‘নিট ফেব্রিক’ আমদানির বিধান বাতিল চায় বিজিএমইএ-বিকেএমইএ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৫৭
বিজিএমইএ-বিকেএমইএর লোগো। ছবি: সংগৃহীত
বিজিএমইএ-বিকেএমইএর লোগো। ছবি: সংগৃহীত

নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক বা কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সংগঠন দুটি বলেছে, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর অনুচ্ছেদ ২৫-এর উপ-অনুচ্ছেদ ১২-তে ‘নিট ফেব্রিক আমদানি যোগ্য হবে না’—এমন বিধান রাখা হয়েছে। রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় বিধানটি স্থগিত বা বাতিলের অনুরোধ করেছে তারা।

গাত ১ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মান, ধরন, রং ও নকশার কাপড় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। ফলে বিদেশি উৎস থেকে ফেব্রিক আমদানি করতে হয়। এ সুযোগ সীমিত করা হলে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হবে এবং স্বাভাবিক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নিট কাপড় ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ বহাল রাখা জরুরি। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, বিকেএমইএ জানিয়েছে, নতুন নীতির বিধান কার্যকর হলে ইতোমধ্যে আমদানি করা নিট কাপড় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংগঠনটির দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন ধরনের আমদানিনির্ভর নিট কাপড় পৌঁছেছে এবং অনেক রপ্তানিকারক ইতোমধ্যে এসব ফেব্রিকের আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। নতুন বিধানের কারণে এসব পণ্য ছাড় করানো এবং সংশ্লিষ্ট পোশাক রপ্তানিতে সমস্যা হতে পারে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও বিধানটি স্থগিত বা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের নির্দিষ্ট চাহিদা, মান ও নকশা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ফেব্রিক আমদানি করা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে গ্যাস-সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশের অনেক রপ্তানিমুখী কারখানা উৎপাদনে সমস্যার মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় কাঁচামাল আমদানিতে নতুন করে সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

দুই সংগঠনই বলেছে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ থাকা জরুরি। বিজিএমইএ বলেছে, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিট কাপড় আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হোক।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত