।

ওয়াজির অ্যাডভাইজরসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৩২০ কোটি ও ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। পরিমাণে বাংলাদেশের চেয়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪০ কোটি ডলার কম থাকলেও প্রবৃদ্ধির গতিতে তারা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

আর শুধু জুলাইয়ের হিসাবে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে ছাড়িয়েই গেছে। আলোচ্য মাসে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি ছিল ৪০০ কোটি ডলার, বাংলাদেশের ৩৯০ কোটি ডলার। বছরওয়ারি হিসাবে ভিয়েতনামের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বাড়লেও বাংলাদেশের কমেছে ২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সামনে এখন বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো—আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের উত্থানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান কতটা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দেশের পোশাক খাতের উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ভিয়েতনামের রপ্তানিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউর বাজারে পোশাকের বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর দিকে নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতা এখন শুধু পণ্যের মান ও দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দ্রুত সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদেরও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটে আমরা সুযোগ থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী ক্রয়াদেশ নিতে পারছি না। আমরা এখন প্রায় ৫০ শতাংশ কম ক্রয়াদেশ নিচ্ছি। কারণ উৎপাদন করতে না পারলে আমরা ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারব না। এতে বাংলাদেশের সুনাম আরও ক্ষুণ্ন হবে।

অবশ্য আগস্টের রপ্তানিতে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) বাংলাদেশ মোট ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার। আট মাসে পোশাক রপ্তানিতে যে ২০ কোটি ডলারের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত আগস্টের ইতিবাচক পরিসংখ্যানের সুবাদে। গত মাসে দেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত