এক দশকে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ২৭
ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

আগামী এক দশকের মধ্যে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা।’

চুক্তির অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে আইএসডিবি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করা। তিনি বলেন, ‘পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে। আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’

সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। এছাড়া হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নে ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। ফলে এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

উন্নয়ন অর্থায়নে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশ আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ড. আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে অর্থায়ন সুবিধা নেবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে তহবিলটি সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা বাড়াবে।

সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত