জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান খতিয়ে দেখতে হচ্ছে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫১
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের ‘অযৌক্তিক ব্যবধানের’ কারণ অনুসন্ধানে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের ব্যবধান অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজনে অন্যান্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।’

বাংলাদেশ এখনও অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।’

বিদেশি ফল আমদানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন—যেমন আপেল, আঙ্গুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।’ তবে অত্যধিক দামী বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের দায়িত্ব হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যাতে বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা।’ একইসঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীরা যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে; যা গত কয়েক দশকের তুলনায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ বলে মনে করেন মন্ত্রী। এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত জানতে তিনি খাতুনগঞ্জে এসেছেন বলে জানান।

মো. আব্দুস সালাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় করেন।

সম্পর্কিত