প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুধবার বেইজিং সফর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ মাস থেকে স্থগিত থাকা এ বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকটি বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতা আনার জন্য এ বৈঠক হচ্ছে।
দুই দিনের আলোচনার এই বৈঠকে যে বিষয়গুলো মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তা হলো উভয় দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ, প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা ও সীমাবদ্ধতা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক ইস্যু।
ইরান যুদ্ধ
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং সংঘাত দ্রুত শেষ করার চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে শি জিনপিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন।
চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে কূটনৈতিক সমর্থনও দিয়ে থাকে। ইরানকে তেল দেওয়া কিংবা স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২১ এপ্রিল ট্রাম্প বলেন, চীন সম্ভবত ইরানকে অস্ত্র বা যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহ করেছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি জাহাজ আটক করেছে, যেখানে চীন থেকে ‘উপহার’ পাঠানো হচ্ছিল। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘সুসম্পর্ক’ রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে চীনের আর্থিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য অস্ত্র রপ্তানির বিষয়টি বৈঠক আলোচনায় আনতে হবে।
চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর ইরান থেকে তেল কেনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা অমান্য করার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। এ জন্য ২০২১ সালে চালু করা একটি বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে চীন, যা ‘অবৈধ’ আইন থেকে নিজেদের কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলছে, চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে, চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে মনোযোগ দিতে।
শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা
হোয়াইট হাউসে আসার পর ট্রাম্প যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তা নিয়ে গত অক্টোবরে সাময়িক সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক এখনো বহাল রেখেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ট্রাম্প উভয়ই এই সাময়িক সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। এই সমঝোতার কারণে দুই দেশের মধ্যে কিছু শুল্ক কমানো হয়েছিল এবং চীনের বিরল খনিজসহ (রেয়ার আর্থ) কয়েকটি পণ্যের রপ্তানির ওপর প্রস্তাবিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে শুল্ক ইস্যু এখনো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়। চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের সমালোচনা করে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বাণিজ্যনীতি নিয়ে নতুন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এসব তদন্তের ভিত্তিতে নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শুল্ক বিষয়ক সিদ্ধান্ত গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
এদিকে অবৈধ ফেন্টানিল বাণিজ্য দমনের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে এক ধরনের সমন্বয় দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক সংকট তৈরিতে ভূমিকা রাখা সিনথেটিক ওপিওয়েড ফেন্টানিল উৎপাদন বন্ধে বেইজিংকে চাপ দিতে ট্রাম্প গত বছর চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়, এরপর কিছুটা কমানো হলেও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছে।
ট্রাম্পের চীন সফরের দুই দিন আগে বেইজিং জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা একটি আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচার চক্র ভেঙে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফেন্টানিল ইস্যুতে দুই দেশের সহযোগিতায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাণিজ্য ও ক্রয় প্রতিশ্রুতি
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে। ওয়াশিংটন এখন চীনের কাছ থেকেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি চাইছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সফরে কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক চুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতি আসতে পারে। এর মধ্যে মার্কিন বিমান নির্মাতা বোয়িং এর কাছ থেকে চীনের বড় ধরনের বিমান কেনার চুক্তিও থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, কৃষি, মহাকাশ ও জ্বালানি খাতেও সমঝোতার আলোচনা হতে পারে।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্কট কেনেডি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে মূলত পাঁচটি ‘বি’ নিয়ে যাচ্ছে বোয়িং, বিনস (শস্য), বিফ, বোর্ড অব ট্রেড এবং বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট।
মার্চ মাসে প্যারিসে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ‘বোর্ডস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ চালুর প্রস্তাব দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যকে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা। এর মধ্যে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানি, যেমন সয়াবিন ও গরুর মাংস, বৃদ্ধি করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাণিজ্য যুদ্ধের সময় চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন আমদানিকারক দেশ, গত বছর কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৃষিপণ্য কেনা বন্ধ করে দেয়। এতে মার্কিন কৃষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। তবে অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে সাময়িক সমঝোতা হওয়ার পর আবার যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি শুরু হয়।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা এখনো তুলনামূলকভাবে কম অগ্রসর হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনের আগে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ কর্মসূচির কোনো পরিকল্পনা নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। উভয় দেশই একে অন্যের প্রযুক্তিতে প্রবেশ সীমিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে এআই ইস্যু উত্থাপন করা হবে এবং এই উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন যোগাযোগ চ্যানেল চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যাধুনিক মার্কিন এআই প্ল্যাটফর্মের আউটপুট ব্যবহার করে খুব কম খরচে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি তৈরি করছে।
এপ্রিল মাসে ওপেনএআই, এন্ডথ্রোপিক এবং গুগল এর মতো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের পর হোয়াইট হাউস ‘অ্যাডভারসারিয়াল ডিস্টিলেশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করে।
এ ছাড়া দুই দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে। সম্প্রতি চীন মেটা প্ল্যাটফর্মকে তাদের ২০০ কোটি ডলারে এআই স্টার্টআপ ম্যেনু গ্রহণ বাতিল করতে বলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিখাতে বিদেশি প্রবেশ সীমিত করার উদ্বেগকেই তুলে ধরছে।
চীনা কোম্পানিগুলো যাতে এনভিডিয়া এর মতো আধুনিক প্রতিষ্ঠানের চিপ সহজে না পায়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে চীন। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা গ্রাহকদের কাছে এনভিডিয়ার তুলনামূলক কম সক্ষম এআই অ্যাক্সিলারেটর চিপ এইচ২০০ রপ্তানির অনুমতি দিতে সম্মত হন। চীনে বিক্রি হওয়া প্রতিটি এইচ২০০ চিপের বিপরীতে এনভিডিয়ার কাছ থেকে ২৫ শতাংশ ফি পাবে মার্কিন সরকার।
তাইওয়ান ইস্যু
তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও সম্ভাব্য অস্থিতিশীল ইস্যুগুলোর একটি। চীন দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র স্বশাসিত এই গণতান্ত্রিক অঞ্চলটিকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং তাদের সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক হলেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে।’ এমন ঘোষণা চীনের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে তাইওয়ান নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ এপ্রিলের শেষ দিকে ব্লুমবার্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর আলোচনায় তাইওয়ান ‘দরকষাকষির বিষয়’ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান মার্কিন নীতিতে ওয়াশিংটন বেইজিংকেই চীনের একমাত্র সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তাইওয়ানের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায় না। শীর্ষ বৈঠকের কয়েক দিন আগে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাইপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে’ যদিও ‘প্রেসিডেন্ট শি চান না আমরা এটি করি।’
ক্রিটিক্যাল মিনারেলস
যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এখন অন্যতম বড় সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, বিশেষ করে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ)। প্রতিরক্ষা শিল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে এসব খনিজের ব্যাপক গুরুত্ব থাকায় এগুলো বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের আরোপ করা কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন রেয়ার আর্থসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে আরও ভালো প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে।
গত অক্টোবরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সমঝোতার পর এসব পণ্যের বাণিজ্য কিছুটা বেড়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগের তুলনায় সরবরাহ এখনও কম।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস গড়ে তোলার চেষ্টা চালালেও রেয়ার আর্থ খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্যে প্রভাব ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের এখনও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা যেন চীনা সরবরাহকারীদের বাইরে সরে না যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত না হয় সে লক্ষ্যেও নতুন কিছু নীতিমালা জারি করেছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন সহজে রেয়ার আর্থের ওপর নিজেদের কৌশলগত প্রভাব ছাড়তে রাজি নয়। তবে সাধারণ লাইসেন্সের মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। যদিও এসব পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অভিযোগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনও ধীরগতিতেই চলছে।
(লেখাটি ব্লুমবার্গ থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)