চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়ায় প্রশাসক নিয়োগ

আমানতকারীদের দায় পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২১
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন সংকটে থাকা চার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে ১২ কর্মকর্তাকে প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৭ হাজার আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অফিস আদেশে চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। চার প্রতিষ্ঠান হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম ওরফে এস আলম। বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠান পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

২৭ হাজার আমানতকারীর টাকা ফেরতের উদ্যোগ

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল পাঁচটি সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজারের মতো আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে প্রশাসক নিয়োগ করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সম্মতিও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও পিপলস লিজিং।

এর মধ্যে প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানো হলেও, পঞ্চম প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আদালতের আদেশ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন প্রক্রিয়া এগোয়নি।

খেলাপি ঋণ ৯৩ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ

গত ডিসেম্বর মাস শেষে এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৩ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশের মধ্যে। এফএএস ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় পুরোটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এখন প্রশাসকেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায় নিরূপণ করবেন। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

কোন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কে পেলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস আদেশ অনুযায়ী, আভিভা ফাইন্যান্সে অস্থায়ী প্রশাসক হয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. আলাউদ্দীন হোসেন। তিনি বর্তমানে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১১-এ কর্মরত। সহযোগী প্রশাসক হয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম গোলাম বহুলুল ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।

এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসক করা হয়েছে পরিচালক আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে। তিনি ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-২-এ কর্মরত। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক রোকসানা আক্তার ও অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বসির।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক মো. সাদেকুর রহমান। তিনি ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১০-এ কর্মরত। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক সাদরিল আহমেদ ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল-আমিন।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে প্রশাসক করা হয়েছে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে কর্মরত। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও অতিরিক্ত পরিচালক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর মধ্য দিয়ে সমস্যাগ্রস্ত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত